পাবনার চাটমোহরে নির্বাচনের আগমুহূর্তে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে গভীর রাতে গোপন বৈঠক করার অভিযোগে এক প্রিজাইডিং অফিসারসহ তিন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাবনা-৩ (চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর) নির্বাচনী এলাকায় এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের ওই বৈঠকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যাহারকৃত কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত মো. সুজন মাহমুদ রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) হান্ডিয়াল শাখার কর্মকর্তা। তিনি চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চড়ইকোল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার হওয়া অপর দুই সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের নাম প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
সূত্র জানায়, গত বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে প্রিজাইডিং অফিসার সুজন মাহমুদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতা আউয়ালসহ কয়েকজন স্থানীয় নেতা গোপন বৈঠকে মিলিত হন। বিষয়টি নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য প্রার্থীদের কর্মী ও সমর্থকদের নজরে এলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছায়।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পাবনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তফাকে অবহিত করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সুজন মাহমুদসহ তিনজনকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মধ্যরাতে প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতার এমন গোপন বৈঠকের ঘটনায় স্থানীয় ভোটার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে আলোচনা-সমালোচনা এখন তুঙ্গে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের স্বার্থে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























