মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০২:৪৬ পূর্বাহ্ন | ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

মামদানি কি পারবেন ইতিহাস তৈরি করতে?

  • হালনাগাদ সময় : ০৩:৫১:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক নগরের মেয়র নির্বাচনে ভোটগ্রহণ আজ। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র খোলা থাকবে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় সময়সূচি ভিন্ন হওয়ায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আগে ভোটের ঠিক আগের দিন, সোমবার সন্ধ্যায়, সমর্থকদের উদ্দেশে শেষ মুহূর্তের বার্তা দেন তিনি। 

সোমবারের সমাবেশে অ্যাস্টোরিয়ায় তারুণ্যে ভরা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, অনেকের মাথায় ক্যাম্পেইনের পরিচিত হলুদ উইন্টার টুপি, আর সামনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ভিড়— সব মিলিয়ে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

গত পাঁচ বছর ধরে নিউ ইয়র্ক কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়ায় প্রতিনিধিত্ব করেছেন জোহরান মামদানির। মেয়র নির্বাচনের আগের দিন তাই তিনি ছুটে গেলেন সেখানেই। 

এখানেই জুনের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে নজিরবিহীন জয়ের পর প্রথম জনসমক্ষে বক্তব্য দিয়েছিলেন ৩৪ বছর বয়সি এই স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান।

ভোটের আগের দিনও শিশুদের হাসির শব্দে ভরা একটি খেলার মাঠে দাঁড়িয়ে শেষ মুহূর্তের বার্তা দিলেন মামদানি। বললেন, এই হাতগুলোই আমাদের এখানে নিয়ে এসেছে— ইতিহাস তৈরি করার জন্য। প্রমাণ করতে যে শ্রমিক মানুষের জন্য লড়লে, তুমি নিজের শহরের রাজনীতিকে পাল্টে দিতে পারো।

২০২৪ সালের নির্বাচন ট্রাম্প জিতেছিলেন মূল্যস্ফীতি ও ব্যয় সংকট নিয়ে জনঅসন্তোষ কাজে লাগিয়ে। কিন্তু মামদানির কথায়, প্রকৃত সমাধান আনতে পারবেন তিনি ও তার টিম— যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহর নিউ ইয়র্ককে বদলে দিয়ে।

মামদানি একজন মুসলিম অভিবাসী। ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট হিসেবে তার নির্বাচনি প্রচারের মূল লক্ষ্য নিউ ইয়র্ককে আরও সাশ্রয়ী করা। তার ইশতাহারের মধ্যে রয়েছে বাসাভাড়া স্থগিত করা, সবার জন্য বিনামূল্যে শিশু পরিচর্যাসেবা এবং কম খরচের গণপরিবহণ সেবা চালু করা।

এদিকে ভোটের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে সমর্থন দেন প্রাক্তন গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোকে। বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্কও কুওমোর পাশে দাঁড়ান। প্রাইমারিতে মামদানির কাছে হেরে যাওয়ার পর তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।

সাম্প্রতিক জরিপে মামদানি এগিয়ে থাকলেও ব্যবধান কিছুটা কমেছে। কুওমো ইতোমধ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে ছেড়ে নিজের দিকে আসতে ডানপন্থীদের আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে শেষ মুহূর্তের সমর্থন পরিবর্তন নির্বাচনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।

তবু সোমবার মামদানি সমর্থকদের আশা— এই প্রচারণা হবে নিউ ইয়র্ক রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত, কর্পোরেট-নির্ভর ডেমোক্র্যাটিক কাঠামোর বিরুদ্ধে তীব্র বার্তা।

নগরবাসী অপেক্ষায়— নিউ ইয়র্কের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় কি লেখা হবে?

সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্যোগ মোকাবিলা ও সামরিক প্রশিক্ষণ বাড়াতে একমত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র

27 October 2026

রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াও জামায়াত ও এনসিপি সহ্য করতে পারছে না: মো. তারেক রহমান

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

মামদানি কি পারবেন ইতিহাস তৈরি করতে?

হালনাগাদ সময় : ০৩:৫১:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক নগরের মেয়র নির্বাচনে ভোটগ্রহণ আজ। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র খোলা থাকবে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় সময়সূচি ভিন্ন হওয়ায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আগে ভোটের ঠিক আগের দিন, সোমবার সন্ধ্যায়, সমর্থকদের উদ্দেশে শেষ মুহূর্তের বার্তা দেন তিনি। 

সোমবারের সমাবেশে অ্যাস্টোরিয়ায় তারুণ্যে ভরা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, অনেকের মাথায় ক্যাম্পেইনের পরিচিত হলুদ উইন্টার টুপি, আর সামনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ভিড়— সব মিলিয়ে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

গত পাঁচ বছর ধরে নিউ ইয়র্ক কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়ায় প্রতিনিধিত্ব করেছেন জোহরান মামদানির। মেয়র নির্বাচনের আগের দিন তাই তিনি ছুটে গেলেন সেখানেই। 

এখানেই জুনের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে নজিরবিহীন জয়ের পর প্রথম জনসমক্ষে বক্তব্য দিয়েছিলেন ৩৪ বছর বয়সি এই স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান।

ভোটের আগের দিনও শিশুদের হাসির শব্দে ভরা একটি খেলার মাঠে দাঁড়িয়ে শেষ মুহূর্তের বার্তা দিলেন মামদানি। বললেন, এই হাতগুলোই আমাদের এখানে নিয়ে এসেছে— ইতিহাস তৈরি করার জন্য। প্রমাণ করতে যে শ্রমিক মানুষের জন্য লড়লে, তুমি নিজের শহরের রাজনীতিকে পাল্টে দিতে পারো।

২০২৪ সালের নির্বাচন ট্রাম্প জিতেছিলেন মূল্যস্ফীতি ও ব্যয় সংকট নিয়ে জনঅসন্তোষ কাজে লাগিয়ে। কিন্তু মামদানির কথায়, প্রকৃত সমাধান আনতে পারবেন তিনি ও তার টিম— যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহর নিউ ইয়র্ককে বদলে দিয়ে।

মামদানি একজন মুসলিম অভিবাসী। ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট হিসেবে তার নির্বাচনি প্রচারের মূল লক্ষ্য নিউ ইয়র্ককে আরও সাশ্রয়ী করা। তার ইশতাহারের মধ্যে রয়েছে বাসাভাড়া স্থগিত করা, সবার জন্য বিনামূল্যে শিশু পরিচর্যাসেবা এবং কম খরচের গণপরিবহণ সেবা চালু করা।

এদিকে ভোটের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে সমর্থন দেন প্রাক্তন গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোকে। বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্কও কুওমোর পাশে দাঁড়ান। প্রাইমারিতে মামদানির কাছে হেরে যাওয়ার পর তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।

সাম্প্রতিক জরিপে মামদানি এগিয়ে থাকলেও ব্যবধান কিছুটা কমেছে। কুওমো ইতোমধ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে ছেড়ে নিজের দিকে আসতে ডানপন্থীদের আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে শেষ মুহূর্তের সমর্থন পরিবর্তন নির্বাচনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।

তবু সোমবার মামদানি সমর্থকদের আশা— এই প্রচারণা হবে নিউ ইয়র্ক রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত, কর্পোরেট-নির্ভর ডেমোক্র্যাটিক কাঠামোর বিরুদ্ধে তীব্র বার্তা।

নগরবাসী অপেক্ষায়— নিউ ইয়র্কের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় কি লেখা হবে?

সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা

Share this news as a Photo Card