গবেষণার মগ্নতায় সময় কীভাবে বয়ে যায়, তা অনেক সময় টেরই পাওয়া যায় না; এরই মধ্যে পাঠকদের নানা জিজ্ঞাসা ও অনুরোধ জমে ওঠে মনের ক্যানভাসে। বেশ কিছুদিন সেই তাগিদ অনুভব করলেও লেখার টেবিলে বসা হয়ে ওঠেনি। আজ কলম ধরতে মনে পড়ে গেল নোবেলজয়ী ফরাসি ঔপন্যাসিক ও দার্শনিক আলবেয়ার কামুর বিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য প্লেগ’-এর কথা। ওই উপন্যাসে ওরান শহরে মহামারির প্রাদুর্ভাবের মাধ্যমে লেখক ফুটিয়ে তুলেছিলেন, কীভাবে একটি চরম সংকট বিচ্ছিন্ন মানুষদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও যৌথ পদক্ষেপের দিকে ধাবিত করে। সংকট মোকাবিলায় সবাই যখন একাট্টা হয়, তখন সংহতিই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান চালিকাশক্তি। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির ক্ষেত্রেও কি একই প্রশ্ন প্রযোজ্য নয়? সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান কি তাদের অভিন্ন নিরাপত্তা আশঙ্কার কারণেই এমন এক ঐক্য গড়ে তুলছে, যা তাদের সম্মিলিত প্রতিরোধ শক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে? তবে কামুর কাহিনি আমাদের এ শিক্ষাও দেয় যে, সংকট মানুষকে একত্র করলেও সেই ঐক্যের প্রকৃত কার্যকারিতা নির্ভর করে পারস্পরিক বিশ্বাস এবং বাস্তবধর্মী সহযোগিতার ওপর।
মক্কা এবং শুক্রবারকে এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের জন্য বেছে নেওয়ার বিষয়টি নিছক কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয় বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর পেছনে রয়েছে গভীর ধর্মীয় প্রতীকী ও ভূরাজনৈতিক বার্তা। রিয়াদ সৌদি আরবের রাজনৈতিক রাজধানী হওয়ায় সেখানে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে পুরো বিষয়টি কেবল একটি রাষ্ট্রকেন্দ্রিক উদ্যোগ হিসেবে প্রতীয়মান হতে পারত। এর বিপরীতে মক্কা, কাবা শরিফ এবং ইসলামের পবিত্রতম ভূমিকে বেছে নেওয়ায় চুক্তিটি বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহ, ইসলামি সংহতি ও সম্মিলিত নিরাপত্তার একটি শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়েছে। একইভাবে শুক্রবার বা জুমার দিনকে নির্ধারণ করার মধ্য দিয়ে এই উদ্যোগের আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে সাধারণ কোনো সামরিক চুক্তির গণ্ডি পেরিয়ে এটি একটি বৃহত্তর ইসলামি রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তবে সমালোচকদের মতে, স্থান ও সময়ের এই পবিত্রতাকে কাজে লাগিয়ে মূলত চুক্তির রাজনৈতিক বৈধতা ও গণগ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার একটি সুকৌশলী প্রয়াসও এর নেপথ্যে রয়েছে। সব মিলিয়ে তিন দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই মেলবন্ধন বর্তমান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।


























