পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের খুব কাছেই নিজ জন্মভিটায় নতুন ঘর নির্মাণ করছেন জয়া। তবে, মধ্যবয়সি জয়া ও তার পরিবারের মনে ভয়, এই নতুন ঘরে তাদের বসবাস ক্ষণস্থায়ী হতে পারে রূপপুরের কারণে। তিনি বলেন, ‘অনেকে বলে শুনি, এ বিদ্যুৎ চালু হলে এখানে থাকতে পারবে না গরমের তাপে।’ জয়ার মতো জেলেপল্লি মাছুয়াপাড়ার অধিকাংশ মানুষই রূপপুর নিয়ে এক ধরনের ভয়-ভীতির মধ্যে আছেন। পাড়া ঘুরে অনেকের মধ্যেই রূপপুর নিয়ে নানা ভ্রান্ত ধারণা ও উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে। নানা ধরনের গুজব ও অপপ্রচার শুনে সেখানে আতঙ্কের দিকটাই বেশি দেখা যাচ্ছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হবে কিনা, এই ভয় অনেকের মনেই কাজ করছে। ‘ভবিষ্যতে সন্তান বিকলাঙ্গ হবে, গরু-বাছুর থাকবে না’ – লোকমুখে এমন অপপ্রচারও ছড়িয়েছে। সাধারণত পারমাণবিক দুর্ঘটনা থেকে ব্যাপকভাবে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে না পড়লে এ ধরনের কোনো সংকট হওয়ার সুযোগ নেই। পরমাণু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তির বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্ঘটনা এবং পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অত্যন্ত সীমিত। স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ ধারণা পেয়েছেন যে রূপপুরের কারণে ভয়ের কিছু নেই, কিন্তু তার পরও তারা শতভাগ নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না।
পাড়ার অনেকে জানান, বিদ্যুৎ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বা সরকারের পক্ষ থেকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বা তাদের ভীতি দূর করতে কখনো কেউ তাদের সাথে যোগাযোগ করেনি। তাদেরও ডেকে কখনো সচেতন করা হয়নি। পাকশী রেল স্টেশনের কাছে মো: তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে আর কোথাও এটা (পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র) নাই, এ জন্য ভয়-ভীতি বেশি। অনেকে ঘরবাড়ি বানাচ্ছে না, চালু হওয়ার পর নিশ্চিত হয়ে দালানকোঠা বানাবেন।’ সাধারণত পারমাণবিক কেন্দ্রে দুর্ঘটনা ঘটলে যদি রেডিয়েশন বা তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, তবে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ভীতি কাজ করে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে রূপপুরের নিকটবর্তী এলাকার মানুষ ছাড়াও বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের মধ্যেও এ ধরনের ভয়-ভীতি কাজ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ নিয়ে গবেষণা করছেন, যা এই বিষয়ে আরও তথ্যের আলোকপাত করতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 


















