বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ১১ দলীয় ইসলামী জোটের আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তি ঘটেছে। জোটের শরিক দলগুলো এই ভাঙনের জন্য প্রধানত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ‘একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ’ ও ‘জোটের মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে আসা’কে দায়ী করছে। তাদের অভিযোগ, জামায়াত নিজেদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে জোটের সম্মিলিত সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে চলছিল, যা শেষ পর্যন্ত এই জোটের কার্যকারিতাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
জোটের কয়েকটি শরিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াতের সঙ্গে তাদের মতবিরোধ চলছিল। বিশেষ করে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াতের নিজস্ব ও একক অবস্থান গ্রহণ এবং শরিক দলগুলোর সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা না করেই রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়টি অন্যান্য দলগুলোকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, “জোট গঠিত হয়েছিল একটি অভিন্ন লক্ষ্য ও আদর্শ নিয়ে। কিন্তু জামায়াত ধারাবাহিকভাবে সেই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত ছিল। এতে জোটের অন্যান্য দলের ভূমিকা গৌণ হয়ে পড়েছিল।”
যদিও এই বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক কৌশলগত পার্থক্য এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলও জোট ভাঙার পেছনে কাজ করেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, জামায়াত তার নিজস্ব রাজনৈতিক ধারা বজায় রাখতে গিয়ে অনেক সময় শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা করতে ব্যর্থ হয়, যা তাদের জোটবদ্ধ রাজনীতিতে বারবার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
উল্লেখ্য, দেশের ইসলামী দলগুলোকে একত্রিত করে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এই ১১ দলীয় ইসলামী জোট গঠিত হয়েছিল। বিভিন্ন সময় জাতীয় ইস্যু এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে এই জোট সক্রিয় ভূমিকা পালনের চেষ্টা করেছে। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে জোটের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল, যা এর বিলুপ্তির ইঙ্গিত দিচ্ছিল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই জোটের বিলুপ্তি দেশের ইসলামী রাজনৈতিক ধারায় নতুন মেরুকরণের জন্ম দিতে পারে। এটি একদিকে যেমন ইসলামী দলগুলোর মধ্যে বিভেদ আরও বাড়াবে, তেমনি ভবিষ্যতে তাদের এককভাবে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগও সীমিত করবে। সামনের দিনগুলোতে এই দলগুলো কীভাবে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করে, তা দেখার বিষয়।
রিপোর্টারের নাম 















