চাঁদপুর জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের জেলা সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদসহ দলটির ৬২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া পৃথক অভিযানে মাদক মামলার ১২ জন আসামি এবং ১৯ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিরা নূর।
তিনি জানান, চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীরামদী এলাকার নিজ বাসা থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ। জেলার অন্যান্য স্থানে পরিচালিত অভিযানে আরও গ্রেপ্তার হন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান কাউসার, জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক হাসিবুল হাসান মুন্না, পৌর ছাত্রলীগের সম্পাদক আমজাদ হোসেন রনি, বাগাদী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার হোসেন খান এবং যুবলীগ নেতা আরিফ হোসেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শুধুমাত্র চাঁদপুর সদর মডেল থানায় ৩১ জন, মতলব উত্তরে ১২ জন, হাজীগঞ্জে ৭ জন, ফরিদগঞ্জে ৬ জন এবং শাহরাস্তিতে ৬ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পরিচালিত পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ১২ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে মোট ৭৪০ গ্রাম গাঁজা ও ১৬৬ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে মোট ১৯ জন কিশোরকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদগঞ্জ থানা এলাকা থেকে ৭ জন, সদর মডেল থানা থেকে ৪ জন, হাইমচর থেকে ৪ জন এবং হাজীগঞ্জ থেকে ৪ জন আটক হয়। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে আটককৃত কিশোরদের মুচলেকা নিয়ে নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ অগ্নিসংযোগের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় চাঁদপুর শহরে জামায়াতে ইসলামী, জেলা যুবদল, ছাত্রদল এবং এনসিপি পৃথকভাবে প্রতিবাদ মিছিল বের করে। সার্বিক বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
























