মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১১:২৯ পূর্বাহ্ন | ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

গুলিবিদ্ধ বিএনপি কর্মীর দেহে ১০ আঘাত, ছয়জনের ‘কিলিং মিশনে’ হত্যা

  • হালনাগাদ সময় : ১০:৫৭:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ৪০ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে নিহত বিএনপি কর্মী আবদুল হাকিমের (৫২) শরীরে মোট দশটি আঘাতের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া গেছে। পুলিশের তৈরি করা সুরতহাল রিপোর্টে এই আঘাতগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও সবকটি আঘাত বুলেটের কি না, সে ব্যাপারে পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছিল মোট ছয়জন দুষ্কৃতকারী, যারা তিনটি মোটরসাইকেলে (প্রতিটিতে দুজন করে) এসেছিল। তাদের সবার মুখ ছিল মুখোশে ঢাকা।

এই হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাউজান উপজেলাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের প্রতিবাদে স্থানীয়রা চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক এবং চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। এ ছাড়া মিছিল সহকারে প্রতিবাদ সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা এই হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ তালুকদার জানান, আবদুল হাকিম বিএনপির কোনো পদধারী নেতা ছিলেন না, তবে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিতেন। তিনি রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে রাজনীতি করতেন। ইউসুফ তালুকদার এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করে আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর রাউজানে প্রায় ১৩-১৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে, যার বেশিরভাগেরই খুনিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

রাউজান থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ আহম্মদ আবদুল হাকিমকে একজন বিএনপি কর্মী এবং ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রশাসনকে জোর দাবি জানিয়েছেন, যেন এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হয়।

বিএনপি কর্মী আবদুল হাকিমকে হত্যার একটি ভিডিও ফুটেজ এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মদুনাঘাট এলাকায় মুখোশধারী কয়েকজন যুবক আবদুল হাকিমের প্রাইভেটকার থামিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে দ্রুত মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। একাধিক গুলি গাড়ির গ্লাস ভেদ করে তাঁর শরীরে লাগে। এ সময় গাড়িতে তাঁর সঙ্গে থাকা আরও একজন ব্যক্তিও গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার আবদুল হাকিমকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, নিহতের লাশ সুরতহাল শেষ করার পর ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা চলছে।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার দক্ষিণ মাদার্শা ইউনিয়নের মদুনাঘাট বাজারের ওয়াসার পানি শোধনাগার প্রকল্পের প্রধান ফটকের সামনে মুখোশধারী যুবকরা এই হামলা চালায়। আবদুল হাকিম তখন রাউজান বাগোয়ান ইউনিয়নে তাঁর নিজ গ্রামের বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম শহরের বাসায় যাচ্ছিলেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে নগরের বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তার তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তার মধ্যেই আশাশুনিতে খোলপেটুয়া নদীর বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন

28 October 2026

টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠক: ঢাকায় কার্যালয় খোলার আহ্বান

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

গুলিবিদ্ধ বিএনপি কর্মীর দেহে ১০ আঘাত, ছয়জনের ‘কিলিং মিশনে’ হত্যা

হালনাগাদ সময় : ১০:৫৭:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে নিহত বিএনপি কর্মী আবদুল হাকিমের (৫২) শরীরে মোট দশটি আঘাতের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া গেছে। পুলিশের তৈরি করা সুরতহাল রিপোর্টে এই আঘাতগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও সবকটি আঘাত বুলেটের কি না, সে ব্যাপারে পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছিল মোট ছয়জন দুষ্কৃতকারী, যারা তিনটি মোটরসাইকেলে (প্রতিটিতে দুজন করে) এসেছিল। তাদের সবার মুখ ছিল মুখোশে ঢাকা।

এই হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাউজান উপজেলাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের প্রতিবাদে স্থানীয়রা চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক এবং চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। এ ছাড়া মিছিল সহকারে প্রতিবাদ সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা এই হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ তালুকদার জানান, আবদুল হাকিম বিএনপির কোনো পদধারী নেতা ছিলেন না, তবে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিতেন। তিনি রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে রাজনীতি করতেন। ইউসুফ তালুকদার এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করে আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর রাউজানে প্রায় ১৩-১৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে, যার বেশিরভাগেরই খুনিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

রাউজান থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ আহম্মদ আবদুল হাকিমকে একজন বিএনপি কর্মী এবং ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রশাসনকে জোর দাবি জানিয়েছেন, যেন এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হয়।

বিএনপি কর্মী আবদুল হাকিমকে হত্যার একটি ভিডিও ফুটেজ এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মদুনাঘাট এলাকায় মুখোশধারী কয়েকজন যুবক আবদুল হাকিমের প্রাইভেটকার থামিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে দ্রুত মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। একাধিক গুলি গাড়ির গ্লাস ভেদ করে তাঁর শরীরে লাগে। এ সময় গাড়িতে তাঁর সঙ্গে থাকা আরও একজন ব্যক্তিও গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার আবদুল হাকিমকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, নিহতের লাশ সুরতহাল শেষ করার পর ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা চলছে।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার দক্ষিণ মাদার্শা ইউনিয়নের মদুনাঘাট বাজারের ওয়াসার পানি শোধনাগার প্রকল্পের প্রধান ফটকের সামনে মুখোশধারী যুবকরা এই হামলা চালায়। আবদুল হাকিম তখন রাউজান বাগোয়ান ইউনিয়নে তাঁর নিজ গ্রামের বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম শহরের বাসায় যাচ্ছিলেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে নগরের বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তার তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

Share this news as a Photo Card