ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনের সাধারণ ব্যালট গণনা প্রায় শেষ। এখন শুরু হবে ডাবল খামের ব্যালট গণনা। এই ব্যালটের ফলাফল নির্বাচনে আসনসংখ্যার হিসাবে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত গণনা করা ভোটের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোতের জোট ৪৮টি আসন এবং আরব দলগুলো ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে। ফলে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পায়নি।
তবে ডাবল খামের ব্যালট গণনার পর এই হিসাব বদলে যেতে পারে।
সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের বেশির ভাগ ভোটার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সাধারণ ব্যালটে ভোট দেন। তবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটার ডাবল খামে ভোট দেন। ইসরায়েলের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ভোটার এই পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছেন।
ডাবল খামের ব্যালট অনেকটা বাংলাদেশের সর্বশেষ নির্বাচনে প্রবাসীদের জন্য ব্যবহৃত পোস্টাল ব্যালটের মতো। ওই পদ্ধতিতে প্রবাসীরা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে ব্যালট খামে ভরে ডাকযোগে দেশে পাঠিয়েছিলেন।
ডাবল খামে কারা ভোট দেন?
ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর সদস্য, কারাবন্দি আসামি, হাসপাতালের রোগী ও কর্মী, বিদেশে অবস্থানরত কূটনীতিক এবং শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিরা ডাবল খামে ভোট দেন। তবে সাধারণ প্রবাসীদের জন্য এই সুযোগ নেই। যেসব ইসরায়েলি প্রবাসী ভোট দিতে চান, তাদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে ভোট দিতে হয়।
যেভাবে গণনা করা হয় এই ভোট
ডাবল খামে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে ব্যালটটি একটি খামে ভরেন। এরপর সেই খামটি ভোটারের তথ্যসংবলিত আরেকটি খামে রাখা হয়। পরে খামগুলো ইসরায়েলের নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়।
নির্বাচন কমিশন যাচাই করে দেখে, ডাবল খামে ভোট দেওয়া ব্যক্তিরা একই নির্বাচনে সশরীরে ভোট দিয়েছেন কি না। কেউ দুবার ভোট না দিয়ে থাকলে তাঁর ব্যালট বৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরপর বাইরের খাম থেকে ভেতরের ব্যালটের খামটি বের করে গণনার জন্য নেওয়া হয়।
যাচাইয়ের এই প্রক্রিয়ার কারণে ডাবল খামের ভোট গণনায় কিছুটা বেশি সময় লাগে।
২০২২ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে ডাবল খামে ভোট দিয়েছিলেন প্রায় সাড়ে চার লাখ ভোটার।
সাধারণত এই ভোটের ওপর ১২ থেকে ১৫টি আসনের হিসাব নির্ভর করে। ফলে ডাবল খামের ভোটে যে পক্ষ বেশি সমর্থন পাবে, তাদের আসনসংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

























