আমন চাষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় রাসায়নিক সার সংগ্রহ করতে গিয়ে কৃষকদের চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। কোথাও ডিলারের দোকানে গিয়ে প্রয়োজনীয় সার মিলছে না, কোথাও দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে চাহিদার তুলনায় সামান্য অংশ। আবার কোনো কোনো প্রত্যন্ত এলাকায় বাধ্য হয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে খোলাবাজার থেকে সার কিনতে হচ্ছে কৃষকদের। খুলনার কয়রা থেকে উত্তরের ঠাকুরগাঁও কিংবা রাজশাহী থেকে সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রাম—জেলায় জেলায় মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রে সারের তীব্র সংকট ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অথচ সরকারি নথিপত্র ও পরিসংখ্যান সম্পূর্ণ বিপরীত এক চিত্র তুলে ধরছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে দেশে সারের কোনো মজুত ঘাটতি নেই। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক তথ্যমতে, চলতি অক্টোবর থেকে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে দেশে সব মিলিয়ে সারের সম্ভাব্য মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে সরকারের হাতে প্রস্তুত সরবরাহের পরিমাণ রয়েছে ৫১ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ সম্ভাব্য জাতীয় চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার টন বেশি সার সরবরাহের পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে।
সেপ্টেম্বর মাসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের গুদামগুলোতে ইউরিয়া ৪ লাখ ১৮ হাজার টন, টিএসপি ৩ লাখ ৪৩ হাজার টন, ডিএপি ৩ লাখ ২ হাজার টন এবং এমওপি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯০০ টন সরাসরি মজুত ছিল। এর বাইরেও নদী ও সড়কপথে পরিবহনের পাইপলাইনে ছিল আরও বিপুল পরিমাণ সার।
জাতীয় পর্যায়ে এমন উদ্বৃত্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও মাঠে কৃষকের হাহাকার কেন—এই প্রশ্ন এখন সর্বত্র। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মাঠপর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সংকটটি সারের মোট মজুতের ঘাটতির কারণে নয়; বরং জেলাভিত্তিক বরাদ্দ নির্ধারণ, কেন্দ্রীয় গুদাম থেকে ডিলারদের সার উত্তোলন, মধ্যবর্তী ডিলার নেটওয়ার্কের নিষ্ক্রিয়তা, পরিবহন জটিলতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে স্থানীয় বিতরণের প্রতিটি ধাপে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা থেকেই এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সরকারের নতুন সার ডিলার নীতিমালা ২০২৬ কার্যকর করার মুহূর্তে পুরোনো ডিলারদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে অনেক ডিলার তাদের নির্ধারিত কোটার বিপরীতে যথাসময়ে গুদাম থেকে সার উত্তোলন না করায় মাঠপর্যায়ে কৃষকের দোরগোড়ায় নিয়মিত সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
খুলনার উপকূলীয় কয়রা উপজেলা এই বাস্তব সংকটের এক জ্বলন্ত উদাহরণ। এই উপজেলায় আমন আবাদি জমির পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর। সেখানে সেপ্টেম্বর মাসে সাতজন অনুমোদিত সার ডিলারের অনুকূলে ৫৩০ টন ইউরিয়া, ৩৫০ টন ডিএপি, ১১৫ টন এমওপি এবং মাত্র ৬ টন টিএসপি বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের অভিমত, মোট আবাদি জমি ও কৃষকের প্রকৃত চাহিদার তুলনায় এই বরাদ্দ ছিল একেবারেই অপ্রতুল। ফলে উপজেলার আমাদী, বাগালী ও মহেশ্বরীপুরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়নে সারের তীব্র সংকট দেখা দেয়।
কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের কৃষক তৌহিদুল সানা ১০ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছেন। ফসলের প্রাথমিক বৃদ্ধির জন্য প্রথম দফায় তাঁর জমিতে অন্তত ১০০ কেজি ইউরিয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু স্থানীয় ডিলারের দোকান থেকে তিনি বরাদ্দ পেয়েছেন মাত্র ৪০ কেজি। বাকি সারের জন্য বিভিন্ন দোকানে ঘুরেও তিনি প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে পারেননি। বাগালী ইউনিয়নের এক খুচরা বিক্রেতা জানান, তাঁর দোকানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ বস্তা ইউরিয়া সারের চাহিদা থাকলেও ডিলার পয়েন্ট থেকে সরবরাহ মিলছে মাত্র ২০ থেকে ২৫ বস্তা। ফলে কৃষকদের উপচে পড়া ভিড় ও ক্ষোভ সামাল দিতে না পেরে অনেক সময় বাধ্য হয়ে দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে কয়রা উপজেলার কৃষকেরা শুধু স্থানীয় বাজারের ওপর নির্ভর করতে পারছেন না; অনেকেই বাড়তি পরিবহন খরচ দিয়ে পাশের উপজেলা থেকে চড়া মূল্যে সার সংগ্রহ করছেন। মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন কৃষক ট্রলার ভাড়া করে নদীপথে পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে সার এনে জমিতে প্রয়োগের উদ্যোগ নিয়েছেন। অর্থাৎ জাতীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে সঠিক সময়ে সার না পাওয়ার কারণে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাচ্ছে এবং আমনের জমিতে সময়মতো সার প্রয়োগ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পরিস্থিতি আরও অদ্ভুত বৈপরীত্যের রূপ নিয়েছে। সেখানে মাঠে কৃষকেরা যখন সারের অভাবে হাহাকার করছেন, তখন মাদারগঞ্জ বিএডিসি গুদামের সামনে দীর্ঘ সময় ধরে ৫৮টি সারবোঝাই ট্রাক পণ্য খালাস করতে না পেরে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকার খবর মিলেছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুদামের প্রকৃত ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত সার একযোগে চলে আসা এবং স্থানীয় ডিলারদের মধ্যে সময়মতো সার বিভাজন ও খালাসের অনুমতি না মেলায় ট্রাকগুলো গুদামের বাইরেই আটকে পড়ে থাকে। মাদারগঞ্জ গুদামের নিজস্ব ধারণক্ষমতা মাত্র ২ হাজার ১০০ মেট্রিক টন হলেও অক্টোবর মাসের জন্য বরাদ্দ এসেছে ৯ হাজার ৫৫৯ মেট্রিক টন। গুদামে আগে থেকেই প্রায় ৭ হাজার টন সার অবিক্রীত বা রক্ষিত থাকায় নতুন সার রাখার মতো কোনো জায়গা অবশিষ্ট ছিল না।
অথচ ঠাকুরগাঁওয়ের মাঠপর্যায়ে কৃষকদের অভিযোগ, ডিলাররা চাহিদামতো সার দিচ্ছেন না এবং বাধ্য হয়ে চড়া মূল্যে সার কিনতে হচ্ছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলাটিতে ইউরিয়ার আনুষ্ঠানিক চাহিদা ৭৮ হাজার ৫৪৪ টন হলেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬৫ হাজার ৯৯৭ টন। একইভাবে টিএসপির চাহিদা ৫৬ হাজার ৩১০ টন হলেও জেলাটিতে বরাদ্দ মিলেছে মাত্র ২১ হাজার ৯২০ টন। অর্থাৎ জাতীয় পর্যায়ে সামগ্রিক মজুতের কথা বারবার বলা হলেও কোনো কোনো সুনির্দিষ্ট জেলায় চাষিদের প্রকৃত চাহিদার তুলনায় বরাদ্দের মধ্যে বিশাল ফারাক তৈরি হয়ে রয়েছে।
একইভাবে রাজশাহী জেলাতেও আমন মৌসুমের সংকট সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসনকে অতিরিক্ত সার চেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে জরুরি চিঠি পাঠাতে হয়েছে। রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর টিএসপি ১ হাজার ৮০০ টন, ডিএপি ২ হাজার টন এবং এমওপি ৮০০ টনসহ মোট ৪ হাজার ৬০০ টন অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছে। জেলার মূল গুদামগুলোতে সার মজুত থাকলেও বিশেষ কয়েকটি সারের মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়।
উত্তরের আরেক জেলা কুড়িগ্রামেও মাঠের বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে সরকার তাদের নিয়মিত মাসিক কোটার বাইরে অতিরিক্ত ৫০০ টন ইউরিয়া বরাদ্দ দিয়েছে। আমন মৌসুমে সৃষ্ট কৃত্রিম সংকট নিরসন এবং ফসল উৎপাদন স্বাভাবিক রাখাই ছিল এই জরুরি অতিরিক্ত বরাদ্দের মূল উদ্দেশ্য।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় স্পষ্ট যে সংকটের ধরন সব জেলায় একরকম নয়। কোথাও চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ কম, কোথাও বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও ডিলাররা গুদাম থেকে সার তুলছেন না, কোথাও ডিলার পয়েন্টের সংখ্যা অপ্রতুল, আবার কোথাও গুদাম থেকে খুচরা দোকানে পণ্য পৌঁছানোর সামগ্রিক পরিবহনে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আগস্ট মাসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গাজীপুর জেলায় ইউরিয়ার মাসিক বরাদ্দ ১ হাজার ৮৭৬ টন হলেও মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত প্রান্তিক কৃষকের হাতে পৌঁছেছে মাত্র ৮০০ টন। একইভাবে নরসিংদী জেলায় ২ হাজার ৫৫৩ টন বরাদ্দের বিপরীতে চাষিদের কাছে বিতরণ করা সম্ভব হয়েছিল মাত্র ৯১৯ টন।
সরকারের প্রবর্তিত নতুন ডিলার নীতিমালাও মাঠের এই অস্থিরতার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ সালের সমন্বিত ডিলার নীতিমালার মাধ্যমে সার বণ্টন ব্যবস্থায় কাঠামোগত স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যার লক্ষ্য ছিল অতীতের রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়ম দূর করা। তবে আমন আবাদের ভরা মৌসুমে এই সংবেদনশীল ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনায় মাঠপর্যায়ে পুরোনো ডিলারদের অনেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন, যার সরাসরি ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে সাধারণ কৃষকদের ওপর।
এর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে এক শ্রেণির অসাধু সিন্ডিকেটের অবৈধ মজুতদারি, কৃত্রিম সংকটের গুজব ছড়িয়ে বেশি দামে সার বিক্রি এবং সীমান্ত বা এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চোরাইপথে সার সরিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকেরা টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের ক্ষেত্রে বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় পর্যায়ে কোনো ঘাটতি থাকার কথা বরাবরই অস্বীকার করা হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য হলো, দেশে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি সার মজুত রয়েছে এবং কোথাও স্থানীয় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে জেলাভিত্তিক চাহিদার বিপরীতে টিএসপি, ডিএপি ও এমওপির শতভাগ বরাদ্দের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভবিষ্যতের জাতীয় সরবরাহ নিরাপদ রাখতে সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকেও নতুন করে সার আমদানির বড় বড় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। গত ১ অক্টোবর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে ১ লাখ ১০ হাজার টন ইউরিয়া এবং ১ লাখ ৫০ হাজার টন টিএসপি আমদানির প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। এর মধ্যে দেশীয় প্রতিষ্ঠান কাফকো থেকে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া ছাড়াও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪০ হাজার টন করে ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। পাশাপাশি মরক্কো থেকেও কয়েক ধাপে টিএসপি আমদানির বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরকারের এসব জোরালো পদক্ষেপে এটি স্পষ্ট যে কাগজে-কলমে জাতীয় মজুত ধরে রাখতে আমদানি কার্যক্রম সচল রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের রূঢ় বাস্তবতা হলো, শুধু কেন্দ্রীয় গুদামে স্তূপীকৃত বস্তা থাকলেই কৃষকের সংকট দূর হয় না। ফসল বোনার উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় সারটি কৃষকের বাড়ির কাছের ডিলারের দোকানে সহজলভ্য হতে হবে এবং তা নির্ধারিত সরকারি মূল্যে কৃষকের হাতে পৌঁছাতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় পরিহাস ও বৈপরীত্য এখানেই—একদিকে রাষ্ট্রীয় গুদামে লাখ লাখ টন সার মজুত রয়েছে এবং গুদামের সামনে সারবোঝাই ট্রাকের দীর্ঘ জট লেগে আছে; অন্যদিকে সাধারণ কৃষককে মাত্র এক বস্তা সারের খোঁজে মাইলের পর মাইল দূরের বাজারে কিংবা ট্রলার ভাড়া করে অন্য উপজেলায় ছুটতে হচ্ছে।
কৃষিতে এই কালক্ষেপণ ও সরবরাহ সংকটের চূড়ান্ত মাশুল গুনতে হয় নিঃস্ব কৃষককেই। আমন ধানের জমিতে নির্দিষ্ট দিনে ইউরিয়া কিংবা পটাশ সার প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হলে ফসলের স্বাভাবিক ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর খোলাবাজার থেকে চড়া দামে সার কিনতে বাধ্য হলে উৎপাদন খরচ একলাফে বেড়ে যায়, যার চূড়ান্ত ক্ষতিকর প্রভাব পরবর্তীতে পড়বে চালের সার্বিক উৎপাদন ব্যয় এবং দেশের সার্বিক খাদ্য মূল্যস্ফীতির ওপর।
তাই সারের চলমান সংকট স্থায়ীভাবে মোকাবিলায় এখন মূল প্রশ্ন নিছক জাতীয় মজুতের পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ থাকা নয়। বরং কোন জেলায় কতটুকু সার বরাদ্দ হলো, তার কত শতাংশ গুদাম থেকে উত্তোলন করা হলো, কতটুকু খুচরা ডিলারের দোকানে গেল এবং শেষ পর্যন্ত প্রকৃত চাষির হাতে কত বস্তা পৌঁছাল—এই পুরো সাপ্লাই চেইনের নিখুঁত তদারকি প্রকাশ্যে আনা জরুরি। কারণ কেন্দ্রীয় গুদাম সারে পূর্ণ থাকার পরও যদি কৃষকের জমিতে সময়মতো সার না পৌঁছায়, তবে নথিপত্রে সরবরাহ স্বাভাবিক দাবি করা হলেও মাঠের এই তীব্র হাহাকার সম্পূর্ণ বাস্তব ও বিপজ্জনক এক সত্য হয়েই থেকে যাবে।


























