মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১০:১২ পূর্বাহ্ন | ৬ই নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার, ২১শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

একাদশ নির্বাচন নিয়ে আক্ষেপ তাসকিনের

  • হালনাগাদ সময় : ০২:১৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সকালের আর্দ্রতা, নতুন বলের মুভমেন্ট আর পেসারদের আগুনে বোলিং—সবকিছুই বাংলাদেশের পক্ষে ছিল। মাত্র ২৭ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন উইকেট তুলে নিয়ে দারুণ কিছুর সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। কিন্তু সেই সম্ভাবনা শেষ পর্যন্ত বড় ধাক্কায় রূপ নেয়নি। বরং আমির জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে আজ প্রথম দিন শেষে ২৩৫ রান তুলে স্বস্তিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এমন দিনে বাংলাদেশের একাদশে একজন পেসার কম থাকা নিয়ে নিজের আক্ষেপ লুকাননি তাসকিন আহমেদ।

সিলেট টেস্টের প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের প্রাপ্তি চারটি উইকেট। মজার বিষয়, চারটি উইকেটই এসেছে পেসারদের হাত ধরে। তাসকিন ও হাসান দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। অথচ একাদশে জায়গা পেয়েছেন মাত্র দুজন স্বীকৃত পেসার। তাদের সঙ্গে তিন স্পিনার—তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসান। দিনের খেলা শেষে এই দল নির্বাচন নিয়েই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে পেস আক্রমণের সীমাবদ্ধতা।

সংবাদ সম্মেলনে তাসকিনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, একাদশে আরেকজন পেসার থাকলে কি ভালো হতো? ৩১ বছর বয়সী এই পেসার অকপটেই স্বীকার করেছেন, এমনটা তারও মনে হয়েছে। তাসকিন বলেন, ‘হ্যাঁ, এক পর্যায়ে মনে হয়েছে যে আরেক পেসার থাকলে হয়তো ভালো হতো। কারণ, সকালের এক ঘণ্টার আর্দ্রতা, যেটা আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছিলাম। তখন মনে হচ্ছিল যে আরেক পেসার থাকলে হয়তো আরেকটু লম্বা সময় বোলিং করা যেত। তখন যেভাবে মুভ করছিল, আরও ২-১টা উইকেট যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।’

তাসকিনের কথায় স্পষ্ট, সকালের অনুকূল পরিবেশে আরও একজন পেসার থাকলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আরও বেশি চাপে রাখা সম্ভব হতো। কারণ, শুরুতে বল হাতে বাংলাদেশের দুই পেসার যেভাবে আধিপত্য দেখিয়েছেন, তাতে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ আরও দ্রুত ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু তিন উইকেট হারানোর পর কেভিন উইকহ্যাম ও জাঙ্গুর ১৩১ রানের জুটি ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয়।

অবশ্য দল নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলতে চাননি তাসকিন। বরং টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেছেন, দলের সর্বোচ্চ স্বার্থ বিবেচনা করেই একাদশ সাজানো হয়েছে, ‘প্রথমত, দলের বাছাইটা পুরোপুরি ম্যানেজমেন্টের অংশ। তারা আসলে উইকেট এবং কন্ডিশন বিবেচনা করে যেটা চিন্তা করেছে, ওটা আসলে দলের সেরা অবস্থা চিন্তা করেই করা হয়েছে। কারণ, ম্যাচ মাত্র শুরু হলো। আজ প্রথম দিন। উইকেট যে ধরনের, তাতে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে ম্যাচের ফল নির্ধারণ হওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো দিন আসবে।’

তবে বাংলাদেশের পেসারদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় তাসকিনের আক্ষেপকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে মে মাসের টেস্ট সিরিজে তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে খেলেছিল বাংলাদেশ। নাহিদ রানা ও শরীফুল ইসলামের গতির সঙ্গে তাইজুল ও মিরাজের স্পিনও কার্যকর হয়েছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও পেসারদের দাপট দেখা গেছে। ডারউইনে হাসান মাহমুদ ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন, ম্যাকাইতে এক ইনিংসেই সাত উইকেট শিকার করেন শরীফুল ইসলাম।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আজকের শিক্ষার্থীরাই দেশ গড়ার মূল কারিগর: ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

05 November 2026

ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া ও সরকারের সমন্বয়েই বাস্তব সমস্যার সমাধান সম্ভব: শিক্ষা উপদেষ্টা

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

একাদশ নির্বাচন নিয়ে আক্ষেপ তাসকিনের

হালনাগাদ সময় : ০২:১৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

সকালের আর্দ্রতা, নতুন বলের মুভমেন্ট আর পেসারদের আগুনে বোলিং—সবকিছুই বাংলাদেশের পক্ষে ছিল। মাত্র ২৭ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন উইকেট তুলে নিয়ে দারুণ কিছুর সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। কিন্তু সেই সম্ভাবনা শেষ পর্যন্ত বড় ধাক্কায় রূপ নেয়নি। বরং আমির জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে আজ প্রথম দিন শেষে ২৩৫ রান তুলে স্বস্তিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এমন দিনে বাংলাদেশের একাদশে একজন পেসার কম থাকা নিয়ে নিজের আক্ষেপ লুকাননি তাসকিন আহমেদ।

সিলেট টেস্টের প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের প্রাপ্তি চারটি উইকেট। মজার বিষয়, চারটি উইকেটই এসেছে পেসারদের হাত ধরে। তাসকিন ও হাসান দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। অথচ একাদশে জায়গা পেয়েছেন মাত্র দুজন স্বীকৃত পেসার। তাদের সঙ্গে তিন স্পিনার—তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসান। দিনের খেলা শেষে এই দল নির্বাচন নিয়েই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে পেস আক্রমণের সীমাবদ্ধতা।

সংবাদ সম্মেলনে তাসকিনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, একাদশে আরেকজন পেসার থাকলে কি ভালো হতো? ৩১ বছর বয়সী এই পেসার অকপটেই স্বীকার করেছেন, এমনটা তারও মনে হয়েছে। তাসকিন বলেন, ‘হ্যাঁ, এক পর্যায়ে মনে হয়েছে যে আরেক পেসার থাকলে হয়তো ভালো হতো। কারণ, সকালের এক ঘণ্টার আর্দ্রতা, যেটা আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছিলাম। তখন মনে হচ্ছিল যে আরেক পেসার থাকলে হয়তো আরেকটু লম্বা সময় বোলিং করা যেত। তখন যেভাবে মুভ করছিল, আরও ২-১টা উইকেট যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।’

তাসকিনের কথায় স্পষ্ট, সকালের অনুকূল পরিবেশে আরও একজন পেসার থাকলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আরও বেশি চাপে রাখা সম্ভব হতো। কারণ, শুরুতে বল হাতে বাংলাদেশের দুই পেসার যেভাবে আধিপত্য দেখিয়েছেন, তাতে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ আরও দ্রুত ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু তিন উইকেট হারানোর পর কেভিন উইকহ্যাম ও জাঙ্গুর ১৩১ রানের জুটি ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয়।

অবশ্য দল নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলতে চাননি তাসকিন। বরং টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেছেন, দলের সর্বোচ্চ স্বার্থ বিবেচনা করেই একাদশ সাজানো হয়েছে, ‘প্রথমত, দলের বাছাইটা পুরোপুরি ম্যানেজমেন্টের অংশ। তারা আসলে উইকেট এবং কন্ডিশন বিবেচনা করে যেটা চিন্তা করেছে, ওটা আসলে দলের সেরা অবস্থা চিন্তা করেই করা হয়েছে। কারণ, ম্যাচ মাত্র শুরু হলো। আজ প্রথম দিন। উইকেট যে ধরনের, তাতে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে ম্যাচের ফল নির্ধারণ হওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো দিন আসবে।’

তবে বাংলাদেশের পেসারদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় তাসকিনের আক্ষেপকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে মে মাসের টেস্ট সিরিজে তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে খেলেছিল বাংলাদেশ। নাহিদ রানা ও শরীফুল ইসলামের গতির সঙ্গে তাইজুল ও মিরাজের স্পিনও কার্যকর হয়েছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও পেসারদের দাপট দেখা গেছে। ডারউইনে হাসান মাহমুদ ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন, ম্যাকাইতে এক ইনিংসেই সাত উইকেট শিকার করেন শরীফুল ইসলাম।

Share this news as a Photo Card