মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৭:১৩ পূর্বাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

ইউক্রেনের একাধিক জ্বালানি স্থাপনায় রাশিয়ার হামলা, নিহত ৩

  • হালনাগাদ সময় : ০৭:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

ইউক্রেনের ওপর ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার (৮ নভেম্বর) রাতের হামলায় তিনটি অঞ্চলের বৃহৎ জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া ৪৫০টিরও বেশি ড্রোন এবং ৪৫টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডনিপ্রো শহরে একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। খারকিভ অঞ্চলেও একজন নিহত হয়েছেন।

কিয়েভ, পলতাভা এবং খারকিভ অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিডেনকো।

জেলেনস্কি বলেছেন, এই হামলাগুলো প্রমাণ করে যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার চাপ আরও বাড়ানো জরুরি।

শীতের আগে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করেছেন জেলেনস্কি। টেলিগ্রাম অ্যাপে তিনি লিখেছেন, রাশিয়ার জ্বালানি খাতের সব অংশকে লক্ষ্য করে কোনও ব্যতিক্রম ছাড়াই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।

প্রায় চার বছর আগে শুরু হওয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ হামলার পর থেকেই, মস্কো ইউক্রেনের বিদ্যুৎ খাতকে নিয়মিতভাবে টার্গেট করে আসছে। রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি নাফতোহাজ-এর তথ্য অনুযায়ী, এই শরতে মাত্র দুই মাসে রাশিয়া নয়বার গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভের রাশিয়ার ওপর হামলার জবাবে, তারা উচ্চ নির্ভুল দীর্ঘ-পাল্লার আকাশ, স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক অস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের অস্ত্র উৎপাদন ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।

রাশিয়া আরও দাবি করেছে, তাদের বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের পোক্রভস্ক ও কুপিয়ানস্ক শহরের আশেপাশে তীব্র যুদ্ধে অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং একটি ছোট গ্রাম দখল করেছে।

ইউক্রেনও নিয়মিতভাবে রাশিয়ার ভেতরে তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালায়।

যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায়, কিয়েভ এখন মস্কোর যুদ্ধের অর্থায়ন ক্ষমতা কমানোর চেষ্টা করছে।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা ৪০৬টি রুশ ড্রোন এবং ৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। তবে ২৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫২টি ড্রোন ইউক্রেনের ২৫টি স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।

সভিরিডেনকো বলেছেন, সরকার ও বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ, পানি ও তাপ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।

মধ্য পলতাভা অঞ্চলে অবস্থিত দুটি শহরে (প্রায় দুই লাখ মানুষের শহর ক্রেমেনচুক এবং প্রায় ৫০ হাজার অধিবাসীর শহর হোরিশনি প্লাভনি) অধিকাংশ বাসিন্দা বিদ্যুৎ হারিয়েছে এবং পানি সরবরাহের জন্য জেনারেটরের ওপর নির্ভর করছে বলে শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে: হুমায়ুন কবীর

28 October 2026

নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে, ফল মেনে নেব: বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

ইউক্রেনের একাধিক জ্বালানি স্থাপনায় রাশিয়ার হামলা, নিহত ৩

হালনাগাদ সময় : ০৭:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

ইউক্রেনের ওপর ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার (৮ নভেম্বর) রাতের হামলায় তিনটি অঞ্চলের বৃহৎ জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া ৪৫০টিরও বেশি ড্রোন এবং ৪৫টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডনিপ্রো শহরে একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। খারকিভ অঞ্চলেও একজন নিহত হয়েছেন।

কিয়েভ, পলতাভা এবং খারকিভ অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিডেনকো।

জেলেনস্কি বলেছেন, এই হামলাগুলো প্রমাণ করে যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার চাপ আরও বাড়ানো জরুরি।

শীতের আগে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করেছেন জেলেনস্কি। টেলিগ্রাম অ্যাপে তিনি লিখেছেন, রাশিয়ার জ্বালানি খাতের সব অংশকে লক্ষ্য করে কোনও ব্যতিক্রম ছাড়াই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।

প্রায় চার বছর আগে শুরু হওয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ হামলার পর থেকেই, মস্কো ইউক্রেনের বিদ্যুৎ খাতকে নিয়মিতভাবে টার্গেট করে আসছে। রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি নাফতোহাজ-এর তথ্য অনুযায়ী, এই শরতে মাত্র দুই মাসে রাশিয়া নয়বার গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভের রাশিয়ার ওপর হামলার জবাবে, তারা উচ্চ নির্ভুল দীর্ঘ-পাল্লার আকাশ, স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক অস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের অস্ত্র উৎপাদন ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।

রাশিয়া আরও দাবি করেছে, তাদের বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের পোক্রভস্ক ও কুপিয়ানস্ক শহরের আশেপাশে তীব্র যুদ্ধে অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং একটি ছোট গ্রাম দখল করেছে।

ইউক্রেনও নিয়মিতভাবে রাশিয়ার ভেতরে তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালায়।

যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায়, কিয়েভ এখন মস্কোর যুদ্ধের অর্থায়ন ক্ষমতা কমানোর চেষ্টা করছে।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা ৪০৬টি রুশ ড্রোন এবং ৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। তবে ২৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫২টি ড্রোন ইউক্রেনের ২৫টি স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।

সভিরিডেনকো বলেছেন, সরকার ও বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ, পানি ও তাপ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।

মধ্য পলতাভা অঞ্চলে অবস্থিত দুটি শহরে (প্রায় দুই লাখ মানুষের শহর ক্রেমেনচুক এবং প্রায় ৫০ হাজার অধিবাসীর শহর হোরিশনি প্লাভনি) অধিকাংশ বাসিন্দা বিদ্যুৎ হারিয়েছে এবং পানি সরবরাহের জন্য জেনারেটরের ওপর নির্ভর করছে বলে শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

Share this news as a Photo Card