টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপার লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। ফাইনালে ওঠার প্রথম মিশনে আজ মাঠে নামছে টুর্নামেন্টের অন্যতম দুই শক্তিশালী দল নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হবে এই হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনাল। একদিকে টুর্নামেন্টের একমাত্র অপরাজিত দল হিসেবে দাপট দেখানো দক্ষিণ আফ্রিকা, অন্যদিকে ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়ে প্রতিশোধের নেশায় মত্ত নিউজিল্যান্ড—সব মিলিয়ে ক্রিকেটবিশ্বের নজর আজ ইডেনের বাইশ গজে।
গ্রুপ পর্বের পরিসংখ্যানে দক্ষিণ আফ্রিকা এগিয়ে থাকলেও লড়াইটা মোটেও সহজ হবে না কিউইদের জন্য। প্রাথমিক পর্বে নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৭৬ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করে ১৭ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয় তুলে নিয়েছিল প্রোটিয়ারা। সেই ম্যাচে এইডেন মার্করাম ও কুইন্টন ডি ককের বিধ্বংসী ওপেনিং জুটিই জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিল। এবারের আসরে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই এমন দারুণ সূচনা প্রোটিয়াদের অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে।
ইডেন গার্ডেন্সের উইকেট সাধারণত ব্যাটারদের পক্ষেই কথা বলে। পরিসংখ্যান বলছে, পাওয়ার প্লে-তে দুই দলই বেশ আগ্রাসী। নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা যথাক্রমে ৯.৬১ ও ৯.৫৪ রান রেটে রান তুলেছে শুরুর ওভারগুলোতে। ফলে আজ যে দলই আগে ব্যাটিং করুক না কেন, বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা প্রবল। বিশেষ করে এই মাঠে সবশেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ১৯৬ রানের লক্ষ্য ভারত যেভাবে তাড়া করেছে, তাতে বড় লক্ষ্যও এখানে নিরাপদ নয়।
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে টস একটি বড় নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে। এবারের আসরে রান তাড়া করতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্যদিকে, ইডেন গার্ডেন্সের কন্ডিশন বিবেচনায় নিউজিল্যান্ডও চাইবে টস জিতে আগে বোলিং করতে।
বোলিং আক্রমণে দুই দলের দুই ধরনের শক্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার সাফল্যের সিংহভাগ (৭৬.৮ শতাংশ) এসেছে পেসারদের হাত ধরে। বিপরীতে কিউই পেসাররা ৫২.১ শতাংশ সাফল্য পেলেও তাদের বড় শক্তি হয়ে উঠেছেন স্পিনাররা। টুর্নামেন্টের ৬ ম্যাচে কিউই স্পিনাররা শিকার করেছেন ১৪টি উইকেট। ফলে প্রোটিয়া ব্যাটারদের জন্য কিউই স্পিন বিষ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
পুরো টুর্নামেন্টে ভারতসহ বড় দলগুলোকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পথে এখন পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন যাত্রা দক্ষিণ আফ্রিকার। তবে ফাইনালে পা রাখতে হলে তাদের পার হতে হবে নিউজিল্যান্ডের কঠিন বাধা। গ্রুপ পর্বের জয় প্রোটিয়াদের আত্মবিশ্বাস দিলেও নক-আউট পর্বের স্নায়ুচাপ সামলে কারা শেষ হাসি হাসে, তা দেখার অপেক্ষায় এখন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
রিপোর্টারের নাম 
























