মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৩:১১ অপরাহ্ন | ২৭শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১১ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা গভীর জাতীয় সংকটে: বিচারহীনতার সংস্কৃতিই মূল কারণ

  • হালনাগাদ সময় : ০৭:০৩:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা একটি গভীর জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত সমীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য।

সমীক্ষা অনুযায়ী, কন্যাশিশুদের মধ্যে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৪২ জন, আত্মহত্যা করেছে ২০৩ জন এবং ধর্ষণের চেষ্টার ক্ষেত্রে সহিংসতার শিকার হয়েছে ১১৭ জন।

অন্যদিকে, প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের মধ্যে ৭৬ জন হত্যার শিকার, ৩৭৬ জন ধর্ষণের শিকার এবং ১২৫ জন যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন, যা সহিংসতার ব্যাপকতা তুলে ধরে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে সংরক্ষিত ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনার ওপর ভিত্তি করে এই সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, যৌন হয়রানি, হত্যা, আত্মহত্যা, যৌতুক এবং বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

সমীক্ষাবিষয়ক তথ্য উপস্থাপন করেন সিনিয়র প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা আফরুজা আরমান। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, শৈশবে যৌন সহিংসতার ঝুঁকি বেশি থাকলেও বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে।

পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে গৃহিণীদের মধ্যে হত্যার ৫৮ শতাংশ, আত্মহত্যার ৬৩ শতাংশ এবং যৌতুক-সংক্রান্ত সহিংসতার ৯৪ শতাংশের প্রধান শিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একইভাবে শিক্ষার্থী কন্যাশিশুরা ধর্ষণের চেষ্টা ৮০ শতাংশ, আত্মহত্যা ৬৭ শতাংশ, দলবদ্ধ ধর্ষণ ৩৯ শতাংশ এবং বাল্যবিবাহের ১০০ শতাংশ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

সমীক্ষায় আরও উল্লেখ করা হয়, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ, তদন্তে বিলম্ব, সাক্ষী ও প্রমাণের দুর্বলতা এবং সামাজিকভাবে ভুক্তভোগীকেই দোষারোপ করার প্রবণতা অপরাধীদের দায়মুক্তিকে উৎসাহিত করছে।

সংবাদ সম্মেলনে মডারেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। সমীক্ষায় আরও দেখানো হয়, গৃহ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উভয় স্থানই নারী ও কন্যাশিশুর জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠেছে, যা তাদের নিরাপত্তা সংকটকে আরও তীব্র করেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার, জবাবদিহি এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরআনে বর্ণিত নিশ্চিত কবুল হওয়া ৩টি বিশেষ দোয়া

27 October 2026

গফরগাঁওয়ে চলন্ত তিস্তা এক্সপ্রেসের বগি বিচ্ছিন্ন, আধা ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা গভীর জাতীয় সংকটে: বিচারহীনতার সংস্কৃতিই মূল কারণ

হালনাগাদ সময় : ০৭:০৩:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা একটি গভীর জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত সমীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য।

সমীক্ষা অনুযায়ী, কন্যাশিশুদের মধ্যে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৪২ জন, আত্মহত্যা করেছে ২০৩ জন এবং ধর্ষণের চেষ্টার ক্ষেত্রে সহিংসতার শিকার হয়েছে ১১৭ জন।

অন্যদিকে, প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের মধ্যে ৭৬ জন হত্যার শিকার, ৩৭৬ জন ধর্ষণের শিকার এবং ১২৫ জন যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন, যা সহিংসতার ব্যাপকতা তুলে ধরে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে সংরক্ষিত ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনার ওপর ভিত্তি করে এই সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, যৌন হয়রানি, হত্যা, আত্মহত্যা, যৌতুক এবং বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

সমীক্ষাবিষয়ক তথ্য উপস্থাপন করেন সিনিয়র প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা আফরুজা আরমান। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, শৈশবে যৌন সহিংসতার ঝুঁকি বেশি থাকলেও বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে।

পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে গৃহিণীদের মধ্যে হত্যার ৫৮ শতাংশ, আত্মহত্যার ৬৩ শতাংশ এবং যৌতুক-সংক্রান্ত সহিংসতার ৯৪ শতাংশের প্রধান শিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একইভাবে শিক্ষার্থী কন্যাশিশুরা ধর্ষণের চেষ্টা ৮০ শতাংশ, আত্মহত্যা ৬৭ শতাংশ, দলবদ্ধ ধর্ষণ ৩৯ শতাংশ এবং বাল্যবিবাহের ১০০ শতাংশ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

সমীক্ষায় আরও উল্লেখ করা হয়, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ, তদন্তে বিলম্ব, সাক্ষী ও প্রমাণের দুর্বলতা এবং সামাজিকভাবে ভুক্তভোগীকেই দোষারোপ করার প্রবণতা অপরাধীদের দায়মুক্তিকে উৎসাহিত করছে।

সংবাদ সম্মেলনে মডারেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। সমীক্ষায় আরও দেখানো হয়, গৃহ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উভয় স্থানই নারী ও কন্যাশিশুর জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠেছে, যা তাদের নিরাপত্তা সংকটকে আরও তীব্র করেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার, জবাবদিহি এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে।

Share this news as a Photo Card