মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৮:২৩ অপরাহ্ন | ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

চুয়াডাঙ্গায় হত্যা ও মাদক মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন

  • হালনাগাদ সময় : ০৫:৫৮:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুটি মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে আলমডাঙ্গার আলোচিত ঝন্টু হত্যা মামলায় ঘটনার ১৭ বছর পর দুই আসামি এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অপর একটি মামলায় একজনকে এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে পৃথক আদালতের বিচারকরা রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তিন আসামির প্রত্যেককে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঝন্টু হত্যা মামলায় ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোক্তাগীর আলম।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আলমডাঙ্গা উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের শালিকা গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন এবং একই গ্রামের মৃত আবু ছদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ। তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, পান ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের বিরোধের জেরে ২০০৯ সালের ১৯ এপ্রিল রাতে ঝন্টুকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেওয়া হয়। পরদিন গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ঝন্টুর বাবা জাহা বক্স মণ্ডল আলমডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বুধবার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আ. স. ম. আব্দুর রউফ বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।
অন্যদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর দক্ষিণপাড়ার মৃত জালাল উদ্দীনের ছেলে শফিউল্লাহকে (৬০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় শফিউল্লাহ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা শফিউল্লাহর বাড়িতে অভিযান চালান। এ সময় সেখান থেকে ২২ অ্যাম্পুল, অর্থাৎ ৪৪ মিলিলিটার বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া এবং এর বিস্তার রোধে রায়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচ বছর পর আবারও পর্দায় রজনীকান্ত ও নয়নতারা জুটি

28 October 2026

১৮ মাসের মধ্যেই চায়না ইকোনমিক জোনের প্রথম কারখানা চালু: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

চুয়াডাঙ্গায় হত্যা ও মাদক মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন

হালনাগাদ সময় : ০৫:৫৮:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুটি মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে আলমডাঙ্গার আলোচিত ঝন্টু হত্যা মামলায় ঘটনার ১৭ বছর পর দুই আসামি এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অপর একটি মামলায় একজনকে এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে পৃথক আদালতের বিচারকরা রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তিন আসামির প্রত্যেককে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঝন্টু হত্যা মামলায় ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোক্তাগীর আলম।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আলমডাঙ্গা উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের শালিকা গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন এবং একই গ্রামের মৃত আবু ছদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ। তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, পান ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের বিরোধের জেরে ২০০৯ সালের ১৯ এপ্রিল রাতে ঝন্টুকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেওয়া হয়। পরদিন গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ঝন্টুর বাবা জাহা বক্স মণ্ডল আলমডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বুধবার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আ. স. ম. আব্দুর রউফ বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।
অন্যদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর দক্ষিণপাড়ার মৃত জালাল উদ্দীনের ছেলে শফিউল্লাহকে (৬০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় শফিউল্লাহ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা শফিউল্লাহর বাড়িতে অভিযান চালান। এ সময় সেখান থেকে ২২ অ্যাম্পুল, অর্থাৎ ৪৪ মিলিলিটার বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া এবং এর বিস্তার রোধে রায়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Share this news as a Photo Card