ঢাকা ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

চা-শ্রমিকদের বঞ্চনা ও শোষণ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্চস্থ হলো পথনাটক ‘১৭০ টাকা’

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চা-শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, শোষণ এবং তাদের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে একটি পথনাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। নাটকটির নাম ‘১৭০ টাকা’, যা চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরির প্রতীক।

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সংলগ্ন পায়রা চত্বরে বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের সাংস্কৃতিক কর্মীদের অংশগ্রহণে নাটকটি পরিবেশিত হয়। আয়োজকদের মতে, এই প্রযোজনার মাধ্যমে তারা একটি অস্বস্তিকর অথচ বাস্তব সত্য দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছেন।

নাটকের শুরুতে ‘চল মিনি আসাম যাবো, দেশে বড় দুখ রে’ গানের মাধ্যমে চা-শ্রমিকদের ইতিহাস ও বঞ্চনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়। এরপর নাটকের বিভিন্ন পর্যায়ে শ্রমিকদের প্রতিদিনের কঠোর সংগ্রাম, অপ্রতুল মজুরি, স্বাস্থ্যঝুঁকি, শিক্ষাবঞ্চনা এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা দাসত্বসদৃশ জীবনযাপনের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়।

নাটকের মাঝামাঝি সময়ে ‘মালিক সম্প্রদায়’-এর প্রতীকী চরিত্রের উপস্থিতির মাধ্যমে চা-বাগানের শ্রমিকদের ওপর চলমান নিপীড়ন ও শোষণব্যবস্থাকে দৃশ্যমান করা হয়। পুরো নাটকজুড়ে সংলাপ, সংগীত ও প্রতীকী উপস্থাপনার মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনসংগ্রামকে জীবন্ত করে তুলেন শিল্পীরা। নাটকটি ‘ও আলোর পথযাত্রী, এ যে রাত্রী, এখানে থেমো না’ গানের মাধ্যমে শেষ হয়, যা সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার বার্তা বহন করে।

নাটকটির লেখক ও নির্দেশক মুবাশ্বির মাহমুদ নিবিড় বলেন, দেশের অন্যতম পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে চা-শ্রমিকরা এখনো ন্যূনতম মানবিক জীবন থেকেও বঞ্চিত। তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার- সব ক্ষেত্রেই তারা বৈষম্যের শিকার। আমরা সংস্কৃতির মানুষ হিসেবে প্রশ্ন তুলতে চাই, আর সেই প্রশ্নের উত্তর রাষ্ট্র ও সমাজকেই দিতে হবে।’

নাটকের মাধ্যমে চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন আয়োজকরা। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে, ন্যায্য ও বাস্তবসম্মত মজুরি কাঠামো প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ মাতৃত্বকালীন সুবিধা চালু করা, চা-বাগানের শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং শ্রমিকদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার ও জমির মালিকানা নিশ্চিত করা।

নাটকে অভিনয় করা ওহিদুজ্জামান টনি বলেন, চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কোনো দয়া বা সহানুভূতির বিষয় নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও তারা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপির দায়ে শপথ নিতে পারবেন না আসলাম চৌধুরী: আদালতের রায়ের পর তৃণমূল নেতাকর্মীদের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া

চা-শ্রমিকদের বঞ্চনা ও শোষণ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্চস্থ হলো পথনাটক ‘১৭০ টাকা’

আপডেট সময় : ১১:০৩:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চা-শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, শোষণ এবং তাদের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে একটি পথনাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। নাটকটির নাম ‘১৭০ টাকা’, যা চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরির প্রতীক।

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সংলগ্ন পায়রা চত্বরে বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের সাংস্কৃতিক কর্মীদের অংশগ্রহণে নাটকটি পরিবেশিত হয়। আয়োজকদের মতে, এই প্রযোজনার মাধ্যমে তারা একটি অস্বস্তিকর অথচ বাস্তব সত্য দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছেন।

নাটকের শুরুতে ‘চল মিনি আসাম যাবো, দেশে বড় দুখ রে’ গানের মাধ্যমে চা-শ্রমিকদের ইতিহাস ও বঞ্চনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়। এরপর নাটকের বিভিন্ন পর্যায়ে শ্রমিকদের প্রতিদিনের কঠোর সংগ্রাম, অপ্রতুল মজুরি, স্বাস্থ্যঝুঁকি, শিক্ষাবঞ্চনা এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা দাসত্বসদৃশ জীবনযাপনের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়।

নাটকের মাঝামাঝি সময়ে ‘মালিক সম্প্রদায়’-এর প্রতীকী চরিত্রের উপস্থিতির মাধ্যমে চা-বাগানের শ্রমিকদের ওপর চলমান নিপীড়ন ও শোষণব্যবস্থাকে দৃশ্যমান করা হয়। পুরো নাটকজুড়ে সংলাপ, সংগীত ও প্রতীকী উপস্থাপনার মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনসংগ্রামকে জীবন্ত করে তুলেন শিল্পীরা। নাটকটি ‘ও আলোর পথযাত্রী, এ যে রাত্রী, এখানে থেমো না’ গানের মাধ্যমে শেষ হয়, যা সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার বার্তা বহন করে।

নাটকটির লেখক ও নির্দেশক মুবাশ্বির মাহমুদ নিবিড় বলেন, দেশের অন্যতম পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে চা-শ্রমিকরা এখনো ন্যূনতম মানবিক জীবন থেকেও বঞ্চিত। তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার- সব ক্ষেত্রেই তারা বৈষম্যের শিকার। আমরা সংস্কৃতির মানুষ হিসেবে প্রশ্ন তুলতে চাই, আর সেই প্রশ্নের উত্তর রাষ্ট্র ও সমাজকেই দিতে হবে।’

নাটকের মাধ্যমে চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন আয়োজকরা। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে, ন্যায্য ও বাস্তবসম্মত মজুরি কাঠামো প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ মাতৃত্বকালীন সুবিধা চালু করা, চা-বাগানের শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং শ্রমিকদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার ও জমির মালিকানা নিশ্চিত করা।

নাটকে অভিনয় করা ওহিদুজ্জামান টনি বলেন, চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কোনো দয়া বা সহানুভূতির বিষয় নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও তারা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।’