মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০২:৪১ পূর্বাহ্ন | ৩০শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার, ১৪ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

ইসরায়েল-হামাসের দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা

  • হালনাগাদ সময় : ০৭:০৫:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

আগামী কয়েকদিনের মধ্যে শেষ জিম্মির মরদেহ ইসরায়েলের কাছে হামাস হস্তান্তর করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া, গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের মতবিরোধ কমাতে অস্ত্র সাময়িকভাবে ত্যাগের বিষয়ে আলোচনা করতেও রাজি আছে হামাস।

এদিকে, রবিবার (৭ ডিসেম্বর) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে পৌঁছানো কঠিন হলেও চলতি মাসেই এর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

তবে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপেও গাজায় হামলা চালিয়ে অন্তত ৩৬০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। এছাড়া, ত্রাণ সহায়তা এখনও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এসব বিবেচনায় দ্বিতীয় ধাপ কার্যকরভাবে শুরু হওয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার ভিত্তিতে গৃহীত চুক্তির প্রথম ধাপে ইসরায়েলের ওপর হামলা বন্ধ, সেনা প্রত্যাহার, ত্রাণ সরবরাহ বৃদ্ধি এবং জিম্মিদের বিনিময়ে কয়েকশ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল।

অথচ ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত অন্তত ৫৯০ বারের বেশি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

চুক্তির এক মাস পর নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শেষ হয়নি এবং হামাসকে অবশ্যই নিরস্ত্র করা হবে।

গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইসরায়েলি কর্মকর্তারা হামাসকে নিশ্চিহ্ন করার ঘোষণা দিয়ে আসছেন। অথচ ইসরায়েলের নিজস্ব হিসেবেই দেখা গেছে, তাদের বোমাবর্ষণে নিহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত দুবছরে নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে।

এছাড়া, চুক্তি অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহার নিয়েও ইসরায়েলের দিক থেকে গড়িমসির লক্ষণ দেখা গেছে।  তারা উপকূলীয় এলাকার চারপাশ ঘিরে থাকা কথিত ইয়েলো লাইন বা হলুদ রেখা পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার করে, যা ইসরায়েল ও হামাস নিয়ন্ত্রিত এলাকার সীমা নির্দেশক।

তবে হামাসের অভিযোগ, ইসরায়েল প্রতিদিন এই সীমানা আরও ছোট করে আনছে, ফলে নিয়মিত অনেক মানুষ উদ্‌বাস্তু হচ্ছেন এবং সীমানার কাছে পৌঁছালে যে কোনও ফিলিস্তিনি, এমনকি শিশুদেরও হত্যা করা হচ্ছে।

চুক্তি অনুযায়ী, ত্রাণ সহায়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধির কথা থাকলেও, তা গাজার প্রয়োজন ও চুক্তির শর্তের তুলনায় খুব কম। অথচ ইসরায়েলের অবরোধের কারণে বহু আগেই জাতিসংঘ গাজা সিটিতে দুর্ভিক্ষের শঙ্কা প্রকাশ করেছিল।

মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে। অপুষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও সংকট কাটেনি। অক্টোবর মাসে ইউনিসেফ জানায়, পাঁচ বছরের কম বয়সি প্রায় নয় হাজার ৩০০ শিশুর তীব্র অপুষ্টি ধরা পড়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে কার্যকর যুদ্ধবিরতির আগের হিসাবের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি।

দ্বিতীয় ধাপ: গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী শাসন

মার্কিন প্রস্তাবিত চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের আলোচ্য বিষয় হলো গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা। ট্রাম্পের প্রস্তাব আংশিকভাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও অনুমোদন করেছে।
এ পরিকল্পনায় একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের কথা বলা হয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক দল নয় বরং ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটরা দৈনন্দিন শাসন পরিচালনা করবেন। তাদের কাজ পর্যবেক্ষণ করবে একটি বহুজাতিক “বোর্ড অব পিস”, আর নিরাপত্তা ও নিরস্ত্রীকরণে সহায়তা দেবে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী। তাদের লক্ষ্য হবে গাজা পুনর্গঠনে কাজ করা এবং সংঘাতের পুনরাবৃত্তি রোধ করা।

তবে হামাসসহ বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী গাজার উপর বিদেশি তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগের বিরোধিতা করেছে।

চূড়ান্ত চুক্তির সম্ভাবনা কতটুকু?

গাজায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকা ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে আর কিছুই নিশ্চিত নয়। নেতানিয়াহুকে তার সমালোচকেরা মূলত সুযোগসন্ধানী বলে উল্লেখ করেন, যিনি দেশের ভেতরের বহুমুখী রাজনৈতিক সংকট সামলে গদি টেকাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, চুক্তিতে যা থাকুক না কেন, গাজায় হামলা অব্যাহত রাখবে ইসরায়েল। তাই, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা এখনও অধরাই থেকে যাচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

অদিতি রাও হায়দারির জন্মদিনে সিদ্ধার্থ বললেন ‘আমি তোমার সবচেয়ে বড় ভক্ত’

29 October 2026

মহেশপুর সীমান্তে ৩ ভারতীয়সহ ৯ জন আটক: বিজিবি

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

ইসরায়েল-হামাসের দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা

হালনাগাদ সময় : ০৭:০৫:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

আগামী কয়েকদিনের মধ্যে শেষ জিম্মির মরদেহ ইসরায়েলের কাছে হামাস হস্তান্তর করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া, গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের মতবিরোধ কমাতে অস্ত্র সাময়িকভাবে ত্যাগের বিষয়ে আলোচনা করতেও রাজি আছে হামাস।

এদিকে, রবিবার (৭ ডিসেম্বর) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে পৌঁছানো কঠিন হলেও চলতি মাসেই এর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

তবে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপেও গাজায় হামলা চালিয়ে অন্তত ৩৬০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। এছাড়া, ত্রাণ সহায়তা এখনও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এসব বিবেচনায় দ্বিতীয় ধাপ কার্যকরভাবে শুরু হওয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার ভিত্তিতে গৃহীত চুক্তির প্রথম ধাপে ইসরায়েলের ওপর হামলা বন্ধ, সেনা প্রত্যাহার, ত্রাণ সরবরাহ বৃদ্ধি এবং জিম্মিদের বিনিময়ে কয়েকশ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল।

অথচ ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত অন্তত ৫৯০ বারের বেশি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

চুক্তির এক মাস পর নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শেষ হয়নি এবং হামাসকে অবশ্যই নিরস্ত্র করা হবে।

গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইসরায়েলি কর্মকর্তারা হামাসকে নিশ্চিহ্ন করার ঘোষণা দিয়ে আসছেন। অথচ ইসরায়েলের নিজস্ব হিসেবেই দেখা গেছে, তাদের বোমাবর্ষণে নিহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত দুবছরে নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে।

এছাড়া, চুক্তি অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহার নিয়েও ইসরায়েলের দিক থেকে গড়িমসির লক্ষণ দেখা গেছে।  তারা উপকূলীয় এলাকার চারপাশ ঘিরে থাকা কথিত ইয়েলো লাইন বা হলুদ রেখা পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার করে, যা ইসরায়েল ও হামাস নিয়ন্ত্রিত এলাকার সীমা নির্দেশক।

তবে হামাসের অভিযোগ, ইসরায়েল প্রতিদিন এই সীমানা আরও ছোট করে আনছে, ফলে নিয়মিত অনেক মানুষ উদ্‌বাস্তু হচ্ছেন এবং সীমানার কাছে পৌঁছালে যে কোনও ফিলিস্তিনি, এমনকি শিশুদেরও হত্যা করা হচ্ছে।

চুক্তি অনুযায়ী, ত্রাণ সহায়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধির কথা থাকলেও, তা গাজার প্রয়োজন ও চুক্তির শর্তের তুলনায় খুব কম। অথচ ইসরায়েলের অবরোধের কারণে বহু আগেই জাতিসংঘ গাজা সিটিতে দুর্ভিক্ষের শঙ্কা প্রকাশ করেছিল।

মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে। অপুষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও সংকট কাটেনি। অক্টোবর মাসে ইউনিসেফ জানায়, পাঁচ বছরের কম বয়সি প্রায় নয় হাজার ৩০০ শিশুর তীব্র অপুষ্টি ধরা পড়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে কার্যকর যুদ্ধবিরতির আগের হিসাবের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি।

দ্বিতীয় ধাপ: গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী শাসন

মার্কিন প্রস্তাবিত চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের আলোচ্য বিষয় হলো গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা। ট্রাম্পের প্রস্তাব আংশিকভাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও অনুমোদন করেছে।
এ পরিকল্পনায় একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের কথা বলা হয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক দল নয় বরং ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটরা দৈনন্দিন শাসন পরিচালনা করবেন। তাদের কাজ পর্যবেক্ষণ করবে একটি বহুজাতিক “বোর্ড অব পিস”, আর নিরাপত্তা ও নিরস্ত্রীকরণে সহায়তা দেবে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী। তাদের লক্ষ্য হবে গাজা পুনর্গঠনে কাজ করা এবং সংঘাতের পুনরাবৃত্তি রোধ করা।

তবে হামাসসহ বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী গাজার উপর বিদেশি তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগের বিরোধিতা করেছে।

চূড়ান্ত চুক্তির সম্ভাবনা কতটুকু?

গাজায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকা ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে আর কিছুই নিশ্চিত নয়। নেতানিয়াহুকে তার সমালোচকেরা মূলত সুযোগসন্ধানী বলে উল্লেখ করেন, যিনি দেশের ভেতরের বহুমুখী রাজনৈতিক সংকট সামলে গদি টেকাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, চুক্তিতে যা থাকুক না কেন, গাজায় হামলা অব্যাহত রাখবে ইসরায়েল। তাই, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা এখনও অধরাই থেকে যাচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

Share this news as a Photo Card