ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে সন্তানকে মোবাইল ফোন ও টেলিভিশনের পর্দা থেকে দূরে রেখে বই পড়ার অভ্যাস ও নানা ভাষার চর্চায় গড়ে তুলছেন বলিউড অভিনেত্রী আসিন এবং তাঁর স্বামী মাইক্রোম্যাক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রাহুল শর্মা। তাঁদের মেয়ে অরিন রায়ান শর্মার ব্যতিক্রমী বেড়ে ওঠার গল্প নিয়ে তৈরি একটি প্রতিবেদন সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাহুল শর্মা ‘মাইগভ ইন্ডিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁদের সন্তানকে লালন-পালনের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি জানান, তাঁদের বাড়িতে কোনো টেলিভিশন নেই এবং মেয়ে অরিনকেও এখন পর্যন্ত স্মার্টফোন বা অন্য কোনো ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়নি। স্ক্রিনটাইমের বিকল্প হিসেবে বাড়িতেই একটি বড় বইয়ের সংগ্রহ গড়ে তুলেছেন তারা।
রাহুল জানান, অরিন বর্তমানে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়লেও তাদের সংগ্রেহে অষ্টম ও নবম শ্রেণির উপযোগী বইও রয়েছে। স্কুলে যে পরিমাণ বই রয়েছে, তার চেয়েও বেশি বই তাদের বাড়িতে রয়েছে বলে জানান তিনি। মেয়ের মধ্যে বই পড়ার এই আগ্রহ ও অভ্যাস তৈরিতে স্ত্রী আসিনের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি বলে উল্লেখ করেন রাহুল।
শুধু পাঠ্যাভ্যাস নয়, ছোট বয়সেই ভাষাশিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছে অরিন। রাহুলের দাবি অনুযায়ী, তাঁদের মেয়ে কোরীয়, জাপানি, থাই ও চীনা ভাষাসহ প্রায় ১২টি ভাষা বুঝতে ও বলতে সক্ষম।
২০০৮ সালে আমির খানের বিপরীতে ‘গজনি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন আসিন। ২০১৬ সালে শিল্পপতি রাহুল শর্মাকে বিয়ের পর তিনি অভিনয় জগত থেকে বিদায় নেন। বর্তমানে পরিবার ও সন্তানকে কেন্দ্র করেই তাঁর সময় কাটছে। ডিজিটাল যুগে স্ক্রিন ছাড়াই সন্তানকে এভাবে বড় করার তাদের এই পদ্ধতি ইতোমধ্যে সুধীমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।

























