মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১০:০১ পূর্বাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে মন্দা: ঝুঁকির মুখে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান

  • হালনাগাদ সময় : ০২:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও কর্মসংস্থানের জন্য এক বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নেতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দারিদ্র্যের হার বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ও ব্যবসাবান্ধব নীতিই পারে এই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে।

স্নোটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম খালেদ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, রপ্তানি আয়ে এই ধস মূলত দেশীয় রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার সম্মিলিত ফল। তিনি সতর্ক করেছেন যে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কর্মসংস্থান হ্রাস পাওয়ার মাধ্যমে অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে।

পোশাক খাতের বর্তমান সংকটের পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি এবং বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়া বৈশ্বিক পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে, দেশের ভেতরে ইউটিলিটি খরচ বৃদ্ধি, উচ্চ উৎপাদন ব্যয় এবং শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির বিপরীতে উৎপাদনশীলতা না বাড়ায় বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা হারাচ্ছেন। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে সরকার ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপের অভাব এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

এস এম খালেদ মনে করেন, আসন্ন ফেব্রুয়ারি পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং একটি নির্বাচিত সরকার গঠিত হলে ক্রেতাদের আস্থা ফিরতে শুরু করবে। তবে শুধু স্থিতিশীলতাই যথেষ্ট নয়; শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকিং খাতের সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে রাখা জরুরি। মজুরি বৃদ্ধির যৌক্তিকতাকে সমর্থন করে তিনি বলেন, উৎপাদন দক্ষতা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি না করলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা কম মূল্যের বিকল্প হিসেবে অন্য দেশে অর্ডার সরিয়ে নিতে পারেন।

রপ্তানি খাতকে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি থেকে রক্ষা করতে হলে সরকারকে অবিলম্বে নীতিগত সহায়তা ও রপ্তানি প্রণোদনার কার্যকর বাস্তবায়ন করতে হবে। আগামী দিনে নির্বাচিত সরকারের কাছে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রধান প্রত্যাশা হলো নিয়মিত সংলাপ ও বাস্তবসম্মত সমাধানের উদ্যোগ। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার যদি ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ায় এবং নীতিগত স্পষ্টতা নিশ্চিত করে, তবেই বিনিয়োগ বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত হবে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু

28 October 2026

যাত্রাবাড়ীতে ৫ লাখ ইয়াবা জব্দ, গুলশানে মদ-বিয়ার উদ্ধারসহ বিদেশে পাচারকালে ১২ নারী উদ্ধার

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে মন্দা: ঝুঁকির মুখে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান

হালনাগাদ সময় : ০২:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও কর্মসংস্থানের জন্য এক বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নেতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দারিদ্র্যের হার বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ও ব্যবসাবান্ধব নীতিই পারে এই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে।

স্নোটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম খালেদ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, রপ্তানি আয়ে এই ধস মূলত দেশীয় রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার সম্মিলিত ফল। তিনি সতর্ক করেছেন যে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কর্মসংস্থান হ্রাস পাওয়ার মাধ্যমে অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে।

পোশাক খাতের বর্তমান সংকটের পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি এবং বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়া বৈশ্বিক পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে, দেশের ভেতরে ইউটিলিটি খরচ বৃদ্ধি, উচ্চ উৎপাদন ব্যয় এবং শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির বিপরীতে উৎপাদনশীলতা না বাড়ায় বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা হারাচ্ছেন। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে সরকার ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপের অভাব এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

এস এম খালেদ মনে করেন, আসন্ন ফেব্রুয়ারি পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং একটি নির্বাচিত সরকার গঠিত হলে ক্রেতাদের আস্থা ফিরতে শুরু করবে। তবে শুধু স্থিতিশীলতাই যথেষ্ট নয়; শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকিং খাতের সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে রাখা জরুরি। মজুরি বৃদ্ধির যৌক্তিকতাকে সমর্থন করে তিনি বলেন, উৎপাদন দক্ষতা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি না করলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা কম মূল্যের বিকল্প হিসেবে অন্য দেশে অর্ডার সরিয়ে নিতে পারেন।

রপ্তানি খাতকে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি থেকে রক্ষা করতে হলে সরকারকে অবিলম্বে নীতিগত সহায়তা ও রপ্তানি প্রণোদনার কার্যকর বাস্তবায়ন করতে হবে। আগামী দিনে নির্বাচিত সরকারের কাছে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রধান প্রত্যাশা হলো নিয়মিত সংলাপ ও বাস্তবসম্মত সমাধানের উদ্যোগ। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার যদি ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ায় এবং নীতিগত স্পষ্টতা নিশ্চিত করে, তবেই বিনিয়োগ বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত হবে।

Share this news as a Photo Card