আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে দেশে লাইটার জাহাজের কৃত্রিম সংকট নিরসনে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কিছু আমদানিকারক অভ্যন্তরীণ নৌপথে ব্যবহৃত লাইটার জাহাজগুলোকে অবৈধভাবে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নৌপরিবহন অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কিছু আমদানিকারক লাইটার জাহাজে পণ্য খালাস না করে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখছেন এবং সেগুলোকে কার্যত ভাসমান গুদামে পরিণত করেছেন। এছাড়া, রমজান মাসকে কেন্দ্র করে আমদানিকারকরা একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করেছেন। এর ফলে বহিঃনোঙরে বাণিজ্যিক জাহাজের সংখ্যা হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় সমুদ্রবন্দর থেকে পণ্য খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় লাইটার জাহাজের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই বিলম্বের কারণে আমদানিকৃত পণ্য খালাস বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে, নারায়ণগঞ্জ, যশোর, নোয়াপাড়া এবং দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে অবিলম্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেসব লাইটার জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলোর আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোহাম্মদ শফিউল বারী (এনডি), ওএসপি স্বাক্ষরিত এক আদেশে জানানো হয়েছে যে, এই অভিযান পরিচালনার জন্য ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ এবং অভ্যন্তরীণ নৌযান পরিদর্শন দপ্তরের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
অভিযানের সময় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। টাস্কফোর্সের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে লাইটার জাহাজের অপব্যবহার বন্ধ হবে, পণ্য খালাসে গতি আসবে এবং রমজান মাসে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
রিপোর্টারের নাম 















