মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০১:৫৭ পূর্বাহ্ন | ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

ফিলিস্তিনি বন্দিকে নির্যাতন: ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক আইন কর্মকর্তা গ্রেফতার

  • হালনাগাদ সময় : ১১:০৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান আইন কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ইফাত তোমের-ইয়েরুশালমি এক ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে। ফাঁস হওয়া ভিডিওতে দক্ষিণ ইসরায়েলের তেইমান সামরিক ঘাঁটিতে এক ফিলিস্তিনি বন্দির ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের চিত্র দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

তোমের-ইয়েরুশালমি গত সপ্তাহে সামরিক অ্যাডভোকেট জেনারেল পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি বলেন, ভিডিও ফাঁসের সম্পূর্ণ দায়ভার তিনি নিচ্ছেন। পদত্যাগের দুই দিন পর রবিবার তাকে তেল আবিবের উত্তরে একটি সমুদ্রসৈকত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে আটক করা হয়।

গত আগস্টে ইসরায়েলের একটি সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, সেনা রিজার্ভ সদস্যরা এক ফিলিস্তিনি বন্দিকে আড়াল করে লাঠি ও ধারালো বস্তু দিয়ে নির্যাতন করছেন। পরে ওই বন্দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার পর পাঁচ রিজার্ভ সেনাকে ‘গুরুতর শারীরিক নির্যাতন ও ক্ষতি সাধনের’ অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রবিবার অভিযুক্তদের মধ্যে চারজন মুখে কালো মুখোশ পরে জেরুজালেমে সুপ্রিম কোর্টের সামনে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে বিচার বাতিলের দাবি জানান।

ডানপন্থি আইনি সহায়তা সংস্থা হোনেনুর আইনজীবী আদি কাইদার বলেন, আমার মক্কেলদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট ও সাজানো মামলা করা হয়েছে।

পরে জানা গেছে, ওই বন্দিকে গত অক্টোবরে হামাসের সঙ্গে বন্দি বিনিময় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজায় ফেরত পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত শুরু হওয়ার পর তোমের-ইয়েরুশালমিকে ছুটিতে পাঠানো হয়। পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানান, তিনি আর দায়িত্বে ফিরতে পারবেন না। এরপরই তিনি পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা মোকাবিলায় আমি সংবাদমাধ্যমে কিছু তথ্য প্রকাশের অনুমতি দিয়েছিলাম। বন্দিদের ওপর সহিংসতার সন্দেহ দেখা দিলে আমাদের তা তদন্ত করতেই হবে।

কিন্তু প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ তার পদক্ষেপকে ‘সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কলঙ্ক ছড়ানো’ বলে আখ্যা দেন। রবিবার প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, তেইমানের ওই ঘটনা ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর সবচেয়ে গুরুতর প্রচারণাগত আঘাত।

রবিবার রাতে ইসরায়েলি পুলিশ জানায়, ভিডিও ফাঁস ও গুরুতর অপরাধে জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, তারা হলেন তোমের-ইয়েরুশালমি ও সাবেক সামরিক প্রসিকিউটর কর্নেল মাতান সোলোমশ।

তেইমানের এই ঘটনা ইসরায়েলি সমাজে গভীর রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি করেছে। ডানপন্থিদের মতে, ভিডিও ফাঁস সেনাবাহিনীর মানহানি, প্রায় দেশদ্রোহিতার সমান। অন্যদিকে বামপন্থিরা বলছে, তোমের-ইয়েরুশালমি অন্তত একবার নিজের দায়িত্বের প্রতি সৎ ছিলেন।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজার হাজার বন্দি নারী, শিশু ও পুরুষ পরিকল্পিত নির্যাতন, যৌন সহিংসতা ও মানসিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, যা যুদ্ধাপরাধের শামিল।

ইসরায়েল সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, দেশটি আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে এবং প্রতিটি অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্যোগ মোকাবিলা ও সামরিক প্রশিক্ষণ বাড়াতে একমত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র

27 October 2026

রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াও জামায়াত ও এনসিপি সহ্য করতে পারছে না: মো. তারেক রহমান

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

ফিলিস্তিনি বন্দিকে নির্যাতন: ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক আইন কর্মকর্তা গ্রেফতার

হালনাগাদ সময় : ১১:০৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান আইন কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ইফাত তোমের-ইয়েরুশালমি এক ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে। ফাঁস হওয়া ভিডিওতে দক্ষিণ ইসরায়েলের তেইমান সামরিক ঘাঁটিতে এক ফিলিস্তিনি বন্দির ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের চিত্র দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

তোমের-ইয়েরুশালমি গত সপ্তাহে সামরিক অ্যাডভোকেট জেনারেল পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি বলেন, ভিডিও ফাঁসের সম্পূর্ণ দায়ভার তিনি নিচ্ছেন। পদত্যাগের দুই দিন পর রবিবার তাকে তেল আবিবের উত্তরে একটি সমুদ্রসৈকত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে আটক করা হয়।

গত আগস্টে ইসরায়েলের একটি সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, সেনা রিজার্ভ সদস্যরা এক ফিলিস্তিনি বন্দিকে আড়াল করে লাঠি ও ধারালো বস্তু দিয়ে নির্যাতন করছেন। পরে ওই বন্দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার পর পাঁচ রিজার্ভ সেনাকে ‘গুরুতর শারীরিক নির্যাতন ও ক্ষতি সাধনের’ অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রবিবার অভিযুক্তদের মধ্যে চারজন মুখে কালো মুখোশ পরে জেরুজালেমে সুপ্রিম কোর্টের সামনে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে বিচার বাতিলের দাবি জানান।

ডানপন্থি আইনি সহায়তা সংস্থা হোনেনুর আইনজীবী আদি কাইদার বলেন, আমার মক্কেলদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট ও সাজানো মামলা করা হয়েছে।

পরে জানা গেছে, ওই বন্দিকে গত অক্টোবরে হামাসের সঙ্গে বন্দি বিনিময় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজায় ফেরত পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত শুরু হওয়ার পর তোমের-ইয়েরুশালমিকে ছুটিতে পাঠানো হয়। পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানান, তিনি আর দায়িত্বে ফিরতে পারবেন না। এরপরই তিনি পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা মোকাবিলায় আমি সংবাদমাধ্যমে কিছু তথ্য প্রকাশের অনুমতি দিয়েছিলাম। বন্দিদের ওপর সহিংসতার সন্দেহ দেখা দিলে আমাদের তা তদন্ত করতেই হবে।

কিন্তু প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ তার পদক্ষেপকে ‘সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কলঙ্ক ছড়ানো’ বলে আখ্যা দেন। রবিবার প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, তেইমানের ওই ঘটনা ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর সবচেয়ে গুরুতর প্রচারণাগত আঘাত।

রবিবার রাতে ইসরায়েলি পুলিশ জানায়, ভিডিও ফাঁস ও গুরুতর অপরাধে জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, তারা হলেন তোমের-ইয়েরুশালমি ও সাবেক সামরিক প্রসিকিউটর কর্নেল মাতান সোলোমশ।

তেইমানের এই ঘটনা ইসরায়েলি সমাজে গভীর রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি করেছে। ডানপন্থিদের মতে, ভিডিও ফাঁস সেনাবাহিনীর মানহানি, প্রায় দেশদ্রোহিতার সমান। অন্যদিকে বামপন্থিরা বলছে, তোমের-ইয়েরুশালমি অন্তত একবার নিজের দায়িত্বের প্রতি সৎ ছিলেন।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজার হাজার বন্দি নারী, শিশু ও পুরুষ পরিকল্পিত নির্যাতন, যৌন সহিংসতা ও মানসিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, যা যুদ্ধাপরাধের শামিল।

ইসরায়েল সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, দেশটি আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে এবং প্রতিটি অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card