মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৬:১২ অপরাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

বরিশালে ফল ও শাকসবজি থেকে প্রাকৃতিক খাদ্যরং তৈরি করে তাক লাগালেন নারী উদ্যোক্তা

  • হালনাগাদ সময় : ০৭:০০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

বরিশালে প্রথমবারের মতো ফল ও শাকসবজি থেকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্যরং (ন্যাচারাল ফুড কালার) তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নারী উদ্যোক্তা জান্নাতুল ফেরদৌস। কৃত্রিম কেমিক্যালের পরিবর্তে দেশীয় ফল, শাকসবজি, গাছের ছাল ও ফুলের রস ব্যবহার করে খাবারে এই নিরাপদ রং তৈরি করা হয়েছে। এরই মধ্যে এই অভিনব পদ্ধতিতে পিঠা, লাড্ডু, কেক ও ক্যান্ডিসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরি করে সফল হয়েছেন তিনি। তার এই উদ্ভাবনী কাজে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেছে বরিশাল বিভাগীয় কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।

উদ্ভাবনী এই উদ্যোগের সাফল্য নিয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের সাথে মতবিনিময় করেছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এ সময় তরুণ এই উদ্যোক্তার কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ।

উদ্যোক্তা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, তিনি নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন সংস্থার বরিশাল জেলার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৬ সালে যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্লক-বাটিকের কাজ শুরু করলেও শখের বশে রান্নার প্রতিও ঝোঁক ছিল তার। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে গাজীপুরের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে আচার, জিংক, জেলি, বিস্কুট ও মসলা তৈরির ওপর উন্নত প্রশিক্ষণ নেন। এরপর ২০২৫ সালে বরিশালের নারীদের স্বাবলম্বী করতে নিজ উদ্যোগে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করেন তিনি। ওই বছরই বরিশাল নগরীর কাউনিয়া এলাকায় ‘জে টেস্টি নেস্ট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সেখানে ড্রাগন ফল, অপরাজিতা ফুল, গাজর, জবা ফুল, বিটরুট, পালং শাক ও পুঁই শাকের মতো দেশীয় উপাদান থেকে প্রাকৃতিক রং তৈরি করে তা দিয়ে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য প্রস্তুত করছেন তিনি।

জান্নাতুল ফেরদৌস আরও জানান, বর্তমানে উদ্ভাবিত এই ফুড কালারের স্থায়িত্বকাল বা মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ দিন, যার পর এর গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। এই রঙের স্থায়িত্ব আরও বাড়াতে পারলে তা বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা সম্ভব হবে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর যদি এ বিষয়ে আরও গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রদান করে, তবে প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহার বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং এর একটি টেকসই বাজার গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আসামি হাজিরা ডিজিটাল করা গেলে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে: আইনমন্ত্রী

29 October 2026

শাহজালালে দুই চীনা যাত্রীর অন্তর্বাসে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

বরিশালে ফল ও শাকসবজি থেকে প্রাকৃতিক খাদ্যরং তৈরি করে তাক লাগালেন নারী উদ্যোক্তা

হালনাগাদ সময় : ০৭:০০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

বরিশালে প্রথমবারের মতো ফল ও শাকসবজি থেকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্যরং (ন্যাচারাল ফুড কালার) তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নারী উদ্যোক্তা জান্নাতুল ফেরদৌস। কৃত্রিম কেমিক্যালের পরিবর্তে দেশীয় ফল, শাকসবজি, গাছের ছাল ও ফুলের রস ব্যবহার করে খাবারে এই নিরাপদ রং তৈরি করা হয়েছে। এরই মধ্যে এই অভিনব পদ্ধতিতে পিঠা, লাড্ডু, কেক ও ক্যান্ডিসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরি করে সফল হয়েছেন তিনি। তার এই উদ্ভাবনী কাজে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেছে বরিশাল বিভাগীয় কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।

উদ্ভাবনী এই উদ্যোগের সাফল্য নিয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের সাথে মতবিনিময় করেছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এ সময় তরুণ এই উদ্যোক্তার কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ।

উদ্যোক্তা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, তিনি নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন সংস্থার বরিশাল জেলার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৬ সালে যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্লক-বাটিকের কাজ শুরু করলেও শখের বশে রান্নার প্রতিও ঝোঁক ছিল তার। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে গাজীপুরের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে আচার, জিংক, জেলি, বিস্কুট ও মসলা তৈরির ওপর উন্নত প্রশিক্ষণ নেন। এরপর ২০২৫ সালে বরিশালের নারীদের স্বাবলম্বী করতে নিজ উদ্যোগে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করেন তিনি। ওই বছরই বরিশাল নগরীর কাউনিয়া এলাকায় ‘জে টেস্টি নেস্ট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সেখানে ড্রাগন ফল, অপরাজিতা ফুল, গাজর, জবা ফুল, বিটরুট, পালং শাক ও পুঁই শাকের মতো দেশীয় উপাদান থেকে প্রাকৃতিক রং তৈরি করে তা দিয়ে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য প্রস্তুত করছেন তিনি।

জান্নাতুল ফেরদৌস আরও জানান, বর্তমানে উদ্ভাবিত এই ফুড কালারের স্থায়িত্বকাল বা মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ দিন, যার পর এর গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। এই রঙের স্থায়িত্ব আরও বাড়াতে পারলে তা বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা সম্ভব হবে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর যদি এ বিষয়ে আরও গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রদান করে, তবে প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহার বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং এর একটি টেকসই বাজার গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Share this news as a Photo Card