মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১০:৩০ অপরাহ্ন | ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

ইয়ামাল-এমবাপেকে পেছনে ফেলে প্রথমবার ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন

  • হালনাগাদ সময় : ১০:৫৯:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

লন্ডনের ঐতিহাসিক প্যালাডিয়াম থিয়েটারে তখন পিনপতন নীরবতা। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদো নাজারিও যখন সোনালী ব্যালন ডি’অর জয়ীর নাম সংবলিত খামটি খুলছিলেন, পুরো মিলনায়তন যেন রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছিল সেই মাহেন্দ্রক্ষণের। খাম খুলে ঘোষণা আসতেই চতুর্দিক প্রকম্পিত করে ধ্বনিত হতে থাকে ‘হ্যারি, হ্যারি’। ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জিতে নিলেন বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন।

তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল এবং রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপের স্বপ্ন ভেঙে ফুটবলের শীর্ষ এই সম্মাননা নিজের করে নিলেন ইংলিশ অধিনায়ক। এই ঐতিহাসিক অর্জনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৫ বছরের খরা কাটাল ইংল্যান্ড। প্রায় আড়াই দশক পর কোনো ইংলিশ পুরুষ ফুটবলারের হাতে উঠল ফুটবলের সর্বোচ্চ এই ব্যক্তিগত স্মারক।

নিজের ঘরের মাঠ লন্ডনের মঞ্চে সোনালী ট্রফি হাতে তুলে নেওয়ার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কেইন। বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, লন্ডনের মাটিতে এই আয়োজন হওয়ায় প্রাপ্তিটা আরও অনেক বেশি স্পেশাল হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, এমন অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন এবং আজকের রাতটি তাঁর জন্য বিশেষ একটি বার্তা নিয়ে এসেছে। কঠিন লড়াইয়ের বছরে যারা তাঁকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কেইন। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশ্বমানের সমস্ত মনোনীত ও বিজয়ী খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সততা, একাগ্রতা ও কঠোর পরিশ্রম যে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিতে পারে, আজকের দিনটি তারই প্রমাণ।

২০২৫-২৬ মৌসুমে অবিশ্বাস্য ফর্ম প্রদর্শন করেছেন ইংল্যান্ডের এই গোলমেশিন। ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ এবং জাতীয় দলের জার্সি গায়ে পুরো মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে একাই করেছেন চোখধাঁধানো ৭৩টি গোল।

যদিও বিচারকেরা কেবল সাম্প্রতিক মৌসুমের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিয়েই ভোট দিয়েছেন, তবে ২০২৩ সালে বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর থেকেই কেইনের ধারাবাহিকতা ছিল অবিস্মরণীয়। জার্মান পরাশক্তিদের হয়ে মাত্র ১৫৮ ম্যাচে ১৫৬ গোল করে ক্লাবটির ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ইতিমধ্যে সপ্তম স্থান দখল করে নিয়েছেন তিনি। মাঠে তাঁর এই অবিশ্বাস্য কার্যকারিতা ও গোলক্ষুধাই শেষ পর্যন্ত তাঁকে বিশ্বসেরার মুকুট এনে দিয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৭২ বাংলাদেশি

28 October 2026

মানুষের মস্তিষ্কে ‘লিজার্ড ব্রেন’ তত্ত্ব: বৈজ্ঞানিক সত্য নাকি শুধুই কল্পকাহিনী?

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

ইয়ামাল-এমবাপেকে পেছনে ফেলে প্রথমবার ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন

হালনাগাদ সময় : ১০:৫৯:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

লন্ডনের ঐতিহাসিক প্যালাডিয়াম থিয়েটারে তখন পিনপতন নীরবতা। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদো নাজারিও যখন সোনালী ব্যালন ডি’অর জয়ীর নাম সংবলিত খামটি খুলছিলেন, পুরো মিলনায়তন যেন রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছিল সেই মাহেন্দ্রক্ষণের। খাম খুলে ঘোষণা আসতেই চতুর্দিক প্রকম্পিত করে ধ্বনিত হতে থাকে ‘হ্যারি, হ্যারি’। ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জিতে নিলেন বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন।

তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল এবং রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপের স্বপ্ন ভেঙে ফুটবলের শীর্ষ এই সম্মাননা নিজের করে নিলেন ইংলিশ অধিনায়ক। এই ঐতিহাসিক অর্জনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৫ বছরের খরা কাটাল ইংল্যান্ড। প্রায় আড়াই দশক পর কোনো ইংলিশ পুরুষ ফুটবলারের হাতে উঠল ফুটবলের সর্বোচ্চ এই ব্যক্তিগত স্মারক।

নিজের ঘরের মাঠ লন্ডনের মঞ্চে সোনালী ট্রফি হাতে তুলে নেওয়ার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কেইন। বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, লন্ডনের মাটিতে এই আয়োজন হওয়ায় প্রাপ্তিটা আরও অনেক বেশি স্পেশাল হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, এমন অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন এবং আজকের রাতটি তাঁর জন্য বিশেষ একটি বার্তা নিয়ে এসেছে। কঠিন লড়াইয়ের বছরে যারা তাঁকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কেইন। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশ্বমানের সমস্ত মনোনীত ও বিজয়ী খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সততা, একাগ্রতা ও কঠোর পরিশ্রম যে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিতে পারে, আজকের দিনটি তারই প্রমাণ।

২০২৫-২৬ মৌসুমে অবিশ্বাস্য ফর্ম প্রদর্শন করেছেন ইংল্যান্ডের এই গোলমেশিন। ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ এবং জাতীয় দলের জার্সি গায়ে পুরো মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে একাই করেছেন চোখধাঁধানো ৭৩টি গোল।

যদিও বিচারকেরা কেবল সাম্প্রতিক মৌসুমের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিয়েই ভোট দিয়েছেন, তবে ২০২৩ সালে বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর থেকেই কেইনের ধারাবাহিকতা ছিল অবিস্মরণীয়। জার্মান পরাশক্তিদের হয়ে মাত্র ১৫৮ ম্যাচে ১৫৬ গোল করে ক্লাবটির ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ইতিমধ্যে সপ্তম স্থান দখল করে নিয়েছেন তিনি। মাঠে তাঁর এই অবিশ্বাস্য কার্যকারিতা ও গোলক্ষুধাই শেষ পর্যন্ত তাঁকে বিশ্বসেরার মুকুট এনে দিয়েছে।

Share this news as a Photo Card