মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১০:০০ পূর্বাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে সরকার ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিচ্ছে

  • হালনাগাদ সময় : ০৯:১৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

সরকার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিচ্ছে। এ জন্য ১০ বছর মেয়াদি শরীয়াহ ভিত্তিক সুকুক (ইসলামী বন্ড) ইস্যু করা হচ্ছে। নতুন গঠিত ব্যাংকটির জন্য এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ, যেখানে বছরে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ মুনাফা পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, গত ৭ ও ৮ জানুয়ারি ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদের সভাপতিত্বে গঠিত শরীয়াহ অ্যাডভাইজরি কমিটি সুকুক ইস্যু বিষয়ক সভা করে। সভায় সদস্যরা ইজারা পদ্ধতিতে এ সুকুক ইস্যু করার বিষয়ে একমত হন।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য গণপূর্ত অধিদফতরের সাতটি আবাসন প্রকল্প এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের কিছু নির্দিষ্ট ট্রেন সেবা এই সুকুকের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। ‘বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট স্পেশাল সুকুক-১’ নামের এই সুকুক প্রাইভেট প্লেসমেন্ট পদ্ধতিতে সরাসরি ব্যাংকের কাছে ইস্যু করা হবে। সরকার আগামী ১৪ জানুয়ারি ব্যাংক থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা গ্রহণ করবে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলেন, সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে সরকার উন্নয়ন প্রকল্পে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি সুদবিহীন দীর্ঘমেয়াদি তহবিল তৈরি করতে পারবে। একইসঙ্গে এটি ইসলামী ব্যাংকিং খাতের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে কাজ করবে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের পেছনে রয়েছে আগের সংকটের কারণ। গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কয়েকটি ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। ফলে ওই ব্যাংকগুলো ধীরে ধীরে গভীর সংকটে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে পাঁচটি সংকটে থাকা ব্যাংক— এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন একত্রিত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়।

ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে আমানতকারীদের শেয়ার থেকে। অনুমোদিত মূলধন রাখা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি ব্যাংকে বর্তমানে ৭৫ লাখ আমানতকারীর প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। বিপরীতে ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশ ইতোমধ্যেই খেলাপি হয়ে গেছে।

দেশজুড়ে এই ব্যাংকগুলোর ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে। একীভূত হওয়ার পর একই এলাকার একাধিক শাখা মিলে একটি বা দুটি করা হবে। এছাড়া পরিচালন খরচ কমাতে কর্মীদের বেতন–ভাতা ২০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু

28 October 2026

যাত্রাবাড়ীতে ৫ লাখ ইয়াবা জব্দ, গুলশানে মদ-বিয়ার উদ্ধারসহ বিদেশে পাচারকালে ১২ নারী উদ্ধার

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে সরকার ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিচ্ছে

হালনাগাদ সময় : ০৯:১৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

সরকার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিচ্ছে। এ জন্য ১০ বছর মেয়াদি শরীয়াহ ভিত্তিক সুকুক (ইসলামী বন্ড) ইস্যু করা হচ্ছে। নতুন গঠিত ব্যাংকটির জন্য এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ, যেখানে বছরে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ মুনাফা পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, গত ৭ ও ৮ জানুয়ারি ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদের সভাপতিত্বে গঠিত শরীয়াহ অ্যাডভাইজরি কমিটি সুকুক ইস্যু বিষয়ক সভা করে। সভায় সদস্যরা ইজারা পদ্ধতিতে এ সুকুক ইস্যু করার বিষয়ে একমত হন।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য গণপূর্ত অধিদফতরের সাতটি আবাসন প্রকল্প এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের কিছু নির্দিষ্ট ট্রেন সেবা এই সুকুকের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। ‘বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট স্পেশাল সুকুক-১’ নামের এই সুকুক প্রাইভেট প্লেসমেন্ট পদ্ধতিতে সরাসরি ব্যাংকের কাছে ইস্যু করা হবে। সরকার আগামী ১৪ জানুয়ারি ব্যাংক থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা গ্রহণ করবে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলেন, সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে সরকার উন্নয়ন প্রকল্পে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি সুদবিহীন দীর্ঘমেয়াদি তহবিল তৈরি করতে পারবে। একইসঙ্গে এটি ইসলামী ব্যাংকিং খাতের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে কাজ করবে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের পেছনে রয়েছে আগের সংকটের কারণ। গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কয়েকটি ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। ফলে ওই ব্যাংকগুলো ধীরে ধীরে গভীর সংকটে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে পাঁচটি সংকটে থাকা ব্যাংক— এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন একত্রিত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়।

ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে আমানতকারীদের শেয়ার থেকে। অনুমোদিত মূলধন রাখা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি ব্যাংকে বর্তমানে ৭৫ লাখ আমানতকারীর প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। বিপরীতে ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশ ইতোমধ্যেই খেলাপি হয়ে গেছে।

দেশজুড়ে এই ব্যাংকগুলোর ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে। একীভূত হওয়ার পর একই এলাকার একাধিক শাখা মিলে একটি বা দুটি করা হবে। এছাড়া পরিচালন খরচ কমাতে কর্মীদের বেতন–ভাতা ২০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

Share this news as a Photo Card