১৯৪৫ সালের ২৯ অক্টোবর। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের গিমবেলস ডিপার্টমেন্ট স্টোরে হঠাৎ জমে উঠেছিল প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বিপুল ভিড়। তাঁদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একটি সাধারণ লেখার সরঞ্জাম—’রেনল্ডস রকেট’। যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হওয়া এটিই ছিল প্রথম আধুনিক বলপয়েন্ট কলম। নতুন এই উদ্ভাবন কেনার জন্য মানুষের তৈরি হওয়া এই আগ্রহ যেন দীর্ঘদিনের জমে থাকা এক প্রয়োজন মেটানোরই চিত্র তুলে ধরেছিল।
সে সময়ে কলমটির দাম নির্ধারিত হয়েছিল ১২ ডলার ৫০ সেন্ট, যা বর্তমান মূল্যমানের হিসাবে প্রায় ২ ৩০ ডলার বা প্রায় ২৯ হাজার টাকার সমান। এত চড়া দাম সত্ত্বেও ক্রেতাদের উৎসাহে কোনো কমতি ছিল না। গিমবেলস স্টোরে বিক্রির প্রথম সপ্তাহেই প্রায় ৩০ হাজার কলম অবলীলায় বিক্রি হয়ে যায়, যা যুক্তরাষ্ট্রে এক নতুন উন্মাদনা তৈরি করেছিল।
অবশ্য রেনল্ডস রকেট বিশ্বের প্রথম বলপয়েন্ট কলম নয়। ১৮৮৮ সালে মার্কিন উদ্ভাবক জন জে. লাউড বলযুক্ত অগ্রভাগের কলমের পেটেন্ট করলেও তা বাণিজ্যিক সাফল্য পায়নি। পরবর্তীতে ফাউন্টেন পেনের ঝামেলা এড়াতে হাঙ্গেরীয় সাংবাদিক লাসলো বিরো এবং তাঁর ভাই জিওর্জি বিরো বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। ১৯৩৮ সালে পেটেন্ট নেওয়া তাঁদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তিতে নিবের বদলে ক্ষুদ্র ধাতব বল ব্যবহার করা হয়, যা লেখার সময় কালি সমভাবে ছড়িয়ে দিত।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিরো ভ্রাতৃদ্বয় আর্জেন্টিনায় স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে ‘বিরোম’ নামে তাঁদের কলমটি ১৯৪৩ সালে বাজারে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে ১৯৪৫ সালে আর্জেন্টিনায় গিয়ে এটি দেখে মার্কিন ব্যবসায়ী মিল্টন রেনল্ডস অনুপ্রাণিত হন এবং দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ‘রেনল্ডস রকেট’ নামে বলপয়েন্ট কলমের নতুন বিপ্লব ঘটিয়ে দেন।


























