মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১১:২২ পূর্বাহ্ন | ২৭শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১১ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

চট্টগ্রামের বার্ন ইউনিটের নির্মাণকাজ কবে শেষ হবে?

  • হালনাগাদ সময় : ০৯:২৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের অধীনে একটি ১৫০ শয্যার স্বতন্ত্র বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলছে। ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ বার্ন ইউনিট’ নামের এই প্রকল্পের কাজ ঢিমেতালে এগোচ্ছে। ২৮৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পের গত ১০ মাসে ১৯ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বছরের জুন পর্যন্ত এর মেয়াদ থাকলেও, এই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে প্রকল্পটির প্রস্তাবনা দেওয়া হলেও নানা প্রশাসনিক জটিলতায় এটি দীর্ঘদিন স্থবির ছিল। ২০১৬ সালে চীনা প্রতিনিধিদল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে এলেও অনুমোদন আসে আরও অনেক পরে। ২০২৪ সালের মে মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের জুলাইয়ে। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে তা পিছিয়ে কাজ শুরু হয় গত বছরের ডিসেম্বরে।

প্রকল্পের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে বার্ন ইউনিট করার আগ্রহ প্রকাশ করে চীন সরকার। তার আলোকে চীনা প্রতিনিধিদল ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর চমেক হাসপাতাল এলাকায় সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করে। পরের কয়েক বছর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা কয়েক দফা বৈঠক করলেও স্থান নির্বাচনে নির্মাণের কাজ আটকে ছিল। ২০২২ সালে চীন সরকার চমেক হাসপাতাল সংলগ্ন গোঁয়াছিবাগান এলাকায় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট তৈরির স্থান নির্বাচন করে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের জানায়।

এটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮৪ কোটি ৭৬ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৫ টাকা। এর মধ্যে চীন সরকার অনুদান হিসেবে দেবে ১৮০ কোটি টাকা এবং বাকি ১০৫ কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার। গত বছরের ৯ মে একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে ২০২৩ সালের মার্চে চীন সরকারের সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি হয়। যেহেতু চীন সরকার প্রকল্পে ৬৩ শতাংশ অনুদান দিচ্ছে, তাই তাদের নির্বাচিত ঠিকাদারই অবকাঠামোগত নির্মাণ করছে। নির্মাণের যন্ত্রপাতি, প্রকৌশলী ও উপকরণও সরবরাহ করছে দেশটি। প্রকল্প শেষে এক বছর তারা প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে। অন্যদিকে পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ সংযোগসহ বিভিন্ন পরিষেবা দেবে বাংলাদেশ।

বার্ন ইউনিট পরিচালনার জন্য এক হাজার ৬৫ জন জনবল প্রয়োজন হবে। গত বছরের মে মাসে এক হাজার ৬৫ পদ সৃজনের প্রস্তাবনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

প্রকল্প পরিচালক ডা. রফিক উদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের নির্মাণকাজ চলমান আছে। ইতিমধ্যে ১৯ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মকর্তারা বলেছেন, আগামী বছরের মধ্যে পুরো কাজ শেষ হবে। এটি চালু হলে দগ্ধ রোগীদের উন্নত চিকিৎসা মিলবে।’

এদিকে, চট্টগ্রামে দগ্ধ রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আগুন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণসহ নানা কারণে বাড়ছে দগ্ধ রোগী। তবে চমেক হাসপাতালের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে ২৬ শয্যার বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট রয়েছে। বর্তমানে সেখানে রোগী ভর্তি আছে ৭২ জন। শয্যার পাশাপাশি মেঝেতেও রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে ওয়ার্ডে নেই আইসিইউ শয্যাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম। যে কারণে বেশি দগ্ধ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী ইউনিয়নের চরপাড়ায় গ্যাস সিলিন্ডারের গুদামে বিস্ফোরণের ঘটনায় ১০ জন দগ্ধ হন। এর মধ্যে সাত জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। তার মধ্যে পাঁচ জনই ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে নগরের সাগরিকা রোড এলাকায় একটি লোহার ওয়ার্কশপে ‘হাইড্রোলিক জ্যাক’ বিস্ফোরণের ঘটনায় আট জন দগ্ধ হন। পাহাড়তলী থানার সাগরিকা এলাকার রফিক সওদাগরের ওয়ার্কশপে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধ আট জনের দুজনকে ঢাকায় হস্থান্তর করা হয়। এসব রোগীদের ঢাকায় নেওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. এস খালেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২৬ শয্যার বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে গড়ে ৭০ থেকে ৭৫ জন করে রোগী ভর্তি থাকে। প্রতিদিন অন্তত ১৫ জন দগ্ধ রোগী হাসপাতালে আসে। এর মধ্যে আট জনকে ভর্তি দেওয়া হলেও বাকি সাত জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। দগ্ধদের জন্য আইসিইউ সেবা বেশি প্রয়োজন, অথচ এখানে আইসিইউ নেই। এ ছাড়া দগ্ধদের জন্য আরও যেসব সেবা প্রয়োজন, তার অনেক কিছুই এখানে নেই। যে কারণে বেশি দগ্ধ রোগীদের ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। তবে নির্মাণাধীন ১৫০ শয্যার বার্ন হাসপাতাল হয়ে গেলে ঢাকায় রোগী পাঠাতে হবে না। চট্টগ্রাম থেকেই দগ্ধ রোগীরা উন্নত চিকিৎসা পাবে।’

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘১৫০ শয্যার বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের নির্মাণকাজ আগামী বছরের মধ্যে শেষ করে ডিসেম্বরে উদ্বোধনের টার্গেট আছে আমাদের। প্রকল্পের ১৯ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ে বাকি কাজ শেষ করা যাবে।’

তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘নির্মাণাধীন এই হাসপাতালে থাকবে শিশুদের জন্য পাঁচটিসহ ২০টি বার্ন আইসিইউ বেড, ২৫টি এইচডিইউ বেড এবং তিনটি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার। রোগী আসা-যাওয়ার সুবিধার জন্য থাকবে তিনটি রাস্তা। ছয়তলা বিশিষ্ট ইউনিটের প্রথমতলায় থাকবে জরুরি ওয়ার্ড এবং ওপিডি, দোতলায় তিনটি অপারেশন থিয়েটার, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), চারতলায় হাইডিপেন্সি ইউনিট (এইচইউ), চারতলায় ও পাঁচতলায় থাকবে সাধারণ ওয়ার্ড এবং ছয়তলায় ওয়ার্ডের সঙ্গে থাকবে কার্যালয়।’

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

২২ বছরে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২৯৫৭ জন: আসকের প্রতিবেদন

27 October 2026

ফেনী নদীতে অভিযান: ৫ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ ও ধ্বংস

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

চট্টগ্রামের বার্ন ইউনিটের নির্মাণকাজ কবে শেষ হবে?

হালনাগাদ সময় : ০৯:২৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের অধীনে একটি ১৫০ শয্যার স্বতন্ত্র বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলছে। ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ বার্ন ইউনিট’ নামের এই প্রকল্পের কাজ ঢিমেতালে এগোচ্ছে। ২৮৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পের গত ১০ মাসে ১৯ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বছরের জুন পর্যন্ত এর মেয়াদ থাকলেও, এই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে প্রকল্পটির প্রস্তাবনা দেওয়া হলেও নানা প্রশাসনিক জটিলতায় এটি দীর্ঘদিন স্থবির ছিল। ২০১৬ সালে চীনা প্রতিনিধিদল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে এলেও অনুমোদন আসে আরও অনেক পরে। ২০২৪ সালের মে মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের জুলাইয়ে। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে তা পিছিয়ে কাজ শুরু হয় গত বছরের ডিসেম্বরে।

প্রকল্পের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে বার্ন ইউনিট করার আগ্রহ প্রকাশ করে চীন সরকার। তার আলোকে চীনা প্রতিনিধিদল ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর চমেক হাসপাতাল এলাকায় সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করে। পরের কয়েক বছর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা কয়েক দফা বৈঠক করলেও স্থান নির্বাচনে নির্মাণের কাজ আটকে ছিল। ২০২২ সালে চীন সরকার চমেক হাসপাতাল সংলগ্ন গোঁয়াছিবাগান এলাকায় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট তৈরির স্থান নির্বাচন করে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের জানায়।

এটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮৪ কোটি ৭৬ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৫ টাকা। এর মধ্যে চীন সরকার অনুদান হিসেবে দেবে ১৮০ কোটি টাকা এবং বাকি ১০৫ কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার। গত বছরের ৯ মে একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে ২০২৩ সালের মার্চে চীন সরকারের সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি হয়। যেহেতু চীন সরকার প্রকল্পে ৬৩ শতাংশ অনুদান দিচ্ছে, তাই তাদের নির্বাচিত ঠিকাদারই অবকাঠামোগত নির্মাণ করছে। নির্মাণের যন্ত্রপাতি, প্রকৌশলী ও উপকরণও সরবরাহ করছে দেশটি। প্রকল্প শেষে এক বছর তারা প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে। অন্যদিকে পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ সংযোগসহ বিভিন্ন পরিষেবা দেবে বাংলাদেশ।

বার্ন ইউনিট পরিচালনার জন্য এক হাজার ৬৫ জন জনবল প্রয়োজন হবে। গত বছরের মে মাসে এক হাজার ৬৫ পদ সৃজনের প্রস্তাবনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

প্রকল্প পরিচালক ডা. রফিক উদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের নির্মাণকাজ চলমান আছে। ইতিমধ্যে ১৯ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মকর্তারা বলেছেন, আগামী বছরের মধ্যে পুরো কাজ শেষ হবে। এটি চালু হলে দগ্ধ রোগীদের উন্নত চিকিৎসা মিলবে।’

এদিকে, চট্টগ্রামে দগ্ধ রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আগুন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণসহ নানা কারণে বাড়ছে দগ্ধ রোগী। তবে চমেক হাসপাতালের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে ২৬ শয্যার বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট রয়েছে। বর্তমানে সেখানে রোগী ভর্তি আছে ৭২ জন। শয্যার পাশাপাশি মেঝেতেও রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে ওয়ার্ডে নেই আইসিইউ শয্যাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম। যে কারণে বেশি দগ্ধ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী ইউনিয়নের চরপাড়ায় গ্যাস সিলিন্ডারের গুদামে বিস্ফোরণের ঘটনায় ১০ জন দগ্ধ হন। এর মধ্যে সাত জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। তার মধ্যে পাঁচ জনই ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে নগরের সাগরিকা রোড এলাকায় একটি লোহার ওয়ার্কশপে ‘হাইড্রোলিক জ্যাক’ বিস্ফোরণের ঘটনায় আট জন দগ্ধ হন। পাহাড়তলী থানার সাগরিকা এলাকার রফিক সওদাগরের ওয়ার্কশপে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধ আট জনের দুজনকে ঢাকায় হস্থান্তর করা হয়। এসব রোগীদের ঢাকায় নেওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. এস খালেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২৬ শয্যার বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে গড়ে ৭০ থেকে ৭৫ জন করে রোগী ভর্তি থাকে। প্রতিদিন অন্তত ১৫ জন দগ্ধ রোগী হাসপাতালে আসে। এর মধ্যে আট জনকে ভর্তি দেওয়া হলেও বাকি সাত জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। দগ্ধদের জন্য আইসিইউ সেবা বেশি প্রয়োজন, অথচ এখানে আইসিইউ নেই। এ ছাড়া দগ্ধদের জন্য আরও যেসব সেবা প্রয়োজন, তার অনেক কিছুই এখানে নেই। যে কারণে বেশি দগ্ধ রোগীদের ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। তবে নির্মাণাধীন ১৫০ শয্যার বার্ন হাসপাতাল হয়ে গেলে ঢাকায় রোগী পাঠাতে হবে না। চট্টগ্রাম থেকেই দগ্ধ রোগীরা উন্নত চিকিৎসা পাবে।’

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘১৫০ শয্যার বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের নির্মাণকাজ আগামী বছরের মধ্যে শেষ করে ডিসেম্বরে উদ্বোধনের টার্গেট আছে আমাদের। প্রকল্পের ১৯ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ে বাকি কাজ শেষ করা যাবে।’

তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘নির্মাণাধীন এই হাসপাতালে থাকবে শিশুদের জন্য পাঁচটিসহ ২০টি বার্ন আইসিইউ বেড, ২৫টি এইচডিইউ বেড এবং তিনটি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার। রোগী আসা-যাওয়ার সুবিধার জন্য থাকবে তিনটি রাস্তা। ছয়তলা বিশিষ্ট ইউনিটের প্রথমতলায় থাকবে জরুরি ওয়ার্ড এবং ওপিডি, দোতলায় তিনটি অপারেশন থিয়েটার, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), চারতলায় হাইডিপেন্সি ইউনিট (এইচইউ), চারতলায় ও পাঁচতলায় থাকবে সাধারণ ওয়ার্ড এবং ছয়তলায় ওয়ার্ডের সঙ্গে থাকবে কার্যালয়।’

Share this news as a Photo Card