তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরকারি নির্ধারিত মূল্য নিশ্চিত না হওয়া এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। গণশুনানিতে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) উভয়কেই তীব্র তোপের মুখে পড়তে হয়েছে। একই সঙ্গে খুচরা বিক্রেতা ও পরিবেশকরাও বাড়তি দামের জন্য আমদানিকারকদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই গণশুনানির উদ্বোধন করেন বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, মো. মিজানুর রহমান এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহিদ সারওয়ার।
শুনানিতে আমদানিকারক, পরিবেশক এবং খুচরা পর্যায়ে কমিশন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। বর্তমানে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারে আমদানিকারকদের কমিশন ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ৩০০ থেকে ৪৭৮ টাকা পর্যন্ত করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশকরা কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার প্রস্তাব দেন।
অন্যদিকে, বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি ১২ কেজি সিলিন্ডারে আমদানিকারকের কমিশন ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮০ টাকা, ডিলারের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৭০ টাকা করার সুপারিশ করেছে। এই প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে ১২ কেজি এলপিজির সরকারি নির্ধারিত দর ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকায় পৌঁছাবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো লিখিত বক্তব্য থাকলে তা আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে বিইআরসিতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুনানিতে অংশ নিয়ে পরিবেশক সমিতির নেতারা অভিযোগ করেন, সংকট দেখা দিলেই আমদানিকারকরা সরবরাহ বন্ধ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। ফলে পরিবহনসহ অতিরিক্ত খরচ বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি করা সম্ভব হয় না।

























