মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে চট্টগ্রামে ২০৮টি অভিযান ও ৪২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। এসব অভিযানে ৫ কোটি ৮২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা মূল্যের ১৬ লাখ ৯২ হাজার ৮০০ মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ টন ৫৫৪ কেজি ইলিশ জব্দ, ১৭টি মামলা এবং ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে জরিমানা করা হয়েছে ১৯ হাজার ৩১৭ টাকা। জব্দ করা পণ্য নিলামে বিক্রি করে আয় হয়েছে ৯ লাখ ৫৯ হাজার ৬০০ টাকা।
মৎস্য বিভাগের দাবি, মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরও ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা পড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রজননকালীন সুরক্ষা আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ইলিশের প্রজননকাল ও ডিম ছাড়ার সময় বিবেচনায় নিয়ে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর ও পাঁচটি উপকূলীয় উপজেলায় অভিযান চালানো হয়। জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সঙ্গে এসব অভিযানে কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করে। একটি অভিযানে নেতৃত্ব দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হাসানুজ্জামান।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি উপকূলীয় উপজেলার মধ্যে সন্দ্বীপে সবচেয়ে বেশি ৩৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ১৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে বাঁশখালীতে।
উপজেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ারায় ১৮টি অভিযান ও পাঁচটি ভ্রাম্যমাণ আদালত, বাঁশখালীতে ২২টি অভিযান ও ১৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালত, মিরসরাইয়ে ১৯টি অভিযান ও দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত, সন্দ্বীপে ৩৮টি অভিযান ও চারটি ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং সীতাকুণ্ডে ৩৫টি অভিযান ও দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।
অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইলিশ আহরণ, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার এবং মৎস্য সংরক্ষণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে নজরদারি চালানো হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিপুলসংখ্যক জেলে, ট্রলার ও বোটের কারণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে নিয়মিত নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


























