আজ বিজয়া দশমী। পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্তিম দিনে সিঁদুর খেলা, দেবীবরণ, প্রার্থনা ও বিষণ্ন বিদায়ের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাচ্ছেন ভক্তকূল। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সন্তানদের নিয়ে কয়েক দিন মর্ত্যে কাটিয়ে দেবী ফিরে যান স্বামী মহাদেবের আবাস কৈলাসে।
পঞ্জিকা অনুসারে, এ বছর দেবীর আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। তবে উৎসবের এই বিদায়পর্বে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, দেবী দুর্গাকে পানিতে বিসর্জন দেওয়া হয় কেন? এর পেছনে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক এবং দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
বাংলার দুর্গাপূজায় দেবী দুর্গাকে কেবল অসুরদলনী শক্তির প্রতীক হিসেবে নয়, ঘরের মেয়ের মতো করেও কল্পনা করা হয়। শরৎকালে তার আগমন যেন বাপের বাড়িতে মেয়ের ফিরে আসা। কয়েক দিন ধরে পূজা, ভোগ, আনন্দ-উৎসব ও নানা আচার পালনের পর দশমীতে তাকে বিদায় জানান সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এই আবেগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে দেবীর কৈলাসে ফিরে যাওয়ার বিশ্বাস।
বিজয়া দশমীর দিন পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর প্রতিমা মণ্ডপ থেকে বের করে শোভাযাত্রার মাধ্যমে নদী, পুকুর বা নির্দিষ্ট জলাশয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এই প্রথাটিই বিসর্জন বা নিরঞ্জন নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে ভক্তরা দেবী দুর্গাকে পুনরায় কৈলাসে বিদায় জানান।
বিসর্জনের অন্যতম প্রধান তাৎপর্য হলো সৃষ্টির সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক এবং সবকিছুর পরিবর্তনশীলতা। মাটি দিয়ে তৈরি প্রতিমায় দেবীর রূপ কল্পনা করে পূজা করা হয়। উৎসবের শেষে সেই প্রতিমা পানিতে ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে প্রতীকীভাবে বোঝানো হয় যে, দৃশ্যমান রূপের সমাপ্তি ঘটলেও ভক্তের মনে দেবীর প্রতি বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা চিরজাগরূক থাকে।
প্রতিমা তৈরিতে মাটির ব্যবহারও এই দর্শনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। প্রকৃতি থেকে মাটি সংগ্রহ করে শিল্পীর নিপুণ হাতে তা দেবীমূর্তির রূপ পায়, আর বিসর্জনের মাধ্যমেই সেই রূপ আবার প্রকৃতির কোলে ফিরে যায়। তবে অঞ্চলভেদে এবং পারিবারিক ও সামাজিক রীতি অনুযায়ী আচার-অনুষ্ঠানের ব্যাখ্যায় কিছু ভিন্নতাও থাকতে পারে।


























