মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন | ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

এরদোয়ানের প্রতিদ্বন্দ্বীর ২০০০ বছর কারাদণ্ড দাবি

  • হালনাগাদ সময় : ০৯:১৯:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুর দুহাজার বছরের বেশি কারাদণ্ড চেয়েছেন দেশটির এক প্রসিকিউটর। তার বিরুদ্ধে অভিযোগে দাবি করা হয়, ইমামোগলু দুর্নীতির এক বিশাল চক্র পরিচালনা করেছেন,যার কারণে শত শত কোটি লিরা খুইয়েছে তুরস্ক। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) পেশ করা অভিযোগপত্র যাচাই করে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে ইস্তাম্বুলের প্রধান প্রসিকিউটর আকিন গুরলেক বলেন, অভিযোগপত্রে ইমামোগলুসহ ৪০২ জন সন্দেহভাজনের নাম রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অপরাধচক্র গঠন, ঘুষ, জালিয়াতি এবং দরপত্র কারসাজির অভিযোগ এনে গুরলেক দাবি করেন, এক দশকের বেশি সময়ে তাদের নেটওয়ার্কের কারণে রাষ্ট্রের ১৬০ বিলিয়ন লিরা (৩৮০ কোটি মার্কিন ডলার) ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া, ইস্তাম্বুল পৌরসভার একাধিক ব্যবসায়ীকে গোপন তহবিলের মাধ্যমে ঘুষ দিতে বাধ্য করার অভিযোগও আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

চার হাজার পাতার ওই অভিযোগপত্রে প্রমাণ হিসেবে আর্থিক অপরাধ তদন্ত বোর্ড (মাসাক), বিশেষজ্ঞদের মতামত, ডিজিটাল এবং ভিডিও আলামত সংযুক্ত রয়েছে বলে দাবি করা হয়। সেখানে কথিত নেটওয়ার্কের কাঠামো তুলে ধরে ইমামোগলুকে তার মাথা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অবশ্য, অভিযোগপত্রের দাবিগুলো রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

বরাবরই এসব অভিযোগকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইমামোগলু। তিনি গত মার্চ থেকে দুর্নীতির মামলায় আটক রয়েছেন। এদিকে, মঙ্গলবারের সর্বশেষ অভিযোগকে ‘ছাইপাঁশ’ বলে খারিজ করে দিয়েছে তার রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি)।

সিএইচপির ইস্তাম্বুল শাখার প্রধান ওজগুর চেলিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, এই অভিযোগ ‘ফালতু’ এবং ‘লজ্জাজনক’। ইমামোগলুর প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা নস্যাৎ করতেই এসব করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে, ইমামোগলুকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে সরকারের দাবি, তুরস্কের আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করে।

এই প্রতিবেদন লেখার জন্য ইস্তাম্বুল পৌরসভা এবং ইমামোগলুর আইনজীবীদের তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে, এরদোয়ানের সমালোচকদের বিরুদ্ধে চলমান এক বছরের নজিরবিহীন আইনি দমনপীড়নের অংশ হিসেবে ইস্তাম্বুল প্রসিকিউটর কার্যালয় উচ্চ আদালতের কাছে সিএইচপি দলটি বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সর্বোচ্চ আদালত কোর্ট অব ক্যাসেশনের কাছে পাঠানো এক নোটিশে প্রসিকিউটরের অফিস অভিযোগ করেছে, সিএইচপি অবৈধ তহবিলে পরিচালিত হচ্ছে এবং এর আর্থিক লেনদেন ‘নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডের’ আওতায় পড়ে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্যোগ মোকাবিলা ও সামরিক প্রশিক্ষণ বাড়াতে একমত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র

27 October 2026

রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াও জামায়াত ও এনসিপি সহ্য করতে পারছে না: মো. তারেক রহমান

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

এরদোয়ানের প্রতিদ্বন্দ্বীর ২০০০ বছর কারাদণ্ড দাবি

হালনাগাদ সময় : ০৯:১৯:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুর দুহাজার বছরের বেশি কারাদণ্ড চেয়েছেন দেশটির এক প্রসিকিউটর। তার বিরুদ্ধে অভিযোগে দাবি করা হয়, ইমামোগলু দুর্নীতির এক বিশাল চক্র পরিচালনা করেছেন,যার কারণে শত শত কোটি লিরা খুইয়েছে তুরস্ক। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) পেশ করা অভিযোগপত্র যাচাই করে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে ইস্তাম্বুলের প্রধান প্রসিকিউটর আকিন গুরলেক বলেন, অভিযোগপত্রে ইমামোগলুসহ ৪০২ জন সন্দেহভাজনের নাম রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অপরাধচক্র গঠন, ঘুষ, জালিয়াতি এবং দরপত্র কারসাজির অভিযোগ এনে গুরলেক দাবি করেন, এক দশকের বেশি সময়ে তাদের নেটওয়ার্কের কারণে রাষ্ট্রের ১৬০ বিলিয়ন লিরা (৩৮০ কোটি মার্কিন ডলার) ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া, ইস্তাম্বুল পৌরসভার একাধিক ব্যবসায়ীকে গোপন তহবিলের মাধ্যমে ঘুষ দিতে বাধ্য করার অভিযোগও আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

চার হাজার পাতার ওই অভিযোগপত্রে প্রমাণ হিসেবে আর্থিক অপরাধ তদন্ত বোর্ড (মাসাক), বিশেষজ্ঞদের মতামত, ডিজিটাল এবং ভিডিও আলামত সংযুক্ত রয়েছে বলে দাবি করা হয়। সেখানে কথিত নেটওয়ার্কের কাঠামো তুলে ধরে ইমামোগলুকে তার মাথা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অবশ্য, অভিযোগপত্রের দাবিগুলো রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

বরাবরই এসব অভিযোগকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইমামোগলু। তিনি গত মার্চ থেকে দুর্নীতির মামলায় আটক রয়েছেন। এদিকে, মঙ্গলবারের সর্বশেষ অভিযোগকে ‘ছাইপাঁশ’ বলে খারিজ করে দিয়েছে তার রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি)।

সিএইচপির ইস্তাম্বুল শাখার প্রধান ওজগুর চেলিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, এই অভিযোগ ‘ফালতু’ এবং ‘লজ্জাজনক’। ইমামোগলুর প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা নস্যাৎ করতেই এসব করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে, ইমামোগলুকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে সরকারের দাবি, তুরস্কের আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করে।

এই প্রতিবেদন লেখার জন্য ইস্তাম্বুল পৌরসভা এবং ইমামোগলুর আইনজীবীদের তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে, এরদোয়ানের সমালোচকদের বিরুদ্ধে চলমান এক বছরের নজিরবিহীন আইনি দমনপীড়নের অংশ হিসেবে ইস্তাম্বুল প্রসিকিউটর কার্যালয় উচ্চ আদালতের কাছে সিএইচপি দলটি বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সর্বোচ্চ আদালত কোর্ট অব ক্যাসেশনের কাছে পাঠানো এক নোটিশে প্রসিকিউটরের অফিস অভিযোগ করেছে, সিএইচপি অবৈধ তহবিলে পরিচালিত হচ্ছে এবং এর আর্থিক লেনদেন ‘নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডের’ আওতায় পড়ে।

Share this news as a Photo Card