ফুটবল মাঠের লড়াই দেখতে গ্যালারিতে বসতে হলে এবার অন্তত এক হাজার টাকা খরচ করতে হবে দর্শকদের। করপোরেট বক্সে বসে খেলা দেখার জন্য গুনতে হবে ১০ হাজার টাকা। অবশ্য একটি টিকিটেই দেখা যাবে দিনের দুটি ম্যাচ। আগামী ৫ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের টিকিটের দাম ও বিক্রির পদ্ধতি চূড়ান্ত করেছে আয়োজকেরা। তবে টিকিটের মূল্য ছাড়াও এবারের আসরে থাকছে প্রযুক্তির নতুন সংযোজন, বিদেশি রেফারি এবং বাংলাদেশের শিরোপা পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা।
আট বছর পর ঢাকায় ফিরছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। মাঠের লড়াইয়ের আগেই আলোচনায় টিকিটের মূল্য, বিক্রির ব্যবস্থাপনা, ভিএআর প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষিণ এশীয় রেফারিদের অনুপস্থিতি।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে অনলাইনে শুরু হচ্ছে টিকিট বিক্রি। দায়িত্ব পেয়েছে টিকিফাই। সাধারণ গ্যালারির টিকিটের দাম ১ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে করপোরেট বক্সে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঝখানে রয়েছে ৪ হাজার টাকার ক্লাব হাউস, ৭ হাজার টাকার ভিআইপি গ্যালারি এবং ৮ হাজার টাকার রেড বক্স।
টিকিটের দাম শুনে অনেকের কাছে বিষয়টি ব্যয়বহুল মনে হতে পারে। বিশেষ করে সাধারণ দর্শকদের জন্য এক হাজার টাকা খরচ করে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখা সহজ সিদ্ধান্ত নয়। তবে সাফ কর্তৃপক্ষের যুক্তি, একটি টিকিটে এক দিনের দুটি ম্যাচ দেখা যাবে। ফলে ম্যাচপ্রতি খরচ পড়বে ৫০০ টাকা। যদিও যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ হিসাব করলে দর্শকদের প্রকৃত ব্যয় আরও বাড়বে।
টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা টিকিফাইয়ের সামনে তাই বড় পরীক্ষা। গত বছর বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ম্যাচের টিকিট বিক্রির সময় ওয়েবসাইটের সমস্যায় ভোগান্তিতে পড়েছিলেন দর্শকেরা। অর্থ পরিশোধ করেও টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এবার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কতটা নির্বিঘ্নে টিকিট বিক্রি করতে পারে, সেটিই দেখার বিষয়।
এবারের সাফে নতুন সংযোজন ভিএআর প্রযুক্তি। সেমিফাইনাল ও ফাইনালে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হবে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ। তবে প্রযুক্তির এই সংযোজনের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার কোনো রেফারিই এবার ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছেন না। ভিএআর পরিচালনায় দক্ষ রেফারি আনা হচ্ছে এই অঞ্চলের বাইরে থেকে।
অন্যদিকে ভারতকে নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তারও অবসান ঘটেছে। সাফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। দলটি কোন পর্যায়ের খেলোয়াড় নিয়ে আসবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ভারত জাতীয় দল নামেই তারা অংশ নেবে।
বাংলাদেশের জন্য এবারের আসর শুধু আয়োজনের নয়, শিরোপা পুনরুদ্ধারেরও সুযোগ। ‘এ’ গ্রুপে স্বাগতিকদের প্রতিপক্ষ ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। ‘বি’ গ্রুপে ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। দুই গ্রুপের শীর্ষ চার দল উঠবে সেমিফাইনালে। ১৪ নভেম্বর শেষ চারের লড়াই শেষে ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
২০০৩ সালে সর্বশেষ সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ, সেটিও নিজেদের মাটিতে। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ট্রফি অধরাই থেকে গেছে লাল-সবুজদের।
























