মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৭:৪১ পূর্বাহ্ন | ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

কম্বোডিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্থগিত করলো থাইল্যান্ড

  • হালনাগাদ সময় : ০৫:১৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কম্বোডিয়ার সঙ্গে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে থাইল্যান্ড। ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে এক থাই সেনা আহত হওয়ার পরদিন মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) তারা এমন সিদ্ধান্ত নিলো। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ব্যাংককের অভিযোগ, দুদেশের বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় নতুন করে স্থলমাইন পুঁতেছে কম্বোডিয়া। সেরকমই একটি সোভিয়েত-নির্মিত পিএমএন-২ অ্যান্টি-পারসোনেল মাইনের বিস্ফোরণে সোমবার চারজন থাই সেনা আহত হয়েছেন, যাদের একজন পা হারিয়েছেন।

থাই সরকারের মুখপাত্র সিরিপং আংকাসাকুলকিয়াত বলেছেন, (বিস্ফোরণের ঘটনায়) কম্বোডিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যদি কোনও (সন্তোষজনক) ব্যাখ্যা বা পদক্ষেপ না দেখা যায়, থাইল্যান্ড যুদ্ধবিরতির ঘোষণা প্রত্যাহারের বিবেচনা করবে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সব চুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন আংকাসাকুলকিয়াত।
তবে, নতুনভাবে ল্যান্ডমাইন পোঁতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তারা বরং পুরোনো মাইনফিল্ডের ধারেকাছে টহল এড়াতে থাইল্যান্ডকে সতর্ক করে।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, অক্টোবর মাসে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে উল্লেখ করে দুই প্রতিবেশী দেশকে শান্তি বজার রাখার আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে, মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে দুই দেশের নেতারা ভারী অস্ত্র প্রত্যাহার ও ১৮ জন কম্বোডীয় যুদ্ধবন্দির ফেরতের বিষয়ে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া তাদের ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্তের বিভিন্ন অনির্ধারিত অংশ নিয়ে এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে বিরোধে জড়িয়ে আছে। ১৯০৭ সালে ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনামলে আঁকা মানচিত্রের ভিত্তিতে তৈরি এই সীমারেখা দেশদুটির মধ্যে বারবার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণ হয়েছে।

সর্বশেষ চলতি বছর জুলাই মাসে দুদেশ আবারও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এই দফায় পাঁচ দিনের সংঘাতে অন্তত ৪৮ জন নিহত ও প্রায় তিন লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সীমান্ত অঞ্চলে একাধিক ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের পর এবারের সংঘাত শুরু হয়।

জুলাইয়ের পর থেকে অন্তত সাতজন থাই সেনা মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়েছেন।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্যোগ মোকাবিলা ও সামরিক প্রশিক্ষণ বাড়াতে একমত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র

27 October 2026

রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াও জামায়াত ও এনসিপি সহ্য করতে পারছে না: মো. তারেক রহমান

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

কম্বোডিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্থগিত করলো থাইল্যান্ড

হালনাগাদ সময় : ০৫:১৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কম্বোডিয়ার সঙ্গে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে থাইল্যান্ড। ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে এক থাই সেনা আহত হওয়ার পরদিন মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) তারা এমন সিদ্ধান্ত নিলো। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ব্যাংককের অভিযোগ, দুদেশের বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় নতুন করে স্থলমাইন পুঁতেছে কম্বোডিয়া। সেরকমই একটি সোভিয়েত-নির্মিত পিএমএন-২ অ্যান্টি-পারসোনেল মাইনের বিস্ফোরণে সোমবার চারজন থাই সেনা আহত হয়েছেন, যাদের একজন পা হারিয়েছেন।

থাই সরকারের মুখপাত্র সিরিপং আংকাসাকুলকিয়াত বলেছেন, (বিস্ফোরণের ঘটনায়) কম্বোডিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যদি কোনও (সন্তোষজনক) ব্যাখ্যা বা পদক্ষেপ না দেখা যায়, থাইল্যান্ড যুদ্ধবিরতির ঘোষণা প্রত্যাহারের বিবেচনা করবে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সব চুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন আংকাসাকুলকিয়াত।
তবে, নতুনভাবে ল্যান্ডমাইন পোঁতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তারা বরং পুরোনো মাইনফিল্ডের ধারেকাছে টহল এড়াতে থাইল্যান্ডকে সতর্ক করে।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, অক্টোবর মাসে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে উল্লেখ করে দুই প্রতিবেশী দেশকে শান্তি বজার রাখার আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে, মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে দুই দেশের নেতারা ভারী অস্ত্র প্রত্যাহার ও ১৮ জন কম্বোডীয় যুদ্ধবন্দির ফেরতের বিষয়ে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া তাদের ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্তের বিভিন্ন অনির্ধারিত অংশ নিয়ে এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে বিরোধে জড়িয়ে আছে। ১৯০৭ সালে ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনামলে আঁকা মানচিত্রের ভিত্তিতে তৈরি এই সীমারেখা দেশদুটির মধ্যে বারবার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণ হয়েছে।

সর্বশেষ চলতি বছর জুলাই মাসে দুদেশ আবারও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এই দফায় পাঁচ দিনের সংঘাতে অন্তত ৪৮ জন নিহত ও প্রায় তিন লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সীমান্ত অঞ্চলে একাধিক ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের পর এবারের সংঘাত শুরু হয়।

জুলাইয়ের পর থেকে অন্তত সাতজন থাই সেনা মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়েছেন।

Share this news as a Photo Card