মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০২:২১ অপরাহ্ন | ২৭শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১১ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

জিবুতির বিস্ময়কর আসাল হ্রদ: যেখানে লবণাক্ততা সমুদ্রের চেয়েও ১০ গুণ বেশি

  • হালনাগাদ সময় : ০৪:২৮:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

আফ্রিকা মহাদেশের জিবুতি প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত আসাল হ্রদ পৃথিবীর অন্যতম এক বিস্ময়কর প্রাকৃতিক স্থান। এটি কেবল একটি হ্রদ নয়, বরং সৃষ্টিকর্তার অসামান্য ক্ষমতার এক প্রতীক, যা তার চরম লবণাক্ততা এবং ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য সুপরিচিত। সাধারণত হ্রদের পানি সুপেয় হলেও আসাল হ্রদের পানি এতটাই লবণাক্ত যে এখানে কোনো জলজ উদ্ভিদ বা প্রাণী বাস করে না।

জিবুতি প্রজাতন্ত্রের রাজধানী জিবুতি শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই হ্রদ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫৫ মিটার নিচে অবস্থিত, যা আফ্রিকার সর্বনিম্ন বিন্দু। এর অবস্থান বাব এল মান্দেব প্রণালির তীরে, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে। জিবুতি একসময় ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল এবং ১৯৭৭ সালের ২৭ জুন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ১০ থেকে ৪০ লাখ বছর আগে পৃথিবীর আগ্নেয় কর্মকাণ্ড এবং ভূপৃষ্ঠের উত্থান-পতনের ফলে হ্রদটি বর্তমান রূপ লাভ করে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, একসময় এটি সমুদ্রপৃষ্ঠে অবস্থিত ছিল। হ্রদের আশেপাশের এলাকায় আজও ভূমির চ্যুতি ও আগ্নেয় কর্মকাণ্ড বিদ্যমান, যার সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছিল ১৯৭৮ সালে।

আসাল হ্রদের প্রতি লিটার পানিতে প্রায় ৩৫০ গ্রামের বেশি লবণের উপস্থিতি রয়েছে, যা সমুদ্রের পানির চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি। এই চরম লবণাক্ততার কারণে হ্রদের আশেপাশে কোনো বড় লোকালয় বা অর্থনৈতিক কার্যক্রম গড়ে ওঠেনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জিবুতিতে বিদ্যুৎশক্তি সরবরাহের উদ্দেশ্যে হ্রদের আশপাশে কিছু ভূ-উত্তাপ সংগ্রহকারী কূপ খনন করা হয়েছে। হ্রদটি আগ্নেয়গিরি ও কালো লাভা ক্ষেত্র দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং এর চারপাশের উজ্জ্বল সাদা লবণের আস্তরণ এক অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য তৈরি করে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনা ইস্যুতেই আটকে আছে ভারত সফর, প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাত্রা হবে মাইলফলক: তথ্য উপদেষ্টা

27 October 2026

ব্যালন ডি’অর ২০২৬: কেইনের হাতে প্রথম ট্রফি, হ্যাটট্রিক জয় অ্যালেক্সিয়ার

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

জিবুতির বিস্ময়কর আসাল হ্রদ: যেখানে লবণাক্ততা সমুদ্রের চেয়েও ১০ গুণ বেশি

হালনাগাদ সময় : ০৪:২৮:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আফ্রিকা মহাদেশের জিবুতি প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত আসাল হ্রদ পৃথিবীর অন্যতম এক বিস্ময়কর প্রাকৃতিক স্থান। এটি কেবল একটি হ্রদ নয়, বরং সৃষ্টিকর্তার অসামান্য ক্ষমতার এক প্রতীক, যা তার চরম লবণাক্ততা এবং ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য সুপরিচিত। সাধারণত হ্রদের পানি সুপেয় হলেও আসাল হ্রদের পানি এতটাই লবণাক্ত যে এখানে কোনো জলজ উদ্ভিদ বা প্রাণী বাস করে না।

জিবুতি প্রজাতন্ত্রের রাজধানী জিবুতি শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই হ্রদ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫৫ মিটার নিচে অবস্থিত, যা আফ্রিকার সর্বনিম্ন বিন্দু। এর অবস্থান বাব এল মান্দেব প্রণালির তীরে, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে। জিবুতি একসময় ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল এবং ১৯৭৭ সালের ২৭ জুন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ১০ থেকে ৪০ লাখ বছর আগে পৃথিবীর আগ্নেয় কর্মকাণ্ড এবং ভূপৃষ্ঠের উত্থান-পতনের ফলে হ্রদটি বর্তমান রূপ লাভ করে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, একসময় এটি সমুদ্রপৃষ্ঠে অবস্থিত ছিল। হ্রদের আশেপাশের এলাকায় আজও ভূমির চ্যুতি ও আগ্নেয় কর্মকাণ্ড বিদ্যমান, যার সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছিল ১৯৭৮ সালে।

আসাল হ্রদের প্রতি লিটার পানিতে প্রায় ৩৫০ গ্রামের বেশি লবণের উপস্থিতি রয়েছে, যা সমুদ্রের পানির চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি। এই চরম লবণাক্ততার কারণে হ্রদের আশেপাশে কোনো বড় লোকালয় বা অর্থনৈতিক কার্যক্রম গড়ে ওঠেনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জিবুতিতে বিদ্যুৎশক্তি সরবরাহের উদ্দেশ্যে হ্রদের আশপাশে কিছু ভূ-উত্তাপ সংগ্রহকারী কূপ খনন করা হয়েছে। হ্রদটি আগ্নেয়গিরি ও কালো লাভা ক্ষেত্র দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং এর চারপাশের উজ্জ্বল সাদা লবণের আস্তরণ এক অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য তৈরি করে।

Share this news as a Photo Card