শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ব্যাটালিয়নের আওতাভুক্ত ৫৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে মোট ১০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে সীমান্তরক্ষী এই বাহিনী।
বিরামপুর বারোয়ারী কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী হরি মন্দির ও পূর্ব জগন্নাথপুর সার্বজনীন শ্রী দুর্গা মন্দির পরিদর্শনকালে ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) অধিনায়ক মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান, পিএসসি এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বহিঃপ্রকাশ। ভক্তরা যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা সম্পন্ন করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই বিজিবি কাজ করছে।
বিজিবি অধিনায়ক আরও উল্লেখ করেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত ও কঠোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় নিয়মিত টহল জোরদারের পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে কোনো মহল যাতে গুজব ছড়িয়ে বা উসকানি দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।
ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন সূত্র জানায়, তাদের আওতাধীন এলাকার ৫৫টি পূজামণ্ডপের মধ্যে ৫১টি সীমান্ত এলাকার আট কিলোমিটারের মধ্যে এবং বাকি চারটি ব্যাটালিয়ন সদরের তিন কিলোমিটার সীমানায় অবস্থিত। এসব মণ্ডপের সুরক্ষায় ইতোমধ্যে নয়টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
গত ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া বিজিবির এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা কার্যক্রম চলবে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত। পরিদর্শনকালে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে এলাকায় কোনো সন্দেহজনক তৎপরতা চোখে পড়লে দ্রুত বিজিবি ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


























