কম্পিউটার বা ল্যাপটপে গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ করার সময় হঠাৎ পর্দা জমে যাওয়া (স্ক্রিন হ্যাং) কিংবা মাউস ও কিবোর্ডের কোনো নির্দেশে সাড়া না দেওয়ার অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে কিংবা তাৎক্ষণিক উপায় না দেখে সরাসরি পাওয়ার বাটন চেপে জোরপূর্বক ডিভাইস বন্ধ করে দেন। তবে এতে চলমান অসংরক্ষিত সব তথ্য ও ডেটা স্থায়ীভাবে মুছে যাওয়ার চরম ঝুঁকি থাকে। তাই পিসি জোর করে বন্ধ করার আগে কিবোর্ডের কয়েকটি সহজ কৌশল প্রয়োগ করে ফাইল সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
স্ক্রিন আটকে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কিবোর্ডের সাহায্যে পিসি পুনরায় সচল করার প্রধান ধাপগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- তিনটি বাটনের সমন্বিত শর্টকাট: কিবোর্ডের
Ctrl(কন্ট্রোল),Alt(অল্টার) এবংDelete(ডিলিট) বাটন একসঙ্গে চাপুন। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ন্যূনতম সাড়া দিলেও পর্দায় একটি নীল নিরাপত্তা মেনু বা অপশন স্ক্রিন ভেসে উঠবে। - টাস্ক ম্যানেজার চালু ও সমস্যাযুক্ত অ্যাপ বন্ধ: নিরাপত্তা মেনু থেকে ‘Task Manager’ (টাস্ক ম্যানেজার) নির্বাচন করুন। সেখানে চালু থাকা সব অ্যাপ্লিকেশনের তালিকা দেখা যাবে। যে সফটওয়্যারটির কারণে কম্পিউটার হ্যাং হয়েছে (সাধারণত পাশে ‘Not Responding’ লেখা থাকে), সেটিতে ক্লিক করে নিচে থাকা ‘End Task’ চাপুন। এতে ত্রুটিযুক্ত নির্দিষ্ট সফটওয়্যারটি বন্ধ হয়ে যাবে এবং কম্পিউটার পুনরায় স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে।
- নিরাপদ রিস্টার্ট নির্বাচন: যদি এন্ড টাস্কের মাধ্যমেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, তবে সেই নিরাপত্তা মেনুর নিচের ডান কোণে থাকা পাওয়ার আইকনে ক্লিক করে ‘Restart’ নির্বাচন করুন। এতে উইন্ডোজ তুলনামূলক নিরাপদ প্রক্রিয়ায় পুনরায় চালু হবে।
যদি কিবোর্ড বা মাউসের কোনো কমান্ডেই পিসি একেবারেই সাড়া না দেয়, তবে তাড়াহুড়ো না করে অন্তত কয়েক মিনিট অপেক্ষা করা উচিত; কারণ প্রসেসরের ব্যাকগ্রাউন্ডের বড় কোনো চাপ সামলে অনেক সময় কম্পিউটার নিজে থেকেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরে। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে শেষ অবলম্বন হিসেবে পাওয়ার বাটন কয়েক সেকেন্ড চেপে ধরে (ফোর্স শাটডাউন) পিসি বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকে না। এতে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ড্যামেজ বা ক্র্যাশ করার ঝুঁকি থেকে যায়।
এদিকে কম্পিউটার যদি প্রায় নিয়মিতই হ্যাং হতে থাকে, তবে সেটিকে শুধু সাময়িক রিস্টার্ট দিয়ে এড়িয়ে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এর পেছনে ডিভাইসের কম র্যাম (RAM), ব্যাকগ্রাউন্ডে অতিরিক্ত প্রসেসর ব্যবহার, হার্ডড্রাইভে পর্যাপ্ত খালি জায়গা না থাকা, ম্যালওয়্যারের আক্রমণ, সফটওয়্যার কোডিংয়ের ত্রুটি কিংবা অতিরিক্ত গরম হয়ে পড়ার (ওভারহিটিং) মতো গুরুতর হার্ডওয়্যার জটিলতা থাকতে পারে। তাই নিয়মিত হ্যাং হলে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ ড্রাইভ পরিষ্কার ও কুলিং ফ্যান পরীক্ষা করা জরুরি।


























