সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করার সময় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
বুধবার রাত পৌনে দশটার দিকে হাসপাতালের পঞ্চম তলায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত সাংবাদিকেরা হলেন চ্যানেল এস-এর ক্যামেরাপারসন রেজা রুবেল এবং সিলেটভিউ২৪ ডটকমের নিজস্ব প্রতিবেদক নিবেন্দু তালুকদার। তাঁদের মাথা ফেটে যাওয়ায় বর্তমানে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সোয়া নয়টার দিকে হাসপাতালের পঞ্চম তলার অপারেশন থিয়েটারের সামনে সিরিয়াল দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক রোগীর স্বজনের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং রোগীর দুই স্বজনকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আটকে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে আসার সময় আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। চতুর্থ তলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডেও গিয়ে অন্য রোগীর স্বজনদের ওপর ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা চড়াও হন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ সময় ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করতে গেলে ক্ষুব্ধ ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ক্যামেরা পারসন রেজা রুবেল ও রিপোর্টার নিবেন্দু তালুকদারের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। ঘটনার পর পরই ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা ধর্মঘটের ডাক দিয়ে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দিলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ রোগীরা। জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসা না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেক স্বজন তাঁদের রোগীদের অন্য বেসরকারি হাসপাতালে সরিয়ে নেন।
আহত সাংবাদিক রেজা রুবেল বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে আমরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে ভিডিও করতে যাই। বারবার সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও চিকিৎসকেরা আমাদের মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেন।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অপ্রীতিকর ঘটনার সময় দায়িত্ব পালনরত দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. আবু জাফর মো. খালেদ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। অন্যদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গভীর রাতে সিলেট নগরীর চৌহাট্টা পয়েন্টে বিক্ষোভ সভা করেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। সমাবেশ থেকে হামলায় জড়িতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।


























