শরতের রোদ আর বাতাসে দিগন্তজোড়া সবুজ পাতার মর্মর শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা। চলতি বছর উপজেলাটিতে ১১৫ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন খরচ কম ও লাভের সম্ভাবনা বেশি হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে এ ফসলের চাষাবাদ। তবে নিজেদের প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমে আখ চাষে সফলতা পেলেও কাঙ্ক্ষিত সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন না স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষি বিভাগ বলছে, সরকারি বরাদ্দ সীমিত থাকায় সব চাষিকে সহায়তার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে আখ চাষের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রণোদনা বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
কালকিনি উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলায় ১৫৫ হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে বর্তমানে ১১৫ হেক্টর জমিতে আখের সফল আবাদ হয়েছে।
উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদের তীরঘেঁষা রামচন্দ্রপুর ও খুনের চর গ্রামের মাঠজুড়ে এখন শুধু আখের সমারোহ। এখানকার কৃষকদের ঘামঝরা পরিশ্রমে বেড়ে ওঠা রসালো আখে রয়েছে উজ্জ্বল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। এসব এলাকায় মূলত সাদা বোম্বাই, কাজলী গেন্ডারি, রং বিলাস ও বাঁশ গেন্ডারি জাতের আখ চাষ করা হয়। টসটসে ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এসব জাতের আখের চাহিদাও বেশ ভালো।
স্থানীয় কৃষক জমির মিয়া ও জামাল সরদার জানান, আখ চাষে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম, অথচ লাভের মুখ দেখা যায় অনেক বেশি। সাদা বোম্বাই, কাজলী গেন্ডারি, রং বিলাস ও বাঁশ গেন্ডারি জাতের আখের প্রচুর চাহিদা থাকায় তারা এসব জাতের চাষে বেশি আগ্রহী। প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হলেও লাভ হয় প্রায় চার গুণ। আখ চাষ করেই অনেকেই তাদের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক দুরবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
তারা আরও বলেন, সম্পূর্ণ নিজেদের চেষ্টা ও পরিশ্রমেই কৃষকরা আখ চাষে এই সফলতা অর্জন করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে যদি নিয়মিত প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরামর্শ পাওয়া যায়, তবে এ অঞ্চলে আখ চাষের মাধ্যমে বড় ধরনের কৃষিবিপ্লব ঘটানো সম্ভব।
কালকিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, আখ চাষে সরকারি প্রণোদনা ও বরাদ্দ কিছুটা কম থাকায় বর্তমানে সীমিতসংখ্যক কৃষককে সহায়তার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তবে আগামীতে আখ চাষির সংখ্যা ও চাষের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। সে অনুযায়ী প্রণোদনাও বৃদ্ধি করা হবে। এর মাধ্যমে কালকিনিতে আখের আবাদ আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


























