ঢাকা ০২:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

জয়সওয়ালের সেঞ্চুরিতে উড়ে গেলো প্রোটিয়ারা, সিরিজ ভারতের

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের তৃতীয় ওয়ানডে হয়ে দাঁড়িয়েছিল সিরিজ নির্ধারণী। তাতে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে একপেশে জয় এনে দিয়েছেন ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল। তার সেঞ্চুরিতে ভর করেই ভারত ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে প্রোটিয়াদের হারিয়েছে। তাতে তিন ম্যাচের সিরিজ ২–১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা।

২৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতকে প্রায় একাই টেনে নেন জয়সওয়াল। অপরাজিত ১১৬ রানের ইনিংস খেলেছেন। তার সঙ্গে ওপেনিংয়ে ভিত গড়ে দেন রোহিত শর্মা। তার ব্যাট থেকে আসে ৭৫ রান। দুজন মিলে ১৫৫ রানের জুটি গড়েন। তার পর বিরাট কোহলি জয়সওয়ালের সঙ্গী হলে ভারত ১০.১ ওভার হাতে রেখেই লক্ষ্য টপকেছে। কোহলি ৪৫ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন। জয়সওয়ালের ১২১ বলের ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও ২টি ছয়। কোহলি-জয়সওয়াল অবিচ্ছিন্ন ছিলেন ১১৬ রানে। 

জয়সওয়ালের শুরুটা যদিও ছিল ধীরগতির। রোহিতই শুরুতে আক্রমণের দায়িত্ব নেন এবং তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৬১তম ওয়ানডে অর্ধশতক। এ ইনিংসেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০ হাজার রান ছুঁয়ে ফেলেন। শচীন টেন্ডুলকার, বিরাট কোহলি ও রাহুল দ্রাবিড়ের পর চতুর্থ ভারতীয় হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত কেশব মহারাজের ঘূর্ণিতে থামে রোহিতের ৭৩ বলের ইনিংস। অন্যদিকে জয়সওয়াল নিজের হাফসেঞ্চুরির পরই গতি বাড়িয়ে একের পর এক বাউন্ডারি তুলতে থাকেন।

এই ম্যাচকে ভারতের আয়ত্তে এনে দিতে মূল অবদান স্বাগতিক বোলারদের। বাঁহাতি কুলদীপ যাদব ও পেসার প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ দুজনই নেন ৪টি করে উইকেট। তাদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৪৭.৫ ওভারে ২৭০ রানেই থেমে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

অথচ টস হেরেও শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভালো শুরু এনে দিয়েছিলেন ওপেনার কুইন্টন ডি কক। ৮৯ বলে ১০৬ রানে ভারতের বিপক্ষে নিজের সপ্তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন। ৮টি চার ও ৬টি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসে ভর করেই প্রোটিয়াদের স্কোর একসময় ছিল ২ উইকেটে ১৬৮! তখন বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখছিল তারা। কিন্তু সফরকারীদের লাগাম টেনে ধরেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। এক ওভারেই ম্যাথিউ ব্রিটজকে (২৪) ও এইডেন মারক্রামকে (১) ফিরিয়ে দেন তিনি। তারপর ডি কককেও বোল্ড করে ইনিংসের গতি থামিয়ে দেন। ডেওয়াল্ড ব্রেভিস (২৯) ও মার্কো ইয়ানসেন (১৭) কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও কুলদীপ এক ওভারেই দুজনকে ফেরালে আবার ভাঙে প্রতিরোধ।

শেষ পর্যন্ত মহারাজ ২০ রানে অপরাজিত থাকলেও বাকি ব্যাটাররা বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হলে ২৭০ রানে থামে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। 

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

জয়সওয়ালের সেঞ্চুরিতে উড়ে গেলো প্রোটিয়ারা, সিরিজ ভারতের

আপডেট সময় : ১০:৫১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের তৃতীয় ওয়ানডে হয়ে দাঁড়িয়েছিল সিরিজ নির্ধারণী। তাতে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে একপেশে জয় এনে দিয়েছেন ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল। তার সেঞ্চুরিতে ভর করেই ভারত ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে প্রোটিয়াদের হারিয়েছে। তাতে তিন ম্যাচের সিরিজ ২–১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা।

২৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতকে প্রায় একাই টেনে নেন জয়সওয়াল। অপরাজিত ১১৬ রানের ইনিংস খেলেছেন। তার সঙ্গে ওপেনিংয়ে ভিত গড়ে দেন রোহিত শর্মা। তার ব্যাট থেকে আসে ৭৫ রান। দুজন মিলে ১৫৫ রানের জুটি গড়েন। তার পর বিরাট কোহলি জয়সওয়ালের সঙ্গী হলে ভারত ১০.১ ওভার হাতে রেখেই লক্ষ্য টপকেছে। কোহলি ৪৫ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন। জয়সওয়ালের ১২১ বলের ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও ২টি ছয়। কোহলি-জয়সওয়াল অবিচ্ছিন্ন ছিলেন ১১৬ রানে। 

জয়সওয়ালের শুরুটা যদিও ছিল ধীরগতির। রোহিতই শুরুতে আক্রমণের দায়িত্ব নেন এবং তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৬১তম ওয়ানডে অর্ধশতক। এ ইনিংসেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০ হাজার রান ছুঁয়ে ফেলেন। শচীন টেন্ডুলকার, বিরাট কোহলি ও রাহুল দ্রাবিড়ের পর চতুর্থ ভারতীয় হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত কেশব মহারাজের ঘূর্ণিতে থামে রোহিতের ৭৩ বলের ইনিংস। অন্যদিকে জয়সওয়াল নিজের হাফসেঞ্চুরির পরই গতি বাড়িয়ে একের পর এক বাউন্ডারি তুলতে থাকেন।

এই ম্যাচকে ভারতের আয়ত্তে এনে দিতে মূল অবদান স্বাগতিক বোলারদের। বাঁহাতি কুলদীপ যাদব ও পেসার প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ দুজনই নেন ৪টি করে উইকেট। তাদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৪৭.৫ ওভারে ২৭০ রানেই থেমে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

অথচ টস হেরেও শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভালো শুরু এনে দিয়েছিলেন ওপেনার কুইন্টন ডি কক। ৮৯ বলে ১০৬ রানে ভারতের বিপক্ষে নিজের সপ্তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন। ৮টি চার ও ৬টি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসে ভর করেই প্রোটিয়াদের স্কোর একসময় ছিল ২ উইকেটে ১৬৮! তখন বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখছিল তারা। কিন্তু সফরকারীদের লাগাম টেনে ধরেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। এক ওভারেই ম্যাথিউ ব্রিটজকে (২৪) ও এইডেন মারক্রামকে (১) ফিরিয়ে দেন তিনি। তারপর ডি কককেও বোল্ড করে ইনিংসের গতি থামিয়ে দেন। ডেওয়াল্ড ব্রেভিস (২৯) ও মার্কো ইয়ানসেন (১৭) কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও কুলদীপ এক ওভারেই দুজনকে ফেরালে আবার ভাঙে প্রতিরোধ।

শেষ পর্যন্ত মহারাজ ২০ রানে অপরাজিত থাকলেও বাকি ব্যাটাররা বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হলে ২৭০ রানে থামে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস।