ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অগ্রসেনানী শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা এবং দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে রাজধানীতে এক বিশাল মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আগামী ৩ জানুয়ারি (শুক্রবার) দুপুর ১২টায় ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এই কর্মসূচি শুরু হবে। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাম্প্রতিক এক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই মহাসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার নেতারা একটি সমন্বয় সভা করেছেন, যেখানে কর্মসূচির সার্বিক প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এই মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সারা দেশ থেকে ১০ লক্ষাধিক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটানোর একটি বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জামায়াতে ইসলামী। কর্মসূচিটি সফল করতে ইতিমধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং সাংগঠনিকভাবে সকল স্তরের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। জামায়াতের এই মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসূচি।
মহাসমাবেশের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই বিপ্লবের নায়ক শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে থাকা সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে সন্ত্রাসীদের দমনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই মৌলিক দাবিগুলো পূরণ না হলে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
দলের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাসুম দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া গভীর উদ্বেগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং জনগণের দাবিগুলো সরকারের সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরতেই জামায়াতে ইসলামী এই মহাসমাবেশ আয়োজন করতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই সমাবেশ থেকে দেশ ও জাতির স্বার্থে রাজপথে অত্যন্ত দৃঢ় ও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হবে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিতে পারেন।
রিপোর্টারের নাম 























