মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৯:০৪ অপরাহ্ন | ৩০শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার, ১৪ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

আগাম প্রস্তুতির কারণে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার কমেছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত

  • হালনাগাদ সময় : ০৪:১৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, রোগের পূর্বাভাস এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও স্যালাইনের সরবরাহ নিশ্চিত করার ফলে মৃত্যুহার কমেছে। ডেঙ্গুর তথ্য বিশ্লেষণ করে আগেভাগে পরিকল্পনা নেওয়া, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার সুফল পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে নলেজ হাব ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সহনশীলতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পুরুষের তুলনায় নারীদের মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। এর পেছনে চিকিৎসাগত কারণের পাশাপাশি সামাজিক কারণও রয়েছে। নারীদের অসুস্থতাকে অনেক সময় কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে তাদের চিকিৎসা নিতে দেরি হয় এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

তিনি জানান, ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক রোগী অসুস্থ হওয়ার তিন দিনের বেশি সময় পর হাসপাতালে এসেছেন। দেরিতে হাসপাতালে আসার কারণে রোগীর শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে। এর পেছনে চিকিৎসাগত কারণের পাশাপাশি মানুষের চিকিৎসা নেওয়ার আচরণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পুরুষ অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার প্রবণতা থাকলেও নারীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় অসুস্থতাকে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফলে নারীরা দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছান। তখন রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. এম এ মুহিত বলেন, রোগের পূর্বাভাস ও সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে জুলাই-আগস্ট থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও স্যালাইনের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও আগেভাগে শুরু করা সম্ভব হয়েছে।

আগাম সতর্কতার সুবিধা শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নীতিনির্ধারকদের জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগে থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, সরবরাহ ও অন্যান্য প্রস্তুতি যথাসময়ে নেওয়া যায়। ডেঙ্গুর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট তাপপ্রবাহ ও আর্দ্রতার স্বাস্থ্যগত প্রভাব মোকাবিলাতেও কার্যকর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করার তাগিদ দেন। ডেঙ্গু ও তাপপ্রবাহের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এসব জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব চিহ্নিত করে তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গবেষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ তৈরি এবং পরবর্তী দুই থেকে তিন মাস নীতিনির্ধারকদের কাছে তা তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই কেবল কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ অভিনয় ছাড়ার ঘোষণা দিলেন রাসেল মিয়া

30 October 2026

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি: বিমানে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

আগাম প্রস্তুতির কারণে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার কমেছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত

হালনাগাদ সময় : ০৪:১৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, রোগের পূর্বাভাস এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও স্যালাইনের সরবরাহ নিশ্চিত করার ফলে মৃত্যুহার কমেছে। ডেঙ্গুর তথ্য বিশ্লেষণ করে আগেভাগে পরিকল্পনা নেওয়া, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার সুফল পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে নলেজ হাব ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সহনশীলতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পুরুষের তুলনায় নারীদের মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। এর পেছনে চিকিৎসাগত কারণের পাশাপাশি সামাজিক কারণও রয়েছে। নারীদের অসুস্থতাকে অনেক সময় কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে তাদের চিকিৎসা নিতে দেরি হয় এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

তিনি জানান, ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক রোগী অসুস্থ হওয়ার তিন দিনের বেশি সময় পর হাসপাতালে এসেছেন। দেরিতে হাসপাতালে আসার কারণে রোগীর শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে। এর পেছনে চিকিৎসাগত কারণের পাশাপাশি মানুষের চিকিৎসা নেওয়ার আচরণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পুরুষ অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার প্রবণতা থাকলেও নারীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় অসুস্থতাকে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফলে নারীরা দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছান। তখন রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. এম এ মুহিত বলেন, রোগের পূর্বাভাস ও সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে জুলাই-আগস্ট থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও স্যালাইনের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও আগেভাগে শুরু করা সম্ভব হয়েছে।

আগাম সতর্কতার সুবিধা শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নীতিনির্ধারকদের জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগে থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, সরবরাহ ও অন্যান্য প্রস্তুতি যথাসময়ে নেওয়া যায়। ডেঙ্গুর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট তাপপ্রবাহ ও আর্দ্রতার স্বাস্থ্যগত প্রভাব মোকাবিলাতেও কার্যকর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করার তাগিদ দেন। ডেঙ্গু ও তাপপ্রবাহের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এসব জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব চিহ্নিত করে তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গবেষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ তৈরি এবং পরবর্তী দুই থেকে তিন মাস নীতিনির্ধারকদের কাছে তা তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই কেবল কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব।

Share this news as a Photo Card