ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য ক্যাম্পেইন করবে: ড. ইউনূস

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটে অন্তর্বর্তী সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার (১১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান ইভারস আইজাবসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। ড. ইউনূস স্পষ্ট করেছেন যে, এ বিষয়ে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে এবং সরকারের প্রচারণায় কোনো আইনি বাধা নেই।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সংস্কার কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং স্বৈরাচারের প্রত্যাবর্তন রোধে সরকার জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। ইইউ প্রতিনিধি দল এই গণভোটকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন এবং নির্বাচনের সময় দেশজুড়ে ২০০ পর্যবেক্ষক মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেন যে, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি ইইউ প্রতিনিধিকে প্রতিশ্রুতি দেন। নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ থাকবে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে একটি অ্যাপের মাধ্যমে পুরো পরিস্থিতি মনিটর করা হবে। এ ছাড়াও সেনাবাহিনী ‘র‍্যাপিড রেসপন্স স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে মাঠে সক্রিয় থাকবে।

নির্বাচনী রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। তবে প্রধান উপদেষ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচার বা ‘মিসইনফরমেশন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং একে নির্বাচনের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘পতিত স্বৈরাচারের’ দোসররা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারে, তবে নিরাপত্তা বাহিনী যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

দায়িত্ব ছাড়ার পর ড. ইউনূস কী করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, ড. ইউনূস ভবিষ্যতে ডিজিটাল হেলথ কেয়ার, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি এবং তার জনপ্রিয় ‘তিন শূন্য’ (Three Zeros) তত্ত্ব নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন। আগামী মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে জাপান সফরে যাবেন। সেখানে তিনি সমুদ্র সম্পদ ও ব্লু-ইকোনমি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করবেন। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত এই অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে ‘রাতের ভোট’ হবে ইতিহাস: আলী রিয়াজ

সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য ক্যাম্পেইন করবে: ড. ইউনূস

আপডেট সময় : ০২:১৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটে অন্তর্বর্তী সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার (১১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান ইভারস আইজাবসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। ড. ইউনূস স্পষ্ট করেছেন যে, এ বিষয়ে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে এবং সরকারের প্রচারণায় কোনো আইনি বাধা নেই।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সংস্কার কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং স্বৈরাচারের প্রত্যাবর্তন রোধে সরকার জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। ইইউ প্রতিনিধি দল এই গণভোটকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন এবং নির্বাচনের সময় দেশজুড়ে ২০০ পর্যবেক্ষক মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেন যে, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি ইইউ প্রতিনিধিকে প্রতিশ্রুতি দেন। নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ থাকবে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে একটি অ্যাপের মাধ্যমে পুরো পরিস্থিতি মনিটর করা হবে। এ ছাড়াও সেনাবাহিনী ‘র‍্যাপিড রেসপন্স স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে মাঠে সক্রিয় থাকবে।

নির্বাচনী রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। তবে প্রধান উপদেষ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচার বা ‘মিসইনফরমেশন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং একে নির্বাচনের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘পতিত স্বৈরাচারের’ দোসররা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারে, তবে নিরাপত্তা বাহিনী যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

দায়িত্ব ছাড়ার পর ড. ইউনূস কী করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, ড. ইউনূস ভবিষ্যতে ডিজিটাল হেলথ কেয়ার, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি এবং তার জনপ্রিয় ‘তিন শূন্য’ (Three Zeros) তত্ত্ব নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন। আগামী মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে জাপান সফরে যাবেন। সেখানে তিনি সমুদ্র সম্পদ ও ব্লু-ইকোনমি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করবেন। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত এই অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।