বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে দেখা গেছে, বাংলাদেশে জ্বালানি ও সারের ভর্তুকি এবং সামাজিক সুরক্ষার পেছনে প্রতি বছর জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বা ১৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার খরচ হলেও তার বড় একটি অংশের সুফল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাচ্ছে না। প্রত্যক্ষ কর ও সরকারি সহায়তায় বৈষম্য এবং দারিদ্র্য সাময়িকভাবে কিছুটা কমলেও পরোক্ষ করের চাপে তা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ফলে দারিদ্র্যরেখার ঠিক ওপরে থাকা প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ সামান্য অর্থনৈতিক ধাক্কাতেই দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন।
বর্তমানে দেশে ২৫টি মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে ৯০টি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি। এসব কর্মসূচির আলাদা আলাদা শর্ত, উপকারভোগীর তালিকা এবং বিতরণব্যবস্থা রয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ২ দশমিক ১ শতাংশ। তবে এই বরাদ্দের প্রায় ৪৩ শতাংশ ব্যয় হয় সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ও কৃষি ভর্তুকি খাতে।
তথ্যানুযায়ী, হতদরিদ্রদের জন্য নির্ধারিত ৪৮টি কর্মসূচি পায় মোট বরাদ্দের মাত্র ৩৯ শতাংশ। এর মধ্যে অর্ধেক অর্থ চলে যায় ফ্যামিলি কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার মতো প্রধান চারটি কর্মসূচিতে।
পরিকল্পনা ও বণ্টনের এই দুর্বলতার কারণে দেশের সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেক সামাজিক সুরক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বিপরীতে সবচেয়ে ধনী অংশের ৩১ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো সরকারি সহায়তার সুবিধা নিচ্ছেন। হতদরিদ্রদের জন্য নির্ধারিত কর্মসূচিগুলো থেকে সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ মানুষের বড় অংশ বঞ্চিত থাকলেও সচ্ছল শ্রেণির একটি অংশ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে সুবিধা ভোগ করছে।

























