ভারত বিশ্বমঞ্চে শান্তি, সংলাপ এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করতে সচেষ্ট। দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব প্রায়ই ‘বিশ্ব একটি পরিবার’ বা সবার বিকাশ ও বিশ্বাসের কথা প্রচার করে থাকে। কূটনীতি ও সংলাপের ওপর জোর দেওয়ার কথা বললেও প্রশ্ন উঠেছে যে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দেশটির বাস্তব আচরণ এই বার্তার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের কৌশলগত ও আদর্শিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নেপালে ধর্মীয় সহাবস্থানের দীর্ঘ ইতিহাস থাকলেও, সেখানে ভারতের বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের তৎপরতা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দেশটির সাংবিধানিক পরিবর্তন বা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংকটের সময় হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা দেখা গেছে। অতীতে অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে নেপালকে চাপে ফেলার অভিযোগও রয়েছে দিল্লির বিরুদ্ধে। এর মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিজেদের কৌশলগত ও রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতাই প্রকাশ পায়।
মূল সমস্যাটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে কেন্দ্র করে নয়, বরং ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ধারণায় যখন উগ্র হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, তখন তার প্রভাব পড়ে আঞ্চলিক কূটনীতিতে। যখন এই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক এজেন্ডা প্রতিবেশীদের ওপর প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন তা কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই ক্ষুণ্ন করে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের শান্তির বাণীকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।


























