ঢাকা ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

সিরাজগঞ্জে কোরবানির পশুর হাট জমজমাট, বিক্রি হবে ৩৫০ কোটি টাকার গরু

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর প্রস্তুতিতে সিরাজগঞ্জ জেলা এখন সরগরম। জেলার প্রায় ১৭ হাজার খামারে দেশীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হয়েছে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩টি গবাদিপশু, যার মধ্যে প্রায় ২ লাখ ষাঁড় রয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এসব পশুর বাজারমূল্য প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা।

খামারিরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গবাদিপশুর খাদ্য নির্বাচন, গোসল করানো এবং পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। অধিক লাভের আশায় তারা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। ধানের খড়, সবুজ ঘাস, ভুসি, খৈল ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার খাইয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। শুধু জেলার চাহিদা পূরণ নয়, প্রতি বছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন জেলার পশুর হাটে যাবে সিরাজগঞ্জের গরু। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা খামারগুলোতে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৩ সালে শাহজাদপুরে মিল্কভিটার দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সিরাজগঞ্জে গবাদিপশুর খামার গড়ে ওঠে। সময়ের সাথে সাথে এই খাত জেলার অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হয়েছে। এ বছর দেশীয় জাতের পাশাপাশি শাহিওয়াল, ফ্রিজিয়ান, নেপালি ঘির, রাজস্থানি ও অস্ট্রেলিয়ান জাতের গবাদিপশুও লালন-পালন করা হয়েছে।

তবে এই সম্ভাবনাময় খাতের বড় দুশ্চিন্তা উৎপাদন ব্যয়। চলতি বছরে গরুর খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খামারিদের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সরিষার খৈল প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, গমের ভুসি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, ডাবরি ভুসি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং কাঁচা ঘাসের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। ফলে গরু পালন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদ উদযাপনের মধ্যে মর্মান্তিক ঘটনা: গলায় মাংস আটকে কিশোরের মৃত্যু

সিরাজগঞ্জে কোরবানির পশুর হাট জমজমাট, বিক্রি হবে ৩৫০ কোটি টাকার গরু

আপডেট সময় : ১১:৫১:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর প্রস্তুতিতে সিরাজগঞ্জ জেলা এখন সরগরম। জেলার প্রায় ১৭ হাজার খামারে দেশীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হয়েছে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩টি গবাদিপশু, যার মধ্যে প্রায় ২ লাখ ষাঁড় রয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এসব পশুর বাজারমূল্য প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা।

খামারিরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গবাদিপশুর খাদ্য নির্বাচন, গোসল করানো এবং পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। অধিক লাভের আশায় তারা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। ধানের খড়, সবুজ ঘাস, ভুসি, খৈল ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার খাইয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। শুধু জেলার চাহিদা পূরণ নয়, প্রতি বছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন জেলার পশুর হাটে যাবে সিরাজগঞ্জের গরু। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা খামারগুলোতে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৩ সালে শাহজাদপুরে মিল্কভিটার দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সিরাজগঞ্জে গবাদিপশুর খামার গড়ে ওঠে। সময়ের সাথে সাথে এই খাত জেলার অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হয়েছে। এ বছর দেশীয় জাতের পাশাপাশি শাহিওয়াল, ফ্রিজিয়ান, নেপালি ঘির, রাজস্থানি ও অস্ট্রেলিয়ান জাতের গবাদিপশুও লালন-পালন করা হয়েছে।

তবে এই সম্ভাবনাময় খাতের বড় দুশ্চিন্তা উৎপাদন ব্যয়। চলতি বছরে গরুর খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খামারিদের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সরিষার খৈল প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, গমের ভুসি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, ডাবরি ভুসি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং কাঁচা ঘাসের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। ফলে গরু পালন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।