ঢাকা ১২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ঋণখেলাপি বিএনপির প্রার্থী টিএস আইয়ুব, প্রার্থিতা গ্রহণ না করতে ব্যাংকের চিঠি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৫:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

ঋণখেলাপি তালিকায় (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো বা সিআইবি) নাম থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তালহা শাহরিয়ার আইয়ুবের (টিএস আইয়ুব) প্রার্থিতা গ্রহণ না করতে চিঠি দিয়েছে ব্যাংক। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) যশোরের রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসানকে এ সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছে ঢাকা ব্যাংক। 

ব্যাংকটির ঢাকা ধানমন্ডি মডেল ব্যাঞ্চের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রিয়াদ হাসান ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার এস এম রাইসুল ইসলাম নাহিদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে আইয়ুবকে ‘ঋণখেলাপি ও সিআইবি রিপোর্টে তালিকাভুক্ত’ বলে উল্লেখ করা হয়। 

টিএস আইয়ুব সাইমেক্স লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোর-৪ (বাঘারপাড়া ও অভয়নগর, বসুন্দিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আসনটিতে আইয়ুব ছাড়াও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও অভয়নগর উপজেলা শাখার সভাপতি মতিয়ার ফারাজী। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন আইয়ুবের ছেলে ফারহান সাজিদ। নেতাকর্মীরা বলছেন, কৌশল হিসেবে দল আসনটিতে দুজনকে বিকল্প প্রার্থী রেখেছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিএস আইয়ুব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঋণখেলাপি ছিলাম, আদালতের মাধ্যমে এখন নেই। তার পরও যদি ব্যাংক কোনও চিঠি দিয়ে থাকে, তাহলে বিস্তারিত ব্যাংক বলতে পারবে। আমি এখন ঋণখেলাপি নই।’

যশোরের রিটার্নিং অফিসারের কাছে ঢাকা ব্যাংকের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তালহা শাহরিয়ার আইয়ুব সাইমেক্স লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এমডি। প্রতিষ্ঠানটি নামে ঢাকা ব্যাংকের ধানমন্ডি মডেল শাখা থেকে তিনি ঋণ নিয়েছেন। ২০১৮ সাল থেকে তিনি ঋণখেলাপি, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি সার্কুলার অনুযায়ী একজন ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) রিপোর্টে তিনি একজন মন্দজনিত ঋণখেলাপি। 

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আইয়ুব তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে ঢাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন এবং বৈদেশিক রফতানি প্রক্রিয়া সংক্রান্ত দলিলাদি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেন। যে টাকা অনাদায়ী হিসেবেই আছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে দুদক তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের এবং অভিযোগপত্র দিয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা ব্যাংক ঋণের টাকা আদায়ের জন্য তার বিরুদ্ধে অর্থঋণ মামলা করলে আদালত ব্যাংকের পক্ষে রায় ও ডিক্রি দেন। পরবর্তীতে ব্যাংক অর্থজারী মোকদ্দমা দায়ের করে বর্তমানে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর্যায়ে আছে। ওই মামলা ছাড়াও ব্যাংক তার বিরুদ্ধে চেক ডিজ-অনার সংক্রান্ত সি আর মামলা করেছে। যা বর্তমানে শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। 

এ অবস্থায় ঋণখেলাপি ও সিআইবি রিপোর্টে তালিকাভুক্ত আইয়ুবের প্রার্থিতা গ্রহণ না করাসহ যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে ব্যাংকটি। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টিএস আইয়ুব সরকারি-বেসরকারি খাতের অন্তত চার ব্যাংকে ১৩৮ কোটি টাকার ঋণখেলাপি। ঢাকা ব্যাংকের ধানমন্ডি মডেল শাখা থেকে সাইমেক্স লেদার প্রোডাক্টের নামে ২০১৭ সালে ১৪টি ভুয়া এলসির বিপরীতে ২১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি আত্মসাৎ করেন। ২০১৯ সালে এ বিষয়ে মামলা করে ব্যাংক। সুদসহ বর্তমানে তার কাছে ব্যাংকটির পাওনা দাঁড়িয়েছে ৪৫ কোটি টাকা। সর্বশেষ গত বছরের এপ্রিলে আইয়ুব ও তার স্ত্রী তানিয়া রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত। সরকার পতনের পর কারামুক্ত হন। তাকে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকে রিপোর্ট করেছে ঢাকা ব্যাংক। 

এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, ‘টিএস আইয়ুবের বিরুদ্ধে ঢাকা ব্যাংক থেকে চিঠি এসেছে। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইকালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপি বিএনপির প্রার্থী টিএস আইয়ুব, প্রার্থিতা গ্রহণ না করতে ব্যাংকের চিঠি

আপডেট সময় : ১০:৫৫:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

ঋণখেলাপি তালিকায় (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো বা সিআইবি) নাম থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তালহা শাহরিয়ার আইয়ুবের (টিএস আইয়ুব) প্রার্থিতা গ্রহণ না করতে চিঠি দিয়েছে ব্যাংক। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) যশোরের রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসানকে এ সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছে ঢাকা ব্যাংক। 

ব্যাংকটির ঢাকা ধানমন্ডি মডেল ব্যাঞ্চের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রিয়াদ হাসান ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার এস এম রাইসুল ইসলাম নাহিদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে আইয়ুবকে ‘ঋণখেলাপি ও সিআইবি রিপোর্টে তালিকাভুক্ত’ বলে উল্লেখ করা হয়। 

টিএস আইয়ুব সাইমেক্স লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোর-৪ (বাঘারপাড়া ও অভয়নগর, বসুন্দিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আসনটিতে আইয়ুব ছাড়াও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও অভয়নগর উপজেলা শাখার সভাপতি মতিয়ার ফারাজী। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন আইয়ুবের ছেলে ফারহান সাজিদ। নেতাকর্মীরা বলছেন, কৌশল হিসেবে দল আসনটিতে দুজনকে বিকল্প প্রার্থী রেখেছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিএস আইয়ুব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঋণখেলাপি ছিলাম, আদালতের মাধ্যমে এখন নেই। তার পরও যদি ব্যাংক কোনও চিঠি দিয়ে থাকে, তাহলে বিস্তারিত ব্যাংক বলতে পারবে। আমি এখন ঋণখেলাপি নই।’

যশোরের রিটার্নিং অফিসারের কাছে ঢাকা ব্যাংকের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তালহা শাহরিয়ার আইয়ুব সাইমেক্স লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এমডি। প্রতিষ্ঠানটি নামে ঢাকা ব্যাংকের ধানমন্ডি মডেল শাখা থেকে তিনি ঋণ নিয়েছেন। ২০১৮ সাল থেকে তিনি ঋণখেলাপি, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি সার্কুলার অনুযায়ী একজন ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) রিপোর্টে তিনি একজন মন্দজনিত ঋণখেলাপি। 

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আইয়ুব তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে ঢাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন এবং বৈদেশিক রফতানি প্রক্রিয়া সংক্রান্ত দলিলাদি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেন। যে টাকা অনাদায়ী হিসেবেই আছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে দুদক তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের এবং অভিযোগপত্র দিয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা ব্যাংক ঋণের টাকা আদায়ের জন্য তার বিরুদ্ধে অর্থঋণ মামলা করলে আদালত ব্যাংকের পক্ষে রায় ও ডিক্রি দেন। পরবর্তীতে ব্যাংক অর্থজারী মোকদ্দমা দায়ের করে বর্তমানে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর্যায়ে আছে। ওই মামলা ছাড়াও ব্যাংক তার বিরুদ্ধে চেক ডিজ-অনার সংক্রান্ত সি আর মামলা করেছে। যা বর্তমানে শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। 

এ অবস্থায় ঋণখেলাপি ও সিআইবি রিপোর্টে তালিকাভুক্ত আইয়ুবের প্রার্থিতা গ্রহণ না করাসহ যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে ব্যাংকটি। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টিএস আইয়ুব সরকারি-বেসরকারি খাতের অন্তত চার ব্যাংকে ১৩৮ কোটি টাকার ঋণখেলাপি। ঢাকা ব্যাংকের ধানমন্ডি মডেল শাখা থেকে সাইমেক্স লেদার প্রোডাক্টের নামে ২০১৭ সালে ১৪টি ভুয়া এলসির বিপরীতে ২১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি আত্মসাৎ করেন। ২০১৯ সালে এ বিষয়ে মামলা করে ব্যাংক। সুদসহ বর্তমানে তার কাছে ব্যাংকটির পাওনা দাঁড়িয়েছে ৪৫ কোটি টাকা। সর্বশেষ গত বছরের এপ্রিলে আইয়ুব ও তার স্ত্রী তানিয়া রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত। সরকার পতনের পর কারামুক্ত হন। তাকে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকে রিপোর্ট করেছে ঢাকা ব্যাংক। 

এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, ‘টিএস আইয়ুবের বিরুদ্ধে ঢাকা ব্যাংক থেকে চিঠি এসেছে। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইকালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’