সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি মহল জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘আমার দেশ’-এর নাম ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একাধিক ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে দিচ্ছে। এসব ফটোকার্ডে বিভিন্ন স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। সম্প্রতি একটি অনলাইন তথ্য যাচাইকারী প্ল্যাটফর্মের অনুসন্ধানে এই ভুয়া ফটোকার্ডগুলোর সত্যতা উন্মোচিত হয়েছে।
অনুসন্ধানে দুটি উল্লেখযোগ্য ভুয়া ফটোকার্ডের তথ্য উঠে এসেছে, যা ব্যাপক হারে শেয়ার হয়েছে। প্রথম ফটোকার্ডটিতে দাবি করা হয়েছে যে, গ্রামের সহজ-সরল মহিলাদের ভোটার নম্বর সংগ্রহ করতে যাওয়া জামায়াতের একদল নারী কর্মীকে জনগণ পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। ‘আমার দেশ’ পত্রিকার আদলে বানানো এই ফটোকার্ডটিতে একটি কক্ষের ভেতরে কয়েকজন নারীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে এবং পেছনের দেওয়ালে ‘মুজিবনগর থানা ভবন’ লেখা দেখা যায়। কার্ডটির নিচে ‘১৪ জানুয়ারি ২০২৬’ তারিখ এবং সংবাদমাধ্যমটির ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেওয়া আছে, যা ভবিষ্যৎ তারিখ হওয়ায় এর ভুয়া হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এই ফটোকার্ডটি ফেসবুকে হাজার হাজার বার শেয়ার হয়েছে এবং অসংখ্য মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তবে তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবিটি ২০২২ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে নেওয়া। সে সময় মেহেরপুরের মুজিবনগরে সরকারবিরোধী গোপন বৈঠক করার অভিযোগে জামায়াতের আট নারী কর্মীকে সাংগঠনিক বইসহ গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। মূল ঘটনার সঙ্গে ফটোকার্ডে বর্ণিত দাবির কোনো মিল নেই। এছাড়া, ‘আমার দেশ’ পত্রিকার ১৪ জানুয়ারির অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্ট বা কার্ডগুলোতে এমন কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি, ব্যবহৃত ফন্টেও মূল পত্রিকার সঙ্গে পার্থক্য রয়েছে।
দ্বিতীয় আরেকটি ভুয়া ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীমকে জরুরি ফোন করেছেন। এই কার্ডটিতে তারেক রহমান ও মুফতি ফয়জুল করীমের ছবি এবং তাদের দলের নির্বাচনী প্রতীক সংযুক্ত করা হয়েছে। এটিও ‘১৪ জানুয়ারি ২০২৬’ তারিখেই প্রকাশিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ফটোকার্ডটিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার লাভ করেছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। অনুসন্ধানে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেলে এমন কোনো ফোনালাপ সংক্রান্ত সংবাদ বা ফটোকার্ডের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এটিও সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে।
এ বিষয়ে ‘আমার দেশ’ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তাদের সহযোগী সম্পাদক আলফাজ আনাম নিশ্চিত করেন যে, সংবাদমাধ্যমটি এমন কোনো ফটোকার্ড বা প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। প্রচারিত কার্ড দুটি সম্পূর্ণ ভুয়া।
এর আগেও ‘আমার দেশ’ পত্রিকার নামে ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে। এসব ভুয়া ফটোকার্ডের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট মহল সমাজে ভুল তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে প্রতীয়মান।
রিপোর্টারের নাম 















