কিংবদন্তি মার্কিন সংগীতশিল্পী এলভিস প্রিসলির শত শত গান চুরির অভিযোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অনুমতি ছাড়া তাঁর কালজয়ী গানগুলো ব্যবহার করে এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
সংগীতবিষয়ক সাময়িকী বিলবোর্ডের এক প্রতিবেদনে এই মামলার তথ্য প্রথম প্রকাশ্যে আসে। মামলায় দাবি করা হয়েছে, অ্যানথ্রপিকের তৈরি ‘ক্লড’ নামের এআই মডেলটি এলভিস প্রিসলির অন্তত ২৭৪টি গানের কপিরাইট লঙ্ঘন করেছে। এই তালিকায় রয়েছে ‘কান্ট হেল্প ফলিং ইন লাভ’, ‘আ লিটল লেস কনভারসেশন’ ও ‘ডোন্ট বি ক্রুয়েল’-এর মতো বিশ্বখ্যাত গান। প্রতিটি গানের জন্য দেড় লাখ ডলার করে মোট প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ ডলার (৪১ মিলিয়ন) ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
এর আগে ইউনিভার্সাল মিউজিক গ্রুপের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠান এআই সংস্থার বিরুদ্ধে মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের মামলা করলেও, কোনো একক শিল্পীর কাজের সুরক্ষায় এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আইনি লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এলভিস প্রিসলির মেধাস্বত্ব, গানের ক্যাটালগ ও ব্র্যান্ড স্বত্ব নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান অথেনটিক ব্র্যান্ডস গ্রুপের একটি শাখা মামলাটি দায়ের করে। এতে যুক্ত হয়েছে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান।
মামলার প্রধান কৌঁসুলি রিচার্ড বুশ অভিযোগ করে বলেন, অ্যানথ্রপিক মূলত অন্যের সৃজনশীল কাজ চুরির ওপর ভিত্তি করেই নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবসা গড়ে তুলছে। এলভিসের মতো কিংবদন্তির সৃষ্টিশীল কাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এ মামলা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে শীর্ষস্থানীয় এআই মিউজিক জেনারেটর সুনোর বিরুদ্ধেও কনটেন্ট চুরির অভিযোগে মামলা করেছিল তিনটি শীর্ষ রেকর্ড কোম্পানি। ওয়ার্নার মিউজিক গ্রুপের সঙ্গে সমঝোতা হলেও ইউনিভার্সাল ও সনির সঙ্গে তাদের আইনি বিবাদ এখনো চলছে।


























