ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করতে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেনের সংবাদ সম্মেলনে করা বিভিন্ন অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে এসব বক্তব্যের মাধ্যমে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত প্রার্থীর বিভিন্ন বক্তব্যের জবাবে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মির্জা ফয়সল আমীন।
ফয়সল আমীন অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এ জন্য তাঁরা পরিকল্পিতভাবে একের পর এক মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তুলছেন। তাঁদের কয়েকটি অভিযোগ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা ও বিভিন্ন সভায় প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের বক্তব্যের মাধ্যমে ভোটের পরিবেশ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার এই প্রচেষ্টা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফয়সল আমীন বলেন, প্রতিপক্ষের প্রার্থী ও তাঁর নেতাকর্মীদের বিভিন্ন বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ডের কারণে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কখনো মিথ্যা অভিযোগ, আবার কখনো হামলা ও হুমকির মতো ঘটনা সামনে আসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচনে ভোটারদের টাকা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জামায়াতের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেন মির্জা ফয়সল আমীন। তিনি বলেন, বিএনপি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত নয় এবং নির্বাচনে জয়ী হতে অনৈতিক পন্থা অবলম্বনের রাজনীতি বিএনপি করে না। তাঁর অভিযোগ, জামায়াত ভূল্লীর বালিয়া এলাকায় বিরিয়ানির প্যাকেটের সঙ্গে স্লিপ বিতরণ করেছে। এসব বিষয়ে যথাযথ নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানালে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, ফলাফল যা-ই হোক, তিনি তা মেনে নেবেন। ফলাফল মেনে না নেওয়ার অর্থ গণতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাস না করা। গণতন্ত্রের মূল কথা হলো জনগণের মতামতকে সম্মান করা। তাই ভোটের ফলাফল মেনে নেওয়াই গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চার অংশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
























