মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০২:৪৬ পূর্বাহ্ন | ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

প্রথম মুসলিম মেয়র পেলো নিউইয়র্কবাসী

  • হালনাগাদ সময় : ১০:২৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

নিউইয়র্ক মহানগরীর মেয়র পদে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত জোহরান মামদানি। ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম ও প্রথম মিলেনিয়াল মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) নিউইয়র্কের ১১১তম অনুষ্ঠিত মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী মামদানি সহজ ব্যবধানে পরাজিত করেন সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো ও রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে।

মামদানি তার নির্বাচনি প্রচারণায় মূল গুরুত্ব দিয়েছেন জীবনযাত্রার ব্যয় ও ভাড়ার সংকটে। তিনি ভাড়া স্থগিত রাখা, সিটি-স্বত্বাধীন মুদি দোকান চালু করা এবং নগরবাসীর জন্য বাসযাত্রা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার প্রতিশ্রুতি দেন।

এক বছর আগে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করা মামদানির জন্য এটি এক অবিস্মরণীয় উত্থান। একজন তুলনামূলক অখ্যাত স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান থেকে আমেরিকার সবচেয়ে বড় শহরের নেতৃত্বে পৌঁছে গেলেন তিনি। মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে তিনি নিউইয়র্কের প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরিকে দু’দুবার হারিয়ে দেন।

এবারের নির্বাচনে প্রায় ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৭ জন আগাম ভোট দিয়েছেন, যা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনও নির্বাচনে নিউইয়র্ক শহরে এটিই সর্বোচ্চ আগাম ভোট পড়ার ঘটনা।

“গ্লোবালাইজ দ্য ইন্তিফাদা” স্লোগানটি প্রথমে নিন্দা না করায় মামদানিকে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। যদিও তিনি নিজে কখনও এ স্লোগান ব্যবহার করেননি, প্রো-ইসরায়েল কর্মীরা দাবি করেন এটি ইহুদি ও জায়নিস্টদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উস্কে দিতে পারে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীরা এটি ফিলিস্তিনি মুক্তির প্রতীক হিসেবে দেখেন। পরবর্তী সময়ে মামদানি ঘোষণা করেন, তিনি নিজে এই শব্দটি ব্যবহার করবেন না এবং অন্যদেরও তা থেকে বিরত থাকতে উৎসাহ দেবেন।

নির্বাচনের শেষ সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কুয়োমোকে সমর্থন জানালেও, গভীর নীল রাজ্য নিউইয়র্ক সিটিতে তা কোনও প্রভাব ফেলেনি—বরং বিপরীত প্রতিক্রিয়াই দেখা যায়।

মামদানির এই ঐতিহাসিক জয় অনেক ডেমোক্র্যাটকে উদ্দীপ্ত করেছে, তবে তার সামনে এখনও অনেক প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে—বিশেষ করে তিনি কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন তার উচ্চাভিলাষী প্রগতিশীল কর্মসূচি। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে কতটা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারবেন—তা নিয়েই এখন মূল আগ্রহ।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্যোগ মোকাবিলা ও সামরিক প্রশিক্ষণ বাড়াতে একমত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র

27 October 2026

রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াও জামায়াত ও এনসিপি সহ্য করতে পারছে না: মো. তারেক রহমান

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

প্রথম মুসলিম মেয়র পেলো নিউইয়র্কবাসী

হালনাগাদ সময় : ১০:২৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

নিউইয়র্ক মহানগরীর মেয়র পদে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত জোহরান মামদানি। ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম ও প্রথম মিলেনিয়াল মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) নিউইয়র্কের ১১১তম অনুষ্ঠিত মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী মামদানি সহজ ব্যবধানে পরাজিত করেন সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো ও রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে।

মামদানি তার নির্বাচনি প্রচারণায় মূল গুরুত্ব দিয়েছেন জীবনযাত্রার ব্যয় ও ভাড়ার সংকটে। তিনি ভাড়া স্থগিত রাখা, সিটি-স্বত্বাধীন মুদি দোকান চালু করা এবং নগরবাসীর জন্য বাসযাত্রা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার প্রতিশ্রুতি দেন।

এক বছর আগে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করা মামদানির জন্য এটি এক অবিস্মরণীয় উত্থান। একজন তুলনামূলক অখ্যাত স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান থেকে আমেরিকার সবচেয়ে বড় শহরের নেতৃত্বে পৌঁছে গেলেন তিনি। মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে তিনি নিউইয়র্কের প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরিকে দু’দুবার হারিয়ে দেন।

এবারের নির্বাচনে প্রায় ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৭ জন আগাম ভোট দিয়েছেন, যা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনও নির্বাচনে নিউইয়র্ক শহরে এটিই সর্বোচ্চ আগাম ভোট পড়ার ঘটনা।

“গ্লোবালাইজ দ্য ইন্তিফাদা” স্লোগানটি প্রথমে নিন্দা না করায় মামদানিকে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। যদিও তিনি নিজে কখনও এ স্লোগান ব্যবহার করেননি, প্রো-ইসরায়েল কর্মীরা দাবি করেন এটি ইহুদি ও জায়নিস্টদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উস্কে দিতে পারে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীরা এটি ফিলিস্তিনি মুক্তির প্রতীক হিসেবে দেখেন। পরবর্তী সময়ে মামদানি ঘোষণা করেন, তিনি নিজে এই শব্দটি ব্যবহার করবেন না এবং অন্যদেরও তা থেকে বিরত থাকতে উৎসাহ দেবেন।

নির্বাচনের শেষ সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কুয়োমোকে সমর্থন জানালেও, গভীর নীল রাজ্য নিউইয়র্ক সিটিতে তা কোনও প্রভাব ফেলেনি—বরং বিপরীত প্রতিক্রিয়াই দেখা যায়।

মামদানির এই ঐতিহাসিক জয় অনেক ডেমোক্র্যাটকে উদ্দীপ্ত করেছে, তবে তার সামনে এখনও অনেক প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে—বিশেষ করে তিনি কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন তার উচ্চাভিলাষী প্রগতিশীল কর্মসূচি। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে কতটা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারবেন—তা নিয়েই এখন মূল আগ্রহ।

Share this news as a Photo Card