মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১০:৩৮ অপরাহ্ন | ২৭শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১১ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের: আমিনুল হক

  • হালনাগাদ সময় : ০৯:২৪:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে ১৫ হাজার সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১২ হাজার সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে বরিশাল নগরীর হরিনাফুলিয়া এলাকায় একটি বায়োগ্যাস প্লান্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা ও তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী তৃণমূল পর্যায়ে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বায়োগ্যাসের ব্যবহার বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি জানান, বায়োগ্যাস দিয়ে রান্নাসহ পরিবারের দৈনন্দিন কাজ করা সম্ভব। পাশাপাশি এ গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে একটি পুস্তিকা তৈরির কাজ চলছে।

বরিশাল অঞ্চলে ইতোমধ্যে ৮১টি বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে কিছু ব্যক্তিগত উদ্যোগে, আবার কিছু ঋণের অর্থে তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ প্লান্টে গরুর গোবর ব্যবহার করে গ্যাস উৎপাদন করা হচ্ছে।

তবে গরুর গোবরের পাশাপাশি হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ও অন্যান্য জৈব বর্জ্য ব্যবহার করে বায়োগ্যাস উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাড়িতে তিনটি গরু থাকলেও বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা যেতে পারে। এটি পরিবেশবান্ধব এবং এতে ধোঁয়া হয় না। রান্নার কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি প্লান্ট থেকে উৎপাদিত জৈব সার কৃষিজমিতে প্রয়োগ করা যায়। পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত সার বিক্রি করেও আয় করা সম্ভব।

বায়োগ্যাস শুধু পারিবারিক ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাণিজ্যিকভাবেও সরবরাহ করা সম্ভব বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় সংযোগপ্রতি এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার তথ্য তাঁদের কাছে রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে বায়োগ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্লান্ট স্থাপনে আগ্রহীদের ঋণ দেওয়ার বিষয়েও সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রয়োজনে ১০ লাখ টাকার বেশি ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হবে। ঋণগ্রহীতার লেনদেনের রেকর্ড ভালো হলে ঋণের পরিমাণ আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যথাযথভাবে নির্মাণ করা হলে একটি বায়োগ্যাস প্লান্ট দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। ফলে জ্বালানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জৈব সার উৎপাদনের মাধ্যমেও আর্থিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে যুবকদের মধ্যে ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজবাড়ী শহরে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ী নেতাকে গুলি

27 October 2026

জামালপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রী হত্যা: ১১ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের: আমিনুল হক

হালনাগাদ সময় : ০৯:২৪:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে ১৫ হাজার সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১২ হাজার সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে বরিশাল নগরীর হরিনাফুলিয়া এলাকায় একটি বায়োগ্যাস প্লান্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা ও তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী তৃণমূল পর্যায়ে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বায়োগ্যাসের ব্যবহার বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি জানান, বায়োগ্যাস দিয়ে রান্নাসহ পরিবারের দৈনন্দিন কাজ করা সম্ভব। পাশাপাশি এ গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে একটি পুস্তিকা তৈরির কাজ চলছে।

বরিশাল অঞ্চলে ইতোমধ্যে ৮১টি বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে কিছু ব্যক্তিগত উদ্যোগে, আবার কিছু ঋণের অর্থে তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ প্লান্টে গরুর গোবর ব্যবহার করে গ্যাস উৎপাদন করা হচ্ছে।

তবে গরুর গোবরের পাশাপাশি হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ও অন্যান্য জৈব বর্জ্য ব্যবহার করে বায়োগ্যাস উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাড়িতে তিনটি গরু থাকলেও বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা যেতে পারে। এটি পরিবেশবান্ধব এবং এতে ধোঁয়া হয় না। রান্নার কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি প্লান্ট থেকে উৎপাদিত জৈব সার কৃষিজমিতে প্রয়োগ করা যায়। পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত সার বিক্রি করেও আয় করা সম্ভব।

বায়োগ্যাস শুধু পারিবারিক ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাণিজ্যিকভাবেও সরবরাহ করা সম্ভব বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় সংযোগপ্রতি এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার তথ্য তাঁদের কাছে রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে বায়োগ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্লান্ট স্থাপনে আগ্রহীদের ঋণ দেওয়ার বিষয়েও সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রয়োজনে ১০ লাখ টাকার বেশি ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হবে। ঋণগ্রহীতার লেনদেনের রেকর্ড ভালো হলে ঋণের পরিমাণ আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যথাযথভাবে নির্মাণ করা হলে একটি বায়োগ্যাস প্লান্ট দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। ফলে জ্বালানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জৈব সার উৎপাদনের মাধ্যমেও আর্থিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে যুবকদের মধ্যে ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।

Share this news as a Photo Card