বঙ্গোপসাগরের হিরণপয়েন্ট থেকে ১২৫০ মেট্রিক টন কয়লা বোঝাই করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়া ‘এমভি ফুলবাড়ী’ নামের একটি কার্গো জাহাজ সুন্দরবনের সুন্দরী কোঠা এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ডুবে গেছে। তবে জাহাজে থাকা ১১ জন নাবিক ও কর্মী সাঁতরে চরে উঠে এবং পরবর্তীতে অন্য একটি জাহাজের সহায়তায় অলৌকিকভাবে প্রাণ বাঁচিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোংলা বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়া সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের হিরণপয়েন্টে অবস্থানরত বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ‘ইয়াস জুপিটার’ থেকে কয়লা বোঝাই করে কার্গোটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পথিমধ্যে সোমবার রাতে সুন্দরবনের সুন্দরী কোঠা সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে ‘ওটি জান্নাতুল ফেরদৌস’ নামের অপর একটি কার্গো জাহাজ পেছন বা পাশ থেকে ‘এমভি ফুলবাড়ী’কে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় কয়লা বোঝাই কার্গোটি মুহূর্তের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজের মাস্টার মোঃ সুজন জানান, জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর তারা সাঁতরে সুন্দরবনের চরে আশ্রয় নেন। চরে অবস্থানকালে বাঘের গর্জন শুনতে পাওয়ায় অত্যন্ত আতঙ্কের মধ্যে তাদের সময় কাটাতে হয়। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে খবর পেয়ে ‘এমভি রানিয়া-১৩’ নামের একটি উদ্ধারকারী জাহাজ তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া নাবিক ও কর্মচারীদের মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের মোংলা শাখা কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, উদ্ধারকৃত নাবিকরা বর্তমানে নিরাপদ স্থানে আছেন। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ডুবন্ত জাহাজটি উদ্ধারে কাজ চলছে। এ দুর্ঘটনার কারণে মোংলা বন্দর চ্যানেলে নৌযান চলাচলের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বলে জানান তিনি।

























